Tuesday, 21 August 2018

 

বহমাত্রিক গুণাগুণসম্পন্ন কালোজিরা

জাতীয় মসলা ফসলের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
ড. মোহাঃ মাসুদুল হক, ড. রম্মান আরা ও ড. মুহা. সহিদুজ্জামান:কালোজিরা (Nigella sativa L), Ranunculaceae পরিবারভূক্ত বর্ষজীবী বীরুৎ জাতীয় মাঝারি আকৃতির মৌসুমী উদ্ভিদ ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি অপ্রধান মসলা ফসল হিসাবে পরিচিত। ব্যবহার ও উৎপাদনের দিক থেকে গৌন হলেও এদেশের রসনাবিলাসিদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মসলা এবং রন্ধনশালায় দৈনন্দিন বিভিন্ন খাদ্য তৈরিতে পাঁচ ফোড়নের উপাদান হিসাবে এর ব্যবহার অপরিসীম।

কালোজিরার প্রতিটি গাছে ২০-২৫টি গোলাকার ফল থাকে ও প্রতিটি ফলে ৭৫-৮০টি তিন-কোনা আকৃতির কালো রঙের বীজ থাকে এবং বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়। দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত এর বিস্তৃতি রয়েছে। কালোজিরা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, মিশর, ইরাক, সিরিয়া, ইরান, জাপান, চীন, তুরস্ক প্রভৃতি দেশে চাষাবাদ হয়ে থাকে। সারা বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ মে. টন কালোজিরা উৎপন্ন হয়।

আয়ুর্বেদীয়, ইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার হওয়াসহ ওষুধ, প্রসাধনী ও কনফেকশনারি শিল্প এবং রন্ধনশালা ছাড়াও বিভিন্ন পানীয় দ্রব্যকে রুচিকর ও সুগন্ধি করার জন্য ব্যবহার করা হয়। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা কালোজিরাকে একটি অব্যর্থ রোগ নিরাময়ের উপকরণ বা উপাদান হিসেবে বিশ্বাস করে। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত অন্য সব রোগ নিরাময় করে।  

পুষ্টিগুণ
কালোজিরায় প্রায় শতাধিক পুষ্টি ও উপকারী উপাদান রয়েছে, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর প্রধান পুষ্টি উপাদানের মধ্যে আমিষ ২১ শতাংশ, শর্করা ৩৮ শতাংশ, স্নেহ বা ভেষজ তেল ও চর্বি ৩৫ শতাংশ। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ।

প্রতি গ্রাম কালোজিরায় পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ যথাক্রমে প্রোটিন ২০৮, ভিটামিন বি১ ১৫, নিয়াসিন ৫৭, ক্যালসিয়াম ১.৮৫, আয়রণ ১০৫, কপার ১৮, জিংক ৬০ মাইক্রোগ্রাম; ফসফরাস ৫.২৬ মিলিগ্রাম এবং অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আরও রয়েছে নাইজেলোন, থাইমোকিনোন ও উদ্বায়ী তেল। কালিজিরা তেলে রয়েছে অতি গুরুত্বপূর্ণ লিনোলেনিক (ওমেগা-৩), লিনোলিক (ওমেগা-৬) ও অলিক এসিড (ওমেগা-৯), ফসফেট, ফসফরাস, কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-বি২, নিয়াসিন ও ভিটামিন-সি ইত্যাদি। কালোজিরা ফুলের মধু উৎকৃষ্ট মধু হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।

