Friday, 15 December 2017

 

নতুন নতুন স্থানীয় বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে খামারীদের ডিমের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি সম্ভব-সামিউল আলীম

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:দেশের পোল্ট্রি শিল্পে জড়িত প্রান্তিক পর্যায়ের খামারীরা বৎসরের অধিকাংশ সময়েই ডিমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। এতে প্রতিনিয়তই প্রান্তিক পর্যায়ের খামারী থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের ফিড/মেডিসিন ডিলার সেই সাথে কোম্পানি তথা শিল্পের সাথে জড়িত সকলেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ডিমের দরপতন অতীতের যে কোন সময়ের তীব্রতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে দেশে যখন কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অন্য কোন ইস্যু নেই। তবে কেন এই দরপতন?

বিষয়টা নিয়ে বাক্তি থেকে সংগঠন সকলেই বেশ সোচ্চার হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতির লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা। পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট সকলেই এক ধরনের অস্বস্থিতিতে রয়েছেন বলে মনে করেন দীর্ঘ দিনের জড়িত সেক্টরের অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে সোচ্চার অনেকেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়কে ডিম ভেঙ্গে করা হচ্ছে প্রতিবাদ। মানব বন্ধন থেকে সংবাদ সম্মেলন করছেন প্রান্তিক পর্যায়ের খামারী, ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা। ইতিমধ্যে অনেক খামারী পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

দেশের ১৬-১৭ কোটি জনসংখ্যার প্রানিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস ডিম উৎপাদনের কারিগররা কি সব সময়ই এরকম অবস্থার মধ্যে জীবন পার করবেন এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে। এটি সত্য যে আমাদের দেশে ডিম গ্রহনের হার পূর্বের তুৃলনায় বেড়েছে এবং আগামীতে আরো বাড়বে। কারন স্বল্পমূল্যে প্রানিজ প্রোটিনের এমন সুন্দর উৎস দ্বিতীয়টি আর নাই। তবে প্রান্তিক পর্যায়ে গড়ে ওঠা খামারীদের ডিমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হলে তারা বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়বে যার প্রভাব পড়বে গ্রামীন অর্থনীতিতে আর সামাজিকভাবেও ঘটবে বিপর্যয়।

খামারীদের ডিমের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে দেশের পোল্ট্রি শিল্পের জড়িত কল্যাণমুখী সংগঠনগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি এ শিল্পে জড়িত পোল্ট্রি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ফিড/হ্যাচারী/এ্যানিমেল হেলথ্ কোম্পানি গুলোকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে অনেক কিছু করার আছে বলে মনে করেন নারিশ পোল্ট্রির জেনারেল ম্যানেজার (সেলস্ এন্ড মার্কেটিং) জনাব সামিউল আলীম। এ বিষয়ে এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমের সাথে কথা হয় মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও খামারীদের নিকট অত্যন্ত পরিচিত মুখ সামিউল বলেন স্থানীয় পর্যায়ে ডিমের চাহিদা তৈরির মাধ্যমে নতুন নতুন স্থানীয় বাজার তৈরী করে ডিমের ভোগ বাড়ানো গেলে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব।

দেশের মফস্বল শহর এবং উপজেলা পর্যায়ের হাট বাজারের ফিড/মেডিসিন সেলস্ সেন্টারগুলিকে কেন্দ্র করেই স্থানীয় বাজার তৈরী করা অসম্ভব কিছু নয়। বাস্তব অভিজ্ঞাতর আলোকে সামিউল বলেন ফিড বা মেডিসিন ব্যবসায়ীদের কাছে খামারী বা অন্য কোন অতিথি এলে প্রথমেই তারা চা/বিস্কুট/কোমল পানীয় দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকেন। আর এ জায়গাটি থেকেই সংশ্লিষ্ট সকলের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ফিড/চিক্স্ ডিলার/মেডিসিন ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান আগত অতিথিদের সিদ্ধ ডিম আপ্যায়নের মাধ্যমে একটি নতুন একটি স্থানীয় বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব।

শহর কিংবা গ্রাম সর্বক্ষেত্রেই প্রতিটা মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে জনাব সামিউল আরো বলেন দেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠী গ্রাম কেন্দ্রিক কাজেই তাদের পুষ্টি নিরাপত্তা সর্বাঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান নারিশ থেকে তারা এধরনের উদ্যােগ নিয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই এ কার্যক্রম শুরু করেছেন। তারা তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের এজেন্টদের এ সংক্রান্ত মেসেজ দিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের সম্মানিত এজেন্টরা এটি উপলব্ধি করে যথেষ্ট সাড়া দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

