Wednesday, 15 August 2018

 

ইনফ্রারেড রশ্মি দিয়ে ঠোঁট কাটা (ইনফ্রারেড ডিবেকিং)

কৃষিবিদ রুহুল আমিন মন্ডল:মুরগির বাচ্চার ঠোঁট কাটা পোল্ট্রি শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এর ফলে ঠোকরাঠুকরি (ক্যানাবলিজম), আগ্রাসী ভাব, আঘাত ও মৃত্যুহার কমে আসে এবং খাবার খাওয়া ও ইউনিফরমিটি ভাল হয়। সাধারণত ১০ দিনের কম বয়সী বাচ্চার ঠোঁট কাটতে গরম ব্লেড ব্যবহার করা হয়, যাকে বিক ট্রিমিং বলা হয়। গরম ব্লেড দিয়ে বিক ট্রিমিং করার সময় মুরগীর বাচ্চা অনেক বেশী স্ট্রেসে বা ধকলে পরে যা এত কম বয়সে কাম্য নয়।

এছাড়াও গরম ব্লেড দিয়ে ঠোঁট কাটার জন্য দক্ষ, মনোযোগী ও ধৈর্য্যশীল লোকের প্রয়োজন হয়। তাই এর বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ইনফ্রারেড রশ্মি দিয়ে ঠোঁট কাটা হয় যাকে বলা হয় ইনফ্রারেড ডিবেকিং। এটি একটি কার্যকরী, স্বয়ংক্রিয় ও সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি, যা হ্যাচারীতে ১ দিন বয়সী বাচ্চায় করা হয়। ঠোঁট কাটতে ইনফ্রারেড রশ্মি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইনফ্রারেড ডিবেকিং প্রযুক্তি আমাদের দেশে নতুন। কিছু কিছু বড় ফার্ম এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে বা শুরু করতে যাচ্ছে।

ইনফ্রারেড ডিবেকিং পদ্ধতি:  
নিচে ইনফ্রারেড ডিবেকিং মেশিনের সাহায্যে ঠোঁট কাটার পদ্ধতি আলোচনা করা হল:

  • বাচ্চাকে হেড হোল্ডারে রাখা হয়। নিরাপদে বাচ্চার ঠোঁট গার্ড প্লেটের সাহায্যে সরু খাপের মধ্য দিয়ে ঢুকানো হয়, যাতে বাচ্চার কোন ক্ষতি না হয়।   
  • যান্ত্রিক আঙ্গুল নিরাপদে বাচ্চার মাথা ধরে রাখে। এই ধরে রাখার সময়কাল ১৫ সেকেণ্ডের কম
  • ইনফ্রারেড বাচ্চার ঠোঁটের সেই অংশকে নিয়ণ্ত্রণ করে যে অংশ ইনফ্রারেডের সংস্পর্শে আসে
  • ইনফ্রারেড শক্তি ঠোঁটের কলার (টিস্যুর) উপরে কাজ করে এবং পুনরায় ঠোঁটের বৃদ্ধি ব্যাহত করে
  • ইনফ্রারেডের সংস্পর্শে আসা ঠোঁটের অংশটুকু প্রথমে সাদা হয় এবং কিছুদিন পরে কালো হতে শুরু করে
  • পরবর্তী ২-৩ সপ্তাহে ইনফ্রারেড রশ্মির সংস্পর্শে আসা ঠোঁটের অংশটুকু নরম হবে এবং ধীরে ধীরে ঝরে পরবে
  • ইনফ্রারেড রশ্মি দিয়ে কাটা বাচ্চার ঠোঁট গরম ব্লেড দিয়ে কাটা ঠোঁটের তুলনায় কিছুটা বড় মনে হতে পারে
  • স্ট্রেইন এর ভেরিয়েশন, ফ্লকের বয়স, ইউনিফরমিটি এবং বেড়ে ওঠার পরিবেশের উপর ভিত্তি করে নিয়ণ্ত্রিত আলোকশক্তি ও হেড হোল্ডার কনফিগারেশন করা হয়।

