Saturday, 16 December 2017

 

ব্রয়লার শেড পরিস্কারকরণ (ক্লিনিং)

কৃষিবিদ রুহুল আমিন মন্ডল:ব্রয়লার পালনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মুরগী বিক্রি করার পর পোলট্রি শেড ক্লিনিং করা। উত্তমরূপে সেড ক্লিনিং এর মাধ্যমেই যে কোন ব্যাকটেরিয়াল, ভাইরাল, ফাংগাল এবং প্রোটোজোয়াল রোগসমূহ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

রোগ প্রতিরোধ করার জন্য জানা থাকা দরকার যে কোন রোগের জীবানু কতক্ষণ বেঁচে থাকে।নিম্নে তার একটি তালিকা দেয়া হল:

ক্রঃ নং রোগের নাম কতক্ষণ বেঁচে থাকে
১. এভিয়ান ইনফ্লুয়েনজা দিন থেকে মাস পর্যন্ত
২. গামব্রো মাস
৩. কক্সিডিওসিস মাস
৪. কলেরা সপ্তাহ
৫. করাইজা ঘন্টা থেকে দিন
৬. মারেক্স মাস থেকে বছর
৭. রাণীক্ষেত দিন থেকে মাস
৮. মাইকোপ্লাজসা ঘন্টা থেকে দিন
৯. সালমোনেলা সপ্তাহ

সুত্রঃ FAO

কিভাবে জীবানু মারা যেতে পারে ?
ডিটারজেন্ট / সাবান, ডিসইনফেকটেন্ট, গরম তাপ (অগ্নিশিখা বা বাস্প), সূর্য রশ্মি

প্লানিংঃ সফলভাবে ক্লিনিং করার জন্য প্লানিং খুবই জরুরী। কারণ যদি পূর্বে ফ্লকে কোন রোগের প্রাদুর্ভাব হয়ে থাকে তবে উপরের জীবানু বেচেঁ থাকার তালিকা অনুযায়ী শেডে মুরগী উঠানো বিরতি দিতে হবে। তার পর নতুন ফ্লক উঠাতে হবে। মনে রাখতে হবে উত্তম রুপে ক্লিনিংই পারে ৮০ ভাগ জীবানু মেরে ফেলতে।

ক্লিনিং কার্য পদ্ধতিঃ
ব্রয়লার শেড ক্লিনিং এর ধাপ সমূহ:
ক) স্প্রেঃ প্রথমত:মুরগী বিক্রি হওয়ার পর সমস্ত ফিডার, ড্রিংকার প্রথমে ম্যালাথিয়ন বা সেভিন ১০ মিলি/লিটার পানিতে রাখার পর পর্দা তুলে দিয়ে স্প্রে করতে হবে যাতে সেডের ভিতরে যত পোকা বা বিটল আছে সব মরে যায়। কারণ এগুলো যদি বেঁচে থাকে তবে পরবর্তী ফ্লকে জীবানু নিয়ে যাবে। দ্বিতীয়তঃ ১০% ফরমালিন দিয়ে অর্থাৎ ফরমালিন ৪০% এ থাকে তাকে ১ লিটার ফরমালিনে ৪ লিটার পানি দিয়ে সম্পূর্ন ঘর স্প্রে করতে হবে।

খ)যন্ত্রপাতি সরানোঃ ফরমালিন স্প্রে করার কমপক্ষে ১২ ঘন্টা পর শেডের ভিতরের ফিডার, ড্রিংকার বের করে ফেলতে হবে।

গ)লিটার সরানোঃ বস্তায় ভরে লিটার সরিয়ে ফেলতে হবে। যা বিক্রি করা যাবে অথবা সবজি ক্ষেতে সার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ঘ) ডাস্ট সরানোঃফ্লোরে নারিকেলের ঝাড়ু, প্লাস্টিক ব্রাশ দিয়ে ধূলিকনা, মাটি, মুরগীর পাখনা, পায়খানা, রক্ত অথবা যদি অন্য কিছুু থাকে সব ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

ঙ) ওয়াসিংঃ-ঘরে পানি ব্যবহার করার পূর্বে নিশ্চিত হতে হবে যে ইলেকট্রিক মেইন সুইস অফ করা হয়েছে।

  • ঘরের মেঝে, পানি ও ডিটারজেন্ট পাউডার দ্বারা ভালভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • তারপর কস্টিক সোডা ১.২৫ কেজি প্রতি ১০০০ বর্গফুট ফ্লোরে দিয়ে ২৪ ঘন্টা পানি দ্বারা ভিজিয়ে রাখতে হবে।
  • ২৪ ঘন্টা পর কস্টিক সোডার পানি বের করে দিয়ে পরিস্কার পানি দিয়ে ফ্লোর ভালভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • হাই প্রেসার মেশিন দিয়ে সিলিং, পার্শ্ব পর্দা ভাল ভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • ফিডার, ড্রিংকার সমূহ ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি ১ লিটার পানিতে ১০ গ্রাম দিয়ে কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা ডুবিয়ে রাখতে হবে।
  • তারপর ভাল ভাবে পরিস্কার করতে হবে।
  • ফিডার, ড্রিংকার সমূহ সূর্য রশ্মিতে ভাল ভাবে শুকাতে হবে।

