Tuesday, 21 November 2017

 

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও নিরাপত্তায় নারী

তারানা পিয়া:আজ বিশ্ব নারী দিবস। নারী ও কৃষি দুইটি বিষয়ই একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঐতিহাসিক কাল ধরেই পৃথিবীব্যাপী কৃষির সাথে নারীরা কাজ করে যাচ্ছে। শুধু প্রাচীন কাল থেকে নয় আধুনিক কৃষিতেও নারীরা ব্যাপক ভুমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের জনসংখ্যায় নারী এক বিশাল জায়গা ধরে রেখেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা ও প্রচারে নারীতে কৃষির ভুমিকা আজ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। আবার পৃথিবীর অনেক দেশে নারীরা কৃষির অনেক জায়গায় তাদের উজ্জলতা  দেখিয়ে যাচ্ছেন। কৃষিতে নারীদেরকে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন নীতিতে কৃষিতে ব্যাপক সুবিধা ও অগ্রাধিকার থাকলেও তা কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ। অথচ কৃষি প্রধান অর্থনীতিতে খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষিতে নারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নারীর শ্রম ও অংশগ্রহণ যেখানে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত সেখানে জাতীয় অর্থনীতিতে নারী-কৃষি শ্রমিকের শ্রমের স্বীকৃতিতে বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহনের বাস্তবায়ন না করা অত্তান্ত দুঃখজনক।
 
নারীর কৃষির অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়নের সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ, বাজারজাতকরণ ও উৎপাদনশীল সম্পত্তিতে নারীর প্রবেশাধিকার প্রায় নাই বললেই চলে যা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবী। এই ভিশন কে সামনে রেখে কৃষি আধুনিক প্রযুক্তির উপর প্রশিক্ষণ, বাজার ব্যবস্থাপনা, কৃষি পণ্য উৎপাদন কৌশল, উৎপাদন উপকরণের উৎস ইত্যাদি তথ্যাদি সরবরাহের মাধ্যমে নারীকে সহায়তায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহন সুনিশ্চিত করা যাতে করে নারী কর্মী তৈরিতে ব্যাপক ভুমিকা পালন করবে।
 
নারীর কৃষি প্রজুক্তিতে সরাসরি অংশগ্রহন ইদানিং বেশ সাড়া জাগিয়েছে যা আমাদের কৃষির নতুন বিপ্লব এনে দিয়েছে। এই অর্থে কৃষির গবেষণায় পুরো পৃথিবীতে একটি বড় অংশ দখল করে আছে আমাদের নারী সমাজ। দিন দিন নারীদের দ্বারাই এই প্রযুক্তি আরও উন্নয়ন লাভ করে আমাদের দেশের মত জনসংখ্যা বহুল একটি দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে।  
------------------------------------
তারানা পিয়া
ইমোইল: