Thursday, 14 December 2017

 

ভ্রুণ থেকে ভেড়ার বাচ্চা উৎপাদনে সফালতা-জন্ম নিয়েছে উৎস ও আশা

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি:ভেড়ার ভ্রুণ উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং হিমায়িত ভ্রুণ প্রতিস্থাপন ও বাচ্চা উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের গবেষকরা। এ ধরনের কাজ বাংলাদেশে প্রথম হয়েছে বলে দাবি করছেন গবেষকরা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন যাবৎ কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থার প্রচলন থাকলেও নানা কারণে গবাদিপশু গর্ভধারণের হার এখন পর্যন্ত আশানুরূপ ছিল না। কম সময়ে উচ্চগুণ সম্পন্ন অধিক সংখ্যক গবাদি পশুর বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. নাছরিন সুলতানা জুয়েনা এবং প্রকল্পের সহকারী পরিচালক ড. ফরিদা ইয়াসমীন বারী গবেষণা শুরু করেন। তাদের এ কাজে সহযোগিতা করেছেন তিন জন পিএইচডি গবেষক ও  কয়েকজন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী।

১১টি ভেড়ীতে ২২টি হিমায়িত ভ্রুণ এবং ৪টি গাভীতে ৮টি হিমায়িত ভ্রুণ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘ আড়াই বছরের গবেষণার পর গত মঙ্গলবার (০২ মে) রাতে হিমায়িত ভ্রুণ প্রতিস্থাপিত ১১টি ভেড়ীর মধ্যে একটি ভেড়ার দুটি সুস্থ শাবক জন্ম নিয়েছে। বাচ্চা দুটির নাম দেয়া হয়েছে বাউভি আশা ও বাউভি উৎস। ভ্রুণ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ভেড়ার বাচ্চা উৎপাদনের ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম।

কম সময়ে উচ্চ গুণসম্পন্ন অধিক সংখ্যক গবাদি প্রাণির বাচ্চা উৎপাদনের জন্য ২০১৪ সালে বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের হেকেপ প্রজেক্টের মাধ্যমে এই গবেষণা শুরু হয়। প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. নাছরীন সুলতানা জুয়েনা বলেন, সাধারণ নিয়মে প্রতিটি ভেড়ী বছরে সর্বোচ্চ ৪টি এবং গাভী বছরে ১টির মতো বাচ্চা প্রসব করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় একটি নির্বাচিত উন্নত জাতের ভেড়ী ও গাভী থেকে সুপার ওভুলেশনের মাধ্যমে বছরে ২৫ থেকে ৩০টি উচ্চ গুণসম্পন্ন ভ্রুণ উৎপাদন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে প্রথমবারেই ভ্রুণ প্রতিস্থাপন করে সাধারণ জাতের ভেড়ী ও গাভী হতে উন্নত জাতের শাবক ও বাছুর উৎপাদন করা যেতে পারে। এতে করে একজন খামারী অতি অল্পসময়ে গবাদিপ্রাণির জাত উন্নয়ন করতে পারবেন।
 
প্রকল্পের ডেপুটি প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন বারী বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো এখানে গবাদিপ্রাণির ভ্রুণ সংরক্ষণ ও প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা প্রয়োজনমতো ভ্রুণ সংগ্রহ করে তা প্রতিস্থাপন করে গবাদি প্রাণির মানসম্মত প্রজনন নিশ্চিত করতে পারবেন। এছাড়াও বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগে স্থায়ী সিমেন ও ভ্রুণব্যাংক তৈরী করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রকল্পের পিএইচডি ফেলো মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, উদ্ভাবিত হিমায়িত ভ্রুণ স্থানান্তর প্রযুক্তি গবাদি প্রাণির খামারে প্রয়োগের মাধ্যমে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখা সম্ভব হবে।