Monday, 18 December 2017

 

হৃদয়ের মনিকোঠায় আজীবন বেঁচে থাকবেন হাওর ভূমিপুত্র কৃষি সাংবাদিক ড. নিয়াজ পাশা

কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু, সহকারী পরিচালক, জনসংযোগ ও প্রকাশনা, বাকৃবি:সকলকে শোকসাগরে ভাসিয়ে দিয়ে একরকম নীরবেই চলে গেলেন সবার প্রিয় অতি আপন বিশিষ্ট কৃষি প্রকৌশলী, কৃষি সাংবাদিক, গবেষক ও লেখক ড.নিয়াজউদ্দিন পাশা। চলে গেলেন না ফেরার দেশে (ইন্নলিল্লাহে ওইন্না ইলাইহে রজেউন)। এক বর্ণাঢ্য কর্মময় অধ্যায়ের (১৯৬৫-২০১৭) অবসান হলো।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে গত ১০ জানুয়ারি ২০১৭ রাত ১২:১৫ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে থাকা চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ড. নিয়াজউদ্দিন পাশা চলে গেলেও রেখে গেছেন অসংখ্য গুণগ্রাহী, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী ও শুাভানুধ্যায়ী, যাদের হৃদয়ের মনিকোঠায় তিনি বেঁচে থাকবেন আজীবন। মো. নিয়াজ উদ্দিন দেশের অবহেলিত হাওরাঞ্চল কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার লাইমপাশা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন  আজ থেকে ৫২ বছর পূর্বে ১৯৬৫ সালে।

মেধাবী ছাত্র হিসেবে ইটনা থানা থেকে প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক এ ভর্তি হয়ে ছিলেন কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এ। তারপর কৃতিত্বেরসাথে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে উচ্চ শিক্ষার্থে কিশোরগঞ্জের মায়া ত্যাগ করে চলে আসেন ময়মনসিংহে। তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে ১৯৮৪-৮৫ সেশনে ভর্তি হন এ দেশের কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরী অনুষদে’। আবাসিক হল হিসেবে বেছে নিলেন ফজলুল হক হল,থাকতেন ১২১ নং কক্ষে। সর্বদা সদালাপি ও পরোপকারি, সামজিকতায় অনন্যগুন সম্পন্ন হওয়ায় তিনি নিজ হলে ও পরবর্তীতে পুরো ক্যাম্পাসে ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতেই তিনি জড়িয়ে যান লেখালেখিতে।বলতে গেলে তৎকালিন কৃষি সাংবাদিকতা শুরুটা হয় তার হাত দিয়েই। তিনি কাজ শুরু করেন দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায়। মজার ব্যাপার হলো মাওলানা আবদুল মান্নানের পত্রিকার সাংবাদিক হলেও তিনি ছিলেন পুরোমাত্রায় মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের একজন সাহসী কর্মী, ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ও পরে নেতা। তুখোর জনপ্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি ছাত্রলীগের মনোনয়ন পেয়ে বাকসু (১৯৮৯-৯০) এর ফজলূল হক ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। শত ব্যস্ততার মাঝে নিয়াজ পাশা কৃষি সাংবাদিকতায় পুরোমাত্রায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। চেষ্টা করেছেন সাংবাদিকতাকে জীবনের পেশা হিসাবে গ্রহণ করতে। বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দক্ষতারসাথে পালন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নানামুখি কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িয়ে রাখলেও কখনও ভুলেননি নিজ এলাকা হাওরের কথা। হাওরের প্রতি ছিল তার অসম্ভব ভালোবাসা, প্রবল টান ও অনুভূতি। তাইতো সে অনুভূতির বহিপ্রকাশ হচ্ছে নিজের নাম মো. নিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে তার নিজ গ্রামের নাম ‘লাইমপাশা’ নামের শেষাংশ জুড়ে দিয়ে তিনি পরিচিত হতে থাকেন নিয়াজ উদ্দিন পাশা নামে। পরে নিয়াজ পাশা এবং অনুজদের ‘পাশা ভাই’ এবং অগ্রজদের ‘পাশা’ নামেই বেশি পরিচিত লাভ করেছিলেন। আমি তাকে ডাকতাম ‘পাশা ভাই’ বলে। তাঁর রচিত ভিন্ন ধারার কৃষি সাংবাদিকতায় তারই অনুপ্রেরণায় আমিও যুক্ত হয়েছিলাম। মিশেছিলাম খুবই নিবিড়ভাবে। শিখেছি ও জেনেছি অনেক কিছু যা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। যার ফলাফল আজও আমি ভোগ করছি আমার বর্তমান কর্মক্ষেত্রে। সে জন্য আমি পাশা ভাইএর নিকট আজও ঋণী।

নিয়াজ পাশা কৃতিত্বের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও মাষ্টার্স ডিগ্রী অর্জন শেষে একজন কৃষি প্রকৌশলী হয়েও প্রাণের টানে, লেখা লেখির প্রতি অসম্ভব টানবোধ থেকেই চেষ্টা করতে থাকেন সাংবাদিকতাকে, ফ্রিল্যান্স লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে। এ কারণে অন্য জায়গায় চাকুরীর সুযোগ থাকলেও সে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) ট্রেনিং, কমিউনিকেশন এন্ড পাবলিকেশন বিভাগে‘ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ’হিসেবে ১৯৯৪ সালে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। পাশাপাশি চালিয়ে যান ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা।

প্রতিদিন বিভিন্ন দৈনিক, পাক্ষিক. মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকল তার নানা প্রবন্ধ, কৃষির নানাবিধ সমস্যা ও সম্ভাবনার সংবাদ ইত্যাদি। তার কাছ থেকে ক্যাম্পাসের নবীন সাংবাদিকরা অনুপ্রাণিত হতো। এক পর্যায়ে এ মেধাবী কৃষি প্রকৌশলী সরকারি বৃত্তি নিয়ে ২০০২ সালের ১৫ তারিখে ডিসেম্বর চলে যান উচ্চ শিক্ষার্থে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়া হতে উচ্চতর পিএইচ-ডি ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে ২০০৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বরে আবার বিনা’য় যোগদান করেন। তিনি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পরেও তিনি কৃষি সাংবাদিকতা ও লেখালেখিতে আরো বেশি মনোনিবেশ করেন। লেখালেখির অবারিত সুযোগ বিনায় ছিল না। এক রকম অসন্তুষ্টি নিয়েই সে পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ১৫ এপ্রিল তারিখে ঢাকায় সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারে সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার হিসেবে নতুন করে কর্মজীবন শুরু করেন। এরই মধ্যে ড.নিয়াজ পাশার লেখার সংখ্যা কয়েকশ থেকে হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

হওরের কৃষি ও কৃষকের দুঃখ দুর্দশার কথা অনবরত লিখতে থাকলেন তিনি পত্রিকার পাতায় ও অন লাইনে। তার লেখা কৃষি ও কৃষকের নানাবিধ সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে রচিত লেখা কখনও কখনও মহামান্য রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে দেশের মন্ত্রী-আমলাদের নজড় কাড়তে শুরু করলো। সবই সঠিকভাবে চলছিল। হঠাৎই নানাবিধ জটিল রোগ নিয়াজ পাশাকে চার দিক দিয়ে আটকে ফেললো। স্থবির হয়ে গেল তার স্বাভাবিক জীবন। পাল্টে গেল জীবনের সব হিসাব-নিকাশ। পায়ে দেখা দিল গ্যাংরিন নামক পঁচন রোগ। কেটে ফেলতে হলো তার দুটি পা-ই। কিডনি বিকল হল, ডায়াবেটিস এর মাত্রা বেড়ে গেল মারাত্মকভাবে। হার্টে করতে হলো বাইপাস। সে যাত্রায় দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত তার শুাভানুধ্যায়ী কৃষিবিদগণ পাশার এ বিপদে এগিয়ে এসেছিল স্বত:স্ফুর্তভাবে। তখন প্রায় অর্ধ কোটি টাকার চিকিৎসা ব্যয় মিটিয়ে ছিল তার হাজারো ভক্তরা। ইতিমধ্যে আবারও ঝেঁকে বসেছিল তার শরীরে নানা জটিল থেকে জটিলতর রোগগুলো।

দুই পাহীন হুইল চেয়ারের ওপর ভর করেও তিনি ছিলেন লেখালেখিতে সব সময়ই সরব। সক্রিয় ছিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও যোগ দিয়েছেন দেশে বিদেশে প্রায় শতাধিক সভা সেমিনারে। নিয়াজ পাশাকে পৌছে দিতে তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী সহধর্মিণী ফারজানা আশা ভাবী হুইল চেয়ার টেনে সঙ্গ দিয়েছেন নিরলসভাবে অফিসসহ সকল প্রকার অনুষ্ঠানমালায়। তিনি তার প্রিয়তমা স্ত্রী উপর খুবই নির্ভরশীল ছিলেন। তিনিও পাশা ভাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

নিয়াজ পাশা অনেকবার মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব আবদুল হামিদ এর সাথে বঙ্গভবনে দেখা করেছেন। বেশীর ভাগ সময়ই হাওর অঞ্চল এবং কৃষি ও কৃষকের মঙ্গল কামনায়। মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মো. আবদুল হামিদেরও কাছেও তিনি ছিলেন খুবই স্নেহভাজন। অনগ্রসর হাওরের জন্য সারাক্ষণ চিন্তিত থাকতেন  তিনি। হাওরের কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। নিজে হুইল চেয়ার নিয়ে ঢাকাস্থ প্রেসক্লাবের রাস্তায় প্লেকার্ড বুকে জডিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেছেন হাওরবাসীর উন্নয়নের দাবীতে। কিভাবে পরিকল্পিতভাবে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন করা যায়। সে জন্য যেমন করে তিনি কলম চালিয়েছেন, আবার চালিয়েছেন প্রয়োজনীয় যোগাযোগ। এতে তিনি অনেক সফলতাও পেয়েছিলেন। তিনি নিজেকে একজন ‘হাওর ভূমিপুত্র’ হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করতেন। নিজের নামের শেষে লিখতেন ‘হাওর ভূমিপুত্র’। বর্তমানে গঠিত হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠনে তার অনেক অবদান রয়েছে।

নিয়াজ পাশা ২০১৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওর গবেষনা ইনস্টিটিউট খোলার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এর নিকট একটি চিঠি দেন। ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ স্নেহভাজন হওয়ার কারণে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ চিঠিটিকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেণ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরী কমিশনকে সম্ভাব্য করণীয় ঠিক করতে নির্দেশনা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরী কমিশন যাচাই বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। যার ফলে এ বিশ্বদ্যিালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে পূর্ণ অনুমোদন লাভ করায় আজ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওর ও চর গবেষণা ইনস্টিটিউট আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। নিয়াজ পাশা এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক তৎকালীন ভিসি স্যারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক,কর্মকর্তা ও ইউজিসি এর  সাথে এ বিষয়ে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখতেন। পাশা ভাই এর কষ্ট ও আক্ষেপ ছিল এ ইনস্টিটিউটটিকে সে নিজে দেখে যেতে না পারা। আশা করি বাকৃবি কর্তৃপক্ষ নিয়াজ পাশার এ কর্মের সঠিক  মূল্যায়ন করবে।

আগেরবার পা কেটে রক্ষা পেলেও, এবার আর শেষ রক্ষা হলো না। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে একটি ম্যাসিভ ব্রেইন স্ট্রোকের মাধ্যমে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। প্রথমে বারডেম ও পরে ধানমন্ডির একটি ক্লিনিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে বুধবার দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ ৬ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে পাশা ভাইকে দেখতে গেলে এক সময়য়ের সরব সাহসী কলমযোদ্ধা নিয়াজ পাশার নিশ্চুপ দেহ পাহারা দিচ্ছেন তার প্রিয়তমা স্ত্রী ফারজানা আশা ভাবী। সে দিন ভাবী শুধু এটুকু বলেছেন “ভাই দোয়া চাই, আপনাদের পাশা ভাইয়ের জন্য, আপনার কাছে ও আপনার মাধ্যমে সকলের কাছে”।

ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার পর থেকে কোনো কথা বলতে পারেননি দেশের বিশিষ্ট এই কৃষিবিদ। বামপাশ অবশ হওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ সংজ্ঞাহীন থেকে ১০ জানুয়ারি ২০১৭ প্রথম প্রহরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ড. নিয়াজ পাশার মরদেহ নেওয়া হয় রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিতপাড়ার বাসায়। সেখানে মঙ্গলবার বাদ ফজর তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লাশবাহী এম্বুলেন্সে ড. পাশার মরদেহ আনা হয় তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ফার্মেগেটের সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) চত্বরে সহকর্মী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কৃষিবিদরা তাকে শেষবারের মত দেখার সুযোগ পান। পরে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে বিএআরসি চত্বরে ড. নিয়াজ পাশার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পূর্বে তাঁর একমাত্র ছেলে ফাহিম বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চান। জানাজায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সদ্য সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আযাদ, সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ওয়ায়েস কবীর, সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার, ঢাকা এর পরিচালক ড. শেখ মো. বখতিয়ার, কটন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. ফরিদ উদ্দিন, বহুমাত্রিক.কম এর প্রধান সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সহ বিএআরসি, খামারবাড়ী ও সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের বিজ্ঞানী,কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

ড.নিয়াজ পাশার এ অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলী আকবর  এবং তার হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। ১০ জানুয়ারি সকাল পৌনে ১০টায় ড. নিয়াজ পাশার মরদেহবাহী গাড়িবহর কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে বিএআরসি চত্ত্বর ত্যাগ করে। পরে ইটনার লাইমপাশা গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয় তাঁকে। ।

ড. নিয়াজ পাশা আজ আর আমাদের মাঝে নেই। মৃত্যুকালে তিনি প্রিয়তমা স্ত্রী, স্নেহের ১ পুত্র ও ১ কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো পিছিয়ে পড়া হাওরাঞ্চলসহ সারা  দেশের কৃষিতে অরো অনেক অবদান রাখতে পারতেন। জীবনকালে তিনি অনেকের অফুরাণ ভালোবাসা পেয়েছেন। ২০১৫ সালে তার সৌজন্যে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি আয়োজন করেছিল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। সর্বশেষ সম্মিলিত নাগরিক ফোরাম, কিশোরগঞ্জ কৃষিতে বিশেষ অবদানের জন্য ড.নিয়াজ পাশাকে ‘জোতির্ময় কিশোরগঞ্জ পদক-২০১৬’ প্রদান করেছে। আজকের বেদনাবিধুর দিনে নিয়াজ পাশার জন্য রইল গভীর শ্রদ্ধা। ড.নিয়াজ পাশা যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মের মাধ্যমে সকলের মাঝে।
===============================
কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু
সহকারী পরিচালক, জনসংযোগ ও প্রকাশনা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
মোবাইল: ০১৭১২১৯৮৯২৯