Saturday, 23 September 2017

 

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রফেসর ড. এস. এম. বুলবুল:বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন মানে বাংলাদেশের জন্মদিন। আমি তাঁর আত্মার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর জন্ম। তাঁর জন্ম না হলে আদৌ বাংলাদেশ হতো কিনা আমার সন্দেহ।

বাঙ্গালির ইতিহাসের এক অনন্য অসাধারণ ব্যক্তিত্ব শেখ মুজিবুর রহমান। বলা হয়ে থাকে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী। বাংলা ভাষাভাষীর ইতিহাসে আমরা হয়ত অসাধারণ ব্যক্তিত্ব পেতে পারি কিন্তু কেউ কি পারবেন বাংলা ভাষাভাষীর জন্য একটি নিজস্ব আবাসভূমি গঠনে এবং বাঙালি জাতিসত্ত্বার জন্য স্বাধীন বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেওয়ার প্রশ্নে এত ত্যাগ স্বীকার করতে।

১৯৭৬ সনের ১৫ই আগস্ট প্রবাসী বাঙালিরা বৃটেনে তাঁর মৃত্যু দিবস উদযাপন করতে গিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন অনেক নোবেল লোরিয়েট, ইতিহাসবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে। তাঁরা তাঁদের বক্তৃতায় বলেছেন তিনি শুধুই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই নন তিনি একটি আদর্শ। তিনি বাঙালি জাতির একচ্ছত্র নেতা। বাংলাদেশে ঐ সময় আরও নেতা ছিলেন যেমন আছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং মাওলানা ভাসানী। কিন্তু তাঁদের ভাষায় তাঁরা হলেন খন্ডকালীন ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু রচনা করেছেন পূর্ণ ইতিহাস। তাঁদের ভাষায় তিনিই বাংলাদেশের স্রষ্টা। তাঁকে তাঁরা তুলনা করেছেন মহাত্মা গান্ধী, নেহেরু, সুকর্ণ, নাসের ও মাও সেতুং এর সঙ্গে।

আমরা যারা বলি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বা অনুসারী তাঁদের আজ আত্মজিজ্ঞাসার সময় এসেছে যে আমরা কি সত্যি সত্যি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক? অনেক সময় আমাদের কাজে কর্মে সেটি প্রমাণ হয় না। কাজেই আজকের দিনে আমাদের শপথ হওয়া উচিৎ তাঁর আদর্শে বলীয়ান হয়ে তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করা। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে সুসংহত করা। তাঁর হাতেই গড়ে উঠবে সোনার বাংলা। আমি একটি গানের দুইটি লাইন দিয়ে আমার লেখা শেষ করতে চাই-

“যদি রাত পোহালে খবর হতো বঙ্গবন্ধু মরে নাই
বিশ্ব পেত এক মহান নেতা আমরা পেতাম জাতির পিতা”
--------------------------------------------------------------
লেখক বাকৃবির সাবেক ভারপ্রাপ্ত ভিসি, সাবেক কো-অর্ডিনেটর,সাবেক ডীন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।