Thursday, 14 December 2017

 

মজায় মজায় ইংরেজি শেখা

আবুল বাশার মিরাজ:বাংলা আমাদের প্রাণের ভাষা। শিশুকালে মা-বাবার মুখে মুখে শুনেই শিখে ফেলি এ ভাষা। প্রয়োজন পড়ে না কোন ব্যাকরণের। বরং ব্যাকরণই আমাদের ভাষাকে অনুসরণ করে। কিন্তু বিশ্বায়নের এ যুগে দ্বিতীয় আরেকটি ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আর সেটি হচ্ছে ইংরেজি।

 

বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সগুলোকে পড়ানো হয় ইংরেজি মাধ্যমে। কর্মজীবনেও এ ভাষার ব্যবহার শিখতে না পারলে পিছিয়ে পড়তে হয়। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিদেশে পড়তে গেলেও দরকার হয় এ ভাষা। তবে প্রচলিত পদ্ধতিতে এ ভাষাটা আত্মস্থ করাটা অনেকখানি কঠিন। অনেক চেষ্টার পরও ইংরেজি শিক্ষতে না পারারও শত শত নজির রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা বিভাগ নামে একটি বিভাগ আছে। এখানে রয়েছেন চারজন প্রথিতযশা শিক্ষক। এরা হলেন মুহম্মদ সাজেদুল আরিফীন, মরিয়ম জামিলা, মো. আরিফ খান পাঠান ও মো. জিয়াউল করিম। বিভাগটিতে ইংরেজি শেখার গতানুগতিক প্রচলিত ধারা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে স্বতফূর্তভাবে শেখানো হয় ইংরেজি। নামমাত্র কোর্স ফিতে ভর্তি হতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের যে কেউ। ২ মাসে মাত্র ২০টি ক্লাস করেই যে কেউই স্বতস্ফূর্তভাবে ইংরেজি বলতে সক্ষম হন তারা। প্রথমদিকের ৩-৪টি ক্লাস করেই ইংরেজিতে কথা বলার ভীতি দূর করেছেন শত শত শিক্ষার্থী। সম্প্রতি বিভাগটি ৭২তম ব্যাচের কোর্সটি শেষ হয়েছে। এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অনেক মজার ছলে কখন যে ইংরেজিতে কথা বলা শিখে গেলাম তা টেরই পায়নি।

এ ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিফ বলেন, আমি কোনদিন বাংলাতেই ডিবেট করিনি। এই আমি এখানে ইংরেজিতে ডিবেট করেছি। আশরাফুল আলম বলেন, আমাদের অনেকের ধারণা ইংরেজি শিখতে হলে প্রচুর ইংরেজি শব্দ জানতে হবে, এ ধারণাটি যে ভুল তা এ কোর্স না করলে জানতামই না। ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবে চাকুরির ইন্টারভিউ, কৌতুক, উপস্থিত বক্তিতা, কথোপকথন নানান বিষয়ে পারফর্ম করার মাধ্যমে আমাদের ইংরেজি বলার জড়তা কেটে গেছে।

মাহমুদুল বলেন, স্যার ম্যাডামদের আন্তরিকতা আর সহযোগিতা ইংরেজি বলার ব্যাপারটাকে মজাদার আর ভীষণ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সাদিয়া বলেন, আমরা ক্লাবে প্রচুর অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছি। বিভাগের শিক্ষকরা প্রাণবন্তভাবে আমাদের ইংরেজি শিখেয়েছেন। আমরা কিভাবে অন্যের সামনে কথা বলতে পারি বিভিন্ন ভাবে সেটি শিখিয়েছেন। ভয় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস তৈরি করার চেষ্টা করতেন।

ইনতিসার আওয়াল প্রিয় বলেন, প্রচলিত নিয়মে আমরা সবাই ব্যাকরণ মুখস্ত করে ইংরেজি কথা বলা শিখতে চাই, এতে অনেক বেশি সময় লাগে আর করতে হয় প্রচুর পরিশ্রম। কিন্তু এখানে প্রচলিত ধারা থেকে বের হয়ে মজার মাধ্যমে গান, কৌতুক করে শেখানো হয় বলে আমরা ১ থেকে দেড় মাসেই ইংরেজিতে ভালোভাবে কথা বলা শিখে যাই। এক্ষেত্রে তিনি বিভাগের শিক্ষকদের বন্ধুসুলভ আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ দেন।

তাসনিম শেষদিন নিজের অনূভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন এত কম সময়ে ইংরেজি বলতে পারবো তা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। সত্যি আমি না, আমরা ব্যাচের সবাই ইংরেজি বলতে পেরেছি। ইংরেজি শেখার বিষয়ে বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ সাজেদুল আরেফীন বলেন, ইংরেজিতে কথা বলায় যারা দক্ষ তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে থাকেন। আমরা ছাত্রদের বিভিন্ন মজার কৌশলে ইংরেজি শেখানোর চেষ্টা করছি। পাঠের প্রথমদিন যে শিক্ষার্থী ইংরেজিতে কোন কিছুই বলতে পারতেন তা, সেই তাকেই শেষ ক্লাসে অনুভূতি শেষ করতে আমাকে থামতে বলতে হয়েছে। এ বিষয়টি আমাদের কাছে অনেক আনন্দের মনে হয়।