Friday, 24 November 2017

 

মুঠোফোনেই সম্ভব সাংবাদিকতার কাজ

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি:সাংবাদিকতা করার জন্য কম্পিউটার লাগবে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ লাগবে। ছবি তোলার জন্য ডিএসএলআর ক্যামেরা লাগবে। আমি বলবো এগুলো না থাকলেও আপনি সাংবাদিকতা করতে পারবেন। আপনার কাছে এটি অবাক করা তথ্য হলেও দেশের অনেকগুলো জাতীয় পত্রিকা, অনলাইন, টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধিরা মুঠোফোনে সংবাদ লেখা, ভিডিও ধারণ করে সাংবাদিকতার কাজটি চালিয়ে নিচ্ছেন। দ্রুত সংবাদ পৌঁছানোর চালেঞ্জ তারা গ্রহণ করেছেন।

তবে অনেক সাংবাদিকই বিষয়টি স্বীকার করতে ইতস্তত: বোধ করেন। কিন্তু সেটি অকপটে স্বীকার করলেন বিশিষ্ট ফটো সাংবাদিক মনিরুল আলম। মুঠোফোন ব্যবহার করে ডকুমেন্টরি, ভিডিও ইডিটিং এর কাজও করে থাকেন বলে জানান তিনি। বেশ কিছু মুঠোফোন সফটওয়ার দিয়েই তৈরি করা যায় এগুলো। বিনামূলেই এগুলো ডাউনলোড দিয়ে ইনস্টল করলেই কাজটি শুরু করতে পারবেন আপনিও। অনেকে হয়ত ভাবতে পারেন, বেশি দামি মোবাইল লাগবে। তাদের জন্য তিঁনি বলেন নামমাত্র মোটামুটি দামের অ্যান্ডয়েড ফোন দিয়েই এটা করা সম্ভব।

মুঠোফোনে আমার সাংবাদিকতা:
আমি নিজেই এর উদাহরণ। দেশের স্বনামধন্য একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় মফস্বল থেকে সংবাদ পাঠানোর কাজ মুঠোফোন ব্যবহার করেই করছি। গর্ব করে বলতে পারি সবার অাগে তাৎক্ষণিক খবর পাঠাতে পারছি এখন। গত ৬ মাসের  আমার করা প্রায় অর্ধেকের বেশি প্রতিবেদন, ফিচার মুঠোফোনে তৈরি। খুব বাধ্য হয়েই আমাকে এটি করতে হয়েছে। আমার ল্যাপটপটি নষ্ট না হলে হয়ত এটি চেষ্টা করতাম না। আমি পেরেছি, বিশ্বাস করুন আপনি চাইলেও পারবেন। আগে কম্পিউটারে বিজয় বাহান্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে বাংলা লিখতাম এখন মুঠোফোনে রিডমিক সফটওয়ার ব্যবহার করে লিখি। যাই হোক বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই জানেন বিষয়টি। ফেসবুকে যারা বাংলা ফন্ট লিখতে পারেন তাদের কাছে বিষয়টি একেবারে পান্তা ভাত। লেখাটি লিখছি তাদের জন্য যারা একেবারই জানেন না। যাতে তারা কিছুটা সাহস পান। সাংবাদিকতার মহৎ পেশাটার সাথে যুক্ত হতে পারেন।

মুঠোফোনে কাজ করার অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমন: ঘটনাস্থল কিংবা স্পটে উপস্থিত থেকেই দ্রুত সময়ে আপনি লিখতে পারবেন। ফোন রেকর্ডার চালু রেখে তথ্য রেকর্ড করতে পারবেন। ছবিও ফোন দিয়ে উঠাতে পারবেন। চাইলে ভিডিও করতে পারবেন। ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক পত্রিকা হাউজে পাঠানোর কাজটিও করতে পারবেন।

আসুন জেনে নিই কৌশলটি:

১. প্রথমে রিডমিক নামের সফটওয়ার প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে ইনস্টল করে নিন।
২. এরপর সফটওয়ারটি অন করে ইউনিজম অথবা অভ্র সিলেক্ট করুন। তবে ইউনিজম ব্যবহার করাই শ্রেয়। কারণ এটা অনেকটায় কম্পিউটারের মতই। যে অক্ষর চাপবেন সেটায় স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে।
৩. আপনার ফোনে নোটপ্যাড/ নোটবুক ব্যবহার করুন। যদি না থাকে এ সফটওয়্যার ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
৪. যা লিখতে চান তা তা নোটবুকে লিখুন। এখানে দু তিনটি জায়গায় তথ্য গুলো অালাদা অালাদা ভাবেও রাখতে পারবেন। যদি কোন বক্তব্য ফোনে রেকর্ড করা থাকে তবে সেটির জন্য কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে শুনুন আর লিখুন।
৫. পত্রিকায় সাধারণত ফাইল আকারে তথ্য পাঠাতে হয়। এক্ষেত্রে WPS office সফটওয়ার ব্যবহার করতে হবে। .doc অথবা. docx ব্যবহার করবেন। তাহলে যে কোন পিসিতে এটা অন করা সম্ভব হবে।
৬. নোটবুক থেকে লেখাগুলো কপি/কাট যেভাবে ইচ্ছা এখানে এনে পেস্ট করুন। চাইলে নোটবুকে না লিখে সরাসরি এটার ভিতরেই লিখতে পারেন।
৭.ইমেইল দিয়ে ফাইলটি পাঠিয়ে দিন আপনার পত্রিকা অফিসে। ছবি থাকলে সেটিও সংযুক্ত করুন।
৮. যদি মনে করেন লেখাটি বিজয় বাহান্ন ফরমেটে করতে হবে তাহলে ইন্টিরনেটের মাধ্যমে ইউনিকোড টু বিজয় করতেও পারবেন খুব সহজেই।

(যখন আমি এ লেখাটি লিখছি তখন আমি বন্ধুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বিজয় ৭১' স্মৃতিস্তম্ভে বসে। বন্ধুটি আসার আগেই আমার লেখাটি শেষ হয়। ঘড়ি ধরে ২০ মিনিটের মধ্যেই লেখাটি পত্রিকাতেও পাঠিয়ে দিই, যাতে আপনিও জানতে পারেন বিষয়টি।)
====================
লেখক: শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-২২০২
ইমেইল :
মোবাইল-০১৭৪৪ ৪৩১০৪০