দেশের ফিড/হ্যাচারী/এ্যানিমেল হেলথ্ বা পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট ছোট বড় অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে কর্মরত কর্মকর্তা/ কর্মচারীর সংখ্যা নেহায়েৎ কম নয়। তাদের নাস্তার মেন্যুতে বর্তমানে এক কাপ চা বা বিস্কুট এসবের মুল্য বিবেচনায় একটি ডিমের মুল্য কত? আর তা যদি নিজেদের পুষ্টিতে বড় অবদান রাখে তবে সেটিকেই বেছে নেওয়া জরুরি। এখানেও একটি ডিমের বাজার তৈরী করা সম্ভব বিশেষ করে এসব প্রতিষ্ঠানে দুপুরের খাবারে ডিমের মেন্যু যোগ করলে একটি চাহিদা তৈরী হবে। এধরনের কার্যক্রম ছোট বড় পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান সকলকেই অত্যন্ত দৃড় প্রতিজ্ঞ নিয়ে ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে স্ব স্ব অবস্থান থেকে করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া এটির ধারাবাহিকতার উপর জোর দেন তিনি।

জনাব সামিউল আরো যোগ করে বলেন সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পোল্ট্রির বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে গ্রামীণ পর্যায়ে নিয়মিত সিদ্ধ ডিম বিতরনের কার্যক্রম চালাতে হবে। এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দুর্গতদের কথা উল্লেখ করেন তিনি। শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় মুনাফার প্রয়োজন রয়েছে কেন না এখানে উদ্যােক্তাদের রয়েছে বিশাল অংকের বিনিয়োগ। তাছাড়া ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয়ের পরিমাণও অনেক। নানা ঝুঁকির মধ্যে পোল্ট্রি শিল্পোদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। এসব দিক মাথায় রেখে অনেক পোল্ট্রি শিল্প প্রতিষ্ঠান কেবল ডিম/একদিন বয়সী বাচ্চা উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে ঝুঁকে পড়ে যার ফল হয় ঠিক আজকের মতো। তারা যদি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজ নিজ উদ্যোগে নতুন নতুন ডিমের মার্কেট তৈরীতে মনোনিবেশ করতেন তাহলে সকলেই ভালো থাকতেন বলে মনে করেন তিনি।

কাজেই এখন সময় এসেছে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেরi অন্যতম খাত এই পোলট্রি সেক্টরের জন্য সকলকেই এগিয়ে আসা। নতুন নতুন স্থানীয় বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে দ্রুতই এ অবস্থার উত্তরন সম্ভব। এ প্রসঙ্গে জনাব জনাব সামিউল আলীম দু:খ করে বলেন অনেক কোম্পানিই নতুন বাজার তৈরী না করে অন্যদের তৈরী মার্কেটে প্রবেশ করে আর এর ফল হয় ঠিক আজকের মতো!

দেশে পোলট্রি শিল্পে জড়িত অনেকের সাথে এ নিয়ে কথা হলে তাঁরা সকলেই জনাব সামিউল আলীমের নতুন নতুন স্থানীয় বাজার তৈরীর আইডিয়ার প্রশংসা করে বললেন এটি বর্তমান পেক্ষাপটে জরুরি। তারা আরো যোগ করে বলেন ডিম হলো সাড়া বছরেরই খাবার কাজেই প্রচারনা কেবল দিবস কেন্দ্রিক হলে চলবে না। এছাড়া ডিমের পুষ্টি সচেতনতা রাজধানী থেকে ছড়িয়ে দিতে হবে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। বর্তমানে অনেক পোল্ট্রি শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রান্তিক পর্যায়ে কিছু কিছু প্রচারনামুলক কাজ করে থাকেন যা অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক। তবে ধারাবাহিকতা ভাবে এগুলি করলে ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে বলে মনে করেন দীর্ঘ দিনের জড়িত সেক্টরের অনেকেই।

এছাড়া একদিন বয়সী বাচ্চা থেকে শুরু করে খাদ্য, ঔষধ, ভ্যাকসিনসহ পোলট্রি উৎপাদনের সকল উপকরণের মূল্য স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি এসব মনিটরিং এ কঠোর সরকারী নজরদারী জোরদারের উপর ভুক্তভোগীরা গুরুত্বারোপ করেন।