ইনফ্রারেড ডিবেকিং এর সুবিধাসমূহ :

  • এক দিন বয়সী বাচ্চার জন্য এটি একটি আরামদায়ক পদ্ধতি।
  • হ্যাচারীতে এক দিন বয়সী বাচ্চায় ভ্যাকসিন দেওয়ার পাশাপাশি ইনফ্রারেড রশ্মি   দিয়ে ঠোঁট কাটা বাচ্চার উপর স্ট্রেস কমায়। কারণ ফার্মে ধরে ধরে এবং গরম ব্লেড দিয়ে ঠোঁট কাটায় বাচ্চার উপর বেশি স্ট্রেস পড়ে।
  • অল্প সময়ে নিশ্চিতভাবে ঠোঁট কাটা হয়
  • যেহেতু বাচ্চার ঠোঁট ঝরে পড়তে দুই সপ্তাহের মত সময় লাগে তাই বাচ্চা ধীরে ধীরে পানি ও খাবার খাওয়ার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে
  • জীব নিরপত্তা ( বায়োসিকিউরিটি ) ব্যবস্থাপনায় কোন ব্যাঘাত ঘটে না।

ইনফ্রারেড রশ্মি দিয়ে ঠোঁট কাটা বাচ্চা পালতে কিছু বাড়তি যত্নের দিকে নজর দিতে হয়। নিচে সেগুলো আলোচনা করা হল:

১.খাবার (ফিড)
•বাচ্চাকে সম্পূর্ণভাবে পেপারের উপরে রাখা হয় (খাঁচায় অথবা মেঝেতে) যাতে বাচ্চার খাবার খুঁজে পেতে সমস্যা না হয়।
•প্রথম সাত দিন খাবার খাওয়ার প্রতি উৎসাহিত করার জন্য পেপারের উপরেই খাবার দেওয়া হয়।
•ফিডারগুলোকে সর্বোচ্চ পরিমাণে ভর্তি করা হয় যাতে বাচ্চার ঠোঁট ফিডারের তলা স্পর্শ না করে।

২.আলো
•আলো এত উজ্জ্বল হতে হবে যাতে নিপল এর সাথে ঝুলে থাকা পানির ফোঁটা চকচক করে। কারণ তা বাচ্চাকে পানি খেতে আগ্রহী করে তুলবে।
•বাচ্চাকে উপরের খাঁচায় বা আলোক উৎসের কাছাকাছি রাখতে হবে।
•প্রথম সাত দিন চার ঘণ্টা করে আলো সরবরাহ করতে হবে এবং দুই ঘণ্টা করে বন্ধ রাখতে হবে। আবার  চার ঘণ্টা  আলো সরবরাহ করতে হবে এবং দুই ঘণ্টা  বন্ধ থাকবে। এভাবে চলতে থাকবে।

৩.বাতাস
•সহজে বাতাস পাওয়ার জন্য ব্রুডিং ঘরের মাঝামাঝি বা উপরের খাঁচায় করতে হবে।

৪.পানি
•পানির উৎসে বাচ্চার বাঁধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
•৩৬০০ কার্যকরী নিপল ব্যবহার করা।
•বাই-ডাইরেকশনাল নিপল ব্যবহার করে সাথে অতিরিক্ত ড্রিংকারের ব্যবস্থা রাখা। কারণ বাই-ডাইরেকশনাল নিপলে উপরের দিকে ধাক্কা দিয়ে পানি খেতে হয় বলে বাচ্চা অনুৎসাহিত হয়।
•পানির লাইন ফ্লাশিং করা।
৫.ফাঁকা জায়গা (স্পেস)
•সম্পূর্ণ খাঁচায় পেপার বিছানো যাতে বাচ্চা যথেষ্ট জায়গা পায়।
•অতিরিক্ত চিক ড্রিংকার ব্যবহার করে পানির স্পেসকে বড় করা।
=======================
লেখক পরিচিতিঃ
সিনিয়র ফার্ম ম্যানেজার,
ইমেইল:
মোবাইণ:01919-841873|