চ) শেড পোড়ানোঃ পূর্বে যদি রোগের প্রার্দুভাব বেশী থাকে তাহলে ফ্লেমগান বা আগুন দিয়ে সতর্কতার সাথে সেড পোড়ানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ছ) হোয়াইট ওয়াসঃ চুনের সাথে নিম্নলিখিত জিনিস সমূহ ভালভাবে মিশ্রিত করে ফ্লোর, সাইট ওয়াল ভালভাবে চুনকাম বা হোয়াইট ওয়াস করতে হবে।

  • কোরেসিনঃ ১০ মিলি/লিটার পানিতে
  • ম্যালাথিয়নঃ ৫ মিলি/লিটার  পানিতে
  • ফরমালিনঃ ১০ মিলি/লিটার  পানিতে
  • ডিসইনফেকটেন্টঃ ১০ মিলি/লিটার পানিতে
  • তুতঃ ১০ গ্রাম/লিটার পানিতে

জ) লিটার ঢোকানোঃ লিটার শেডে ঢুকানোর পূর্বেই ম্যালাথিয়ন ও ফরমালিন স্প্রে করে পরিষ্কার শেডে ঢুকাতে হবে।

ঝ) ফিউমিগেশনঃ শেড বা ঘর পরিষ্কারকরণের সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে ফিউমিগেশন করা।ফিউমিগেশন এর জন্য প্রথমে জানা থাকা প্রয়োজন ঘরের আয়তন।

ঘরের আয়তন=দৈর্ঘ×প্রস্থ×উচ্চতা

(বিঃ দ্রঃ Single Strength ফিউমিগেশন এর জন্য ৪০ মিলি ফরমালিন এবং ২০ গ্রাম পটাশ ১০০ ঘন ফুট শেডের জন্য লাগবে, Double Strength ফিউমিগেশন এর জন্য ৮০ মিলি ফরমালিন এবং ৪০ গ্রাম পটাশ ১০০ ঘন ফুট শেডের জন্য লাগবে, Triple Strength ফিউমিগেশন এর জন্য ১২০ মিলি ফরমালিন এবং ৬০ গ্রাম পটাশ ১০০ ঘন ফুট শেডের জন্য লাগবে।)

ফিউমিউগেশন এর পূর্বে রোগের প্রার্দুভাব অনুযায়ী ঠিক করতে হবে যে শেডে কি Double or Triple Strength-এ ফিউমিগেশন করব। সাধারণত আমরা Double Strength-এ ফিউমিগেশন করে থাকি।

উদাহরণঃ ঘরের দৈর্ঘ্য ৬০ ফুট, প্রস্থ ২৫ ফুট, উচ্চতা ১২ ফুট এর ফিউমিগেশন এর জন্য কতটুকু পটাশ ও ফরমালিন লাগবে?
আয়তন=৬০×২৫×১২= ১৮০০০ ঘনফুট
১০০ ঘনফুট এর জন্য পটাশ লাগবে=৪০ গ্রাম
১    "    "  "   "    "  = (৪০÷১০০) গ্রাম
১৮০০০ "   "  "   "    "  =(৪০÷১০০×১৮০০০)=৭২০০ গ্রাম=৭.২ কেজি পটাশ=১৪.৪ লিটার ফরমালিন। (Double Strength-ফিউমিগেশনের ক্ষেত্রে যতটুকু পটাশ লাগবে তার দ্বিগুন পরিমাণ ফরমালিন প্রয়োজন হবে)
সতর্কতাঃফিউমিগেশন এর জন মাটির পাত্র ব্যবহার করতে হবে; কখনও ফরমালিন এর মধ্যে পটাশ ঢালা যাবে না, অবশ্যই পটাশ এর মধ্যে ফরমালিন ঢালতে হবে।

ঞ) সেডের আশপাশ পরিস্কার করণঃ সেডের চারপাশের কমপক্ষে ১০ ফুট পরিমাণ জায়গা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোন ক্রমেই কোন সবজি, গাছ থাকা যাবে না।
====================
লেখক পরিচিতিঃ -
সিনিয়র ফার্ম ম্যানেজার,
নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী লিঃ।
ইমেইল:
মোবাইলঃ ০১৯১৯-৮৪১৮৭৩।