ঔষধিগুণ
খ্রীষ্টপূর্ব ৩০০০ বছর থেকে কালোজিরা মসলা ও ঔষধি গাছ হিসাবে ব্যাপক জনপ্রিয় একটি নাম। বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সিনা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ক্যানন অব মেডিসিন’ এ ‘কালোজিরা দেহের প্রাণশক্তি বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূর করে’ উল্লেখ করেছেন। জ্বর, সর্দি, কাশি, কফ, অরুচি, উদরাময়, শরীর, গলা, দাঁত, বাত, পেট ও মাথাব্যথা কমাতে, মাথা ঝিমঝিম করা, মাইগ্রেন নিরাময়ে যথেষ্ট উপকারী। পেটফাঁফা, চামড়ার ফুসকুরি, ব্রঙ্কাইটিস, এলার্জি, একজিমা, এজমা, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগ; ডায়রিয়া, আমাশয়, গ্যাসট্রিক আলসার, জন্ডিস, খোসপাঁচড়া, ছুলি বা শ্বেতি, অর্শরোগ, দাদে কালোজিরা অব্যর্থ ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

এছাড়া কালোজিরা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে, বহুমূত্র রোগীদের রক্তের শর্করার মাত্রা কমিয়ে ইনসুলিন সমন্বয় করে ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণ করে এবং অগ্নাশয়ে বিটা কোষের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। হার্টের বিভিন্ন সমস্যা, হাইপারটেনশন, নিম্ন রক্তচাপকে বাড়ায় আর উচ্চ রক্তচাপকে কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে রক্তের স্বাভাবিকতা রক্ষা করে।

কালোজিরার অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইকোটিক প্রভাব রয়েছে। এটি বোনম্যারো ও প্রতিরক্ষা কোষগুলোকে উত্তেজিত করে এবং ইন্টারফেরন তৈরি বাড়িয়ে দেয় এবং এর থাইমোকুইনিন যা পারকিনসন্স ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের দেহে উৎপন্ন টক্সিনের প্রভাব থেকে নিউরণের সুরক্ষায় কাজ করে।

দেশজ উৎপাদন ও রপ্তানি
বাংলাদেশে ১৪,৭৪২ হেক্টর জমিতে ১৬,৫২৬ মে.টন কালোজিরা উৎপন্ন হয় (সূত্র: ডিএই, ২০১৭)। ফরিদপুর, মাগুরা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার উচুঁ ও মাঝারী উচুঁ এবং দোঁ-আশ থেকে বেলে-দোঁ আশ মাটিতে চাষাবাদ বেশি হয়ে থাকে।

মাটির পিএইচ (pH) ৭.০-৭.৫ এবং উচ্চমাত্রায় অণূজীবের কার্যক্রম সম্পন্ন বেলে-দোঁআশ মাটি কালোজিরা চাষের জন্য উত্তম। মে, ২০১৭ প্রকাশিত বিবিএস এর তথ্য মতে ২০১৫-১৬ সালে ৫২০ মে. টন কালোজিরা (HS Code 0909-Black Cumin Seeds) ৫ কোটি ২২ হাজার টাকার বিনিময়ে রফতানি করা হয়। বাংলাদেশে কৃষক পর্যায়ে ফসলটির হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৬০০-৭০০ কেজি। একমাত্র মৌমাছির মাধ্যমে কালোজিরা ফুলের পরাগায়ন ঘটে এবং কালোজিরা ফসল উৎপাদনে মৌমাছির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এর ফলন প্রায় ১০-১২% বৃদ্ধি করা সম্ভব।  

কালোজিরা জাতীয় মসলা ফসলের উন্নয়ন ও অগ্রগতি
প্রাচীনকাল থেকে কালোজিরার চাষাবাদ হয়ে থাকলেও বাংলাদেশে অতীতে কালোজিরা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোন গবেষণা কিংবা উন্নয়ন ও অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি বললেই চলে। তবে মসলা গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয় জার্মপ্লাজম সংগ্রহ এবং ১৯৯৭-৯৮ সাল হতে মূল্যায়ন ও বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে।

