Friday, 15 December 2017

 

মাটি ছাড়া গ্রীষ্ম এবং শীতকালীন সবজি উৎপাদনে সফল ড. মোঃ জাহিদুর রহমান

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:দিন দিন মানুষ বৃদ্ধি পেলেও কৃষি জমি কমে যাচ্ছে চোখে পরার মত। এমনকি মাটির গুনাগুণও নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন মানব এবং প্রাকৃতিক কারণে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে দেখা যাচ্ছে নানাবিদ সমস্যা। এভাবে চলতে থাকলে হয়তবা কোন একদিন বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়তে পারে। কিন্তু এই সমস্যায় যেন বাংলাদেশের মানুষ না পরে তার জন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ জাহিদুর রহমান গবেষণা করে যাচ্ছেন মাটি ছাড়া সবজি উৎপাদনের এবং তিনি সফলও হয়েছেন এই বিষয়ে। আর মাটি ছাড়া ফসল উৎপাদনের এই পদ্ধতির নাম হচ্ছে হাড্রোপনিকস (Hydroponics)

 

ড. জাহিদুর রহমানের যাত্রা শুরু ২০০৯ সাল থেকে। জাপান থেকে এই বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা ((PhD ডিগ্রী) গ্রহণ করে দেশে এসে বাস-ইউ.এচ.ডি.এ. (BAS-USDA)- এর একটা প্রজেক্ট নিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর গবেষণা কাজ শুরু করেন। বর্তমানে বিভিন্ন জাতের গ্রীষ্মকালীন সবজি যেমনঃ টমেটো, বেগুন, ঝালমরিচ, মিষ্টিমরিচ (ক্যাপসিকাম), লেটুস, ঢেঁড়স সহ নানান সবজি তাঁর গ্রীনহাউস এবং ল্যাবে উৎপাদন করতে সফল হয়েছেন। এমনকি, যেসব সবজি গ্রীষ্মকালে উৎপাদন সম্ভবনা সেগুলো উৎপাদন করে নতুন প্রজন্মের জন্য একটা মাইল ফলক তৈরি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মোঃ জাহিদুর রহমানের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন “শুধু গ্রীষ্মকালীন সবজি না, তিনি শীতকালীন অনেক সবজিও তাঁর গ্রীনহাউস এবং ল্যাবে উৎপাদন করেছেন”। তিনি আরো বলেন, মাল্টিলেয়ার এবং ভাসমান পদ্ধতিতে কিভাবে অল্প জায়গায় অধিক ফলন পাওয়া যায় সেই বিষয় নিয়েও তিনি কাজ করছেন এবং সফলও হয়েছেন।

হাড্রোপনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করতে গাছের যে খাদ্য লাগে সেটাও তিনি আবিষ্কার করছেন এবং এটার নাম হচ্ছে রহমান ও ইনডেন (RAHMAN & INDEN)। তাঁর আবিষ্কৃত খাদ্যের দাম কম ও সহজলভ্য বলে তিনি জানান।

তিনি আশার বাণী শুনান যে, এই হাড্রোপনিক পদ্ধতিতে যদি হাওড় এলাকায় ফসল চাষ করা যায়, তাহলে ফসল ডুবে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এমনকি এই পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ কম কিন্তু উৎপাদিত সবজির দাম স্বাভাবিকভাবে উৎপাদিত সবজির চেয়ে অনেক বেশি।