পরবর্তীতে প্রাথমিক ফলন পরীক্ষা, অগ্রবর্তী ফলন পরীক্ষা ও আঞ্চলিক ফলন পরীক্ষার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ যাচাই বাছাই করে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক “বারি কালোজিরা-১” নামে একটি উচ্চ ফলনশীল জাত চাষাবাদের জন্য উদ্ভাবন করা হয় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সার, সেচ ও রোগ-বালাই ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়।

জাত উদ্ভাবনের পর কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারণে লক্ষ্যে বিগত বছরগুলোতে বারি কালোজিরা-১ এর মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন করা হয় ৭১৫ কেজি এবং বিতরণ করা হয় ১২৮ কেজি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে কালোজিরার ০৯ টি জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং জার্মপ্লাজমসমূহের বৈশিষ্টায়নসহ ডাইভার্সিটি নির্ণয়ের জন্য ধারাবাহিক গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণাগারে বারি কালোজিরা-১, বারি সরিষা-১৪ ও বারি সয়াবিন-৬ বীজের রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কালোজিরা তেলে শর্করা (২৮-৩০%), পামিটিক এসিড (১৪.৫০%) ও লিনোলিক এসিডের (৫৭.৩৭%) পরিমাণ যা সরিষা ও সয়াবিন তেলের তুলনায় বেশি এবং আমিষ, ফ্যাট, বিভিন্ন সম্পৃক্ত এসিড, অলিক এসিডের পরিমাণও সন্তোষজনক পর্যায়ে বিদ্যমান রয়েছে।   

উল্লেখ্য যে, বারি কালোজিরা-১ এর বীজ বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমে ব্যবহার, বেসরকারী সংস্থায় সরবরাহ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র/ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা এবং পরবর্তী মৌসুমে গবেষণা কাজের জন্য বীজ সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তরের নিমিত্ত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ সালে টাঙ্গাইল, শেরপুর, বগুড়া, বরেন্দ্র, পটুয়াখালী জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ২০ বিঘা জমিতে প্রদর্শনী ব্লক স্থাপণ করা হয়েছে এবং দেশের ৮টি জেলার ১১টি উপজেলায় ৪২ জন কৃষকের মাধ্যমে ৩২.৮ বিঘা জমিতে বারি কালোজিরা-১ উৎপাদন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে ২০টি প্রর্দশনী স্থাপন করা হয়েছে। এসময়ে মসলা গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রজনন বীজ উৎপাদন কর্মসূচীও গ্রহণ করা হয়েছে।  

বারি কালোজিরা-১ এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য
জাতটির জীবনকাল ১৩৫-১৪৫ দিন এবং এর উচ্চতা ৫৫-৬০ সেন্টিমিটার। প্রতিটি গাছে প্রায় ৫-৭টি প্রাথমিক শাখা এবং ২০-২৫টি ফল থাকে। প্রতিটি ফলের ভিতরে প্রায় ৭৫-৮০টি বীজ থাকে যার ওজন প্রায় ০.২০-০.২৭ গ্রাম। এ জাতের প্রতিটি গাছে প্রায় ৫-৭ গ্রাম বীজ হয়ে থাকে এবং ১০০০ বীজের ওজন প্রায় ৩.০০-৩.২৫ গ্রাম। হেক্টর প্রতি এর গড় ফলন ০.৮০-১.০ টন। স্থানীয় জাতের তুলনায় এর রোগবালাই খুবই কম।

কালোজিরার ভবিষ্যৎ গবেষণা কর্মপরিকল্পনা
কালোজিরার নতুন নতুন জেনেটিক মেটারিয়াল সংগ্রহ ও মূল্যায়নের পাশাপাশি সারের পরিমাণ নির্ধারণ, সেচ ব্যবস্থাপনা, রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, তেল নিস্কাশন করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে ও কিছু প্রযুক্তি নিণর্য়ের কাজ চলছে। বর্তমানে মসলা গবেষণা কেন্দ্রে দেশ ও বিদেশে থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ৯ টি জার্মপ্লাজম রয়েছে যা থেকে খুব শীঘ্রই আরও একটি উচ্চফলনশীল নতুন জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।

‘‘কালোজিরার জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও মূল্যায়ন’’ (Collecttion and evaluation of black cumin germplasm) শিরোনামে কালোজিরার নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য ২০১৬-১৭ বছরে সম্পাদিত গবেষণার ফলাফলে BC009 এবং BC010 জার্মপ্লাজম দু‘টিতে বারি কালোজিরা-১ জাতের তুলনায় অধিক ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষাটি আরও ২ বছর সম্পন্ন করার পর নতুন জাত উদ্ভাবন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

সীমাবদ্ধতা
কালোজিরার বহুবিধ গুণাগুণ ও ব্যবহার থাকা সত্ত্বেও এর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া চাহিদা অনুযায়ী দেশে কালোজিরার উৎপাদনও কম হচ্ছে। সাধারণত কালোজিরা একটি গৌণ মসলা ফসল বিধায় চাষীরা এর চাষাবাদে খুব বেশি আগ্রহী নয়। যেহেতু রবি মৌসুমে অধিকাংশ ফসলের চাষাবাদ হয় সেজন্য কৃষক একক ফসল হিসাবে কালোজিরা চাষাবাদ করতে চায় না। ন্যায্য বাজার মূল্য প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা, দুর্বল বাণিজ্যিক কাঠামো, বীজ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ ব্যবস্থাপনার জন্য কাংখিত পরিমাণে কালোজিরার বীজ উৎপাদন করা যাচ্ছে না।

কালোজিরার উৎপাদন বৃদ্ধিতে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যেমন কৃষকের দৌরগোড়ায় কালোজিরার উৎপাদন প্যাকেজ, বীজ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর, কৃষক প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী ইত্যাদি ছাড়াও প্রক্রিয়াকরণ শিল্পেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

কালোজিরা চাষের সম্ভাবনা
বাংলাদেশর মাটি এবং জলবায়ূ কালোজিরা চাষের জন্য বেশ উপযোগী এবং লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুরের চরাঞ্চলে উন্নত জাতের কালোজিরার চাষ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। কালোজিরা চাষাবাদে সেচ কম দিতে হয়, কখনও ১/২ টি সেচে ভাল ফলন পাওয়া যায় বিধায় বরেন্দ্র এলাকায় এর চাষাবাদ বৃদ্ধি করার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে চলনবিল এলাকায় পানি নেমে যাওয়ার পর সেখানে কালোজিরা চাষ করা যেতে পারে। ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ইত্যাদি এলাকার চাষিরা পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে। পেঁয়াজ বীজ ক্ষেতের চারপাশে এবং ক্ষেতের ভিতর পেঁয়াজের ১০-১৫ সারি পর পর কালোজিরা বপন করা যেতে পারে, এতে কালোজিরার উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আন্তঃ ফসল/মিশ্রফসল হিসাবে মরিচ, মসুর, আখ ইত্যাদি ফসলের সাথে কালোজিরা চাষ করার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। রবি ফসলের প্রচলিত শস্য বিন্যাসে কালোজিরা অন্তর্ভূক্তি করে এর উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। তাছাড়া অন্যান্য রবি ফসলের ক্ষেতের চারপাশেও কালোজিরা বপন করা যেতে পারে।  

উপসংহার
কালোজিরা একটি অর্থকরী এবং বহুগুণে গুণান্বিত উচ্চমাণসম্পন্ন পুষ্টিকর মসলা জাতীয় ফসল। তাই এ জাতীয় মসলা ফসলের উন্নয়নের জন্য এর গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরো জোরদার করা আবশ্যক। কালোজিরা জাতীয় খাবারই হতে পারে ওষুধ এবং ঔষধই হতে পারে খাদ্য তাই এ ফসলের  গুণাবলী ও ব্যবহারের ব্যাপকতা বিষয়ে প্রচারণার সুনির্দ্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।