Friday, 22 June 2018

 

সদলবলে ঘুরে এলাম সুন্দরবন

সুন্দরবন। বিশ্বের অনিন্দ্য সুন্দর গরান বন। ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এই বনের নাম শুনলেই একটা আবেগ কাজ করতো মনের মধ্যে। এই আবেগকে সাড়া দিতে গিয়েই বাস্তবায়িত হলো সুন্দরবন ভ্রমনের কাহিনী! শুধু একা না কিংবা পাঁচ-সাতজনের একটা দল না! প্রায় ৯০ জনের বিশাল এক দলের সুন্দরবনের পুরো ভ্রমনটা ছিলো সত্যিই অভাবনীয় আর অ্যাডভেঞ্চারে ভরপুর! সৃজন পালের কাছ থেকে সেই ভ্রমণের গল্প শুনেছেন আবুল বাশার মিরাজ

ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সস এন্ড ফিশারিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এখানের শিক্ষার্থীরা সমুদ্র্রচর্চা করে, সাথে বনচর্চাও। সুন্দরবন যাত্রার শুরুএখানের সমুদ্রচত্ত্বর থেকেই। বিকেল তিনটার দিকে পুরো অর্ধশত শিক্ষার্থীসহ দুইজন স্যার রওয়ানা দেন শহরের উদ্দ্যেশ্যে। চট্টগ্রাম শহর থেকে আরও একটি বাসসহ মোট দুটি বাসের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮২ যেখানে অভিজ্ঞ চারজন শিক্ষক এবং সাথে দক্ষ দুইজন ফিল্ড ও ল্যাব টেকনিশিয়ান। বিশাল বহরের লোকসংখ্যা ৯০ প্রায়, সবাই সুন্দরবনের অভিযাত্রী। বাস যখন চট্টগ্রাম শহরের সিটি গেইট, হাত ঘড়িতে সময় বিকেল পাঁচটা। বাস দুটি এগিয়ে চলছে, গন্তব্য মংলা বন্দর এলাকা। এরই মধ্যে ফেসবুকে জানান দেয়া হলো, অভিযাত্রিরা সুন্দরী বনের পথে। এদের একজন তো মজা কওে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েই দিলো যে, বাঘের খোঁজে, মধুর লোভে!

বাসে চলছে চবির শাটলের গান, চলছে বন্ধুদের গ্রুপ আড্ডা, যেন মিনি শাটলের দুইটা বগি একসাথে এগুচ্ছে! ইতিমধ্যে কুমিল্লা আর ঢাকা দুইবার বিরতি দিয়ে রাত-দুপুরে বাস এসে থামলো মাওয়া ঘাটে। রাতের খাবার আর আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করে সবাই ফেরীতে উঠলো। ফেরী এপার থেকে ওপারে পৌঁছতেই নতুন দিনের শুরু। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাড়ে দশটা, নিরবতার মুহূর্তকাল। এই চার ঘন্টা সময় ধরে বাস দুটি চারটা জেলা পাড়ি দিয়ে মংলা ঘাটে এসে পৌঁছলো। সকালের নাস্তা আর ফিল্ড-স্যাম্পলিংয়ের ব্রিফিং দেয়া হলো একসাথে। ঘাট থেকে প্রায় অর্ধ কি.মি. দূরের জাহাজটিই সুন্দরবনের জন্য। জাহাজের নাম- এমভি আরিফ মোহাম্মদ-২। জাহাজটা ঠিক যেখানে দাঁড়ানো, সেখানে তিনটা নদী মিলেছে এসে। পশুর, রূপসা আর মংলা নদীর মিলনস্থল। প্রথম দিনের প্রথম স্টেশনের স্যাম্পলিং করা হলো। ঐ এলাকার পানির গুণাগুণ পরিমাপের জন্য পানির নমুনা এবং সেই সাথে প্রয়োজনীয় নিয়ামকগুলোও লেখা হলো। সেখানে কি পরিমাণ ক্ষুদ্র জীববৈচিত্র্য আছে সেগুলোর স্যাম্পল এবং ডাটা সংগ্রহও করা হলো। এরপর ঐ স্থানের পানির গভীরতা নির্ণয় করার পর পানির তলের জীববৈচিত্র্যরও উপাত্ত নেওয়া হলো। জাহাজের গন্তব্য এবার হারবারিয়া ইকো-ট্যূরিজম এলাকা। সুন্দরবনের ঘোলাটে নদীর ভিতর দিয়ে জাহাজ চলছে কিঞ্চিৎ শব্দসমেত। দূর সন্ধানী অভিযাত্রীরাও কাজ করছে। এরা পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছিলো সুন্দরবনের প্রানী ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য কিংবা কখনো কখনো কৃত্রিম কোন কাঠামো। শুধু খালি চোখে না, বাইনোকুলার দিয়েও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিলো সুন্দরবন এলাকা।

ঘড়িতে সময় তখন বিকেল চারটা বাজে, এমন সময় জানা গেল জাহাজের অবস্থান হারবারিয়ার ঘাটে। অদূরে লক্ষ্য করা গেল রঙ্গিন ডলফিনের নৃত্য। হারবারিয়া থেকেও স্যাম্পলিং আর উপাত্ত সংগ্রহ করা হলো। কিন্তু এখানে নতুন করে যুক্ত করা হলো পানির নিচের মাটির নমুনা সংগ্রহ। হারবারিয়াতে দেখার মতো সুন্দর একটি কাঠামোই আছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এক লম্বা সেতু, যার গঠনরূপ কাঠের। পুরো বনের ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া এই সেতু ঘুরেই দেখতে হয় সুন্দরবনের সৌন্দর্য্য। সুন্দরী, গোলপাতা, পশুর, কেওড়া আরও নানা গাছ আর বানরদের খুনসুটি খুবই মনোরম। শুধু বানর না আরও অনেক প্রজাতির প্রাণিও ছিল সেখানে। পুরো সেতুর এপার ওপার ঘুরতে সময় লেগেছে পাক্কা পঞ্চাশ মিনিট। হারবারিয়া দর্শন শেষে জাহাজের গন্তব্য এবার কটকা অভিমুখে। পশ্চিমে সূর্য ডুবতে শুরু করছে আর জাহাজও এগোচ্ছে গন্তব্যে। সন্ধ্যার আগেই হালকা নাস্তা-পানি হলো। বাইরের পূর্ণিমার আলো আরেকটু রোমাঞ্চতা এনে দিলো চলমান জাহাজের ডেকে বসে গোলপাতার ভেতর দিয়ে অভিগমনের। জাহাজে চলছে আড্ডা আর খেলা। রাতের খাবার হলো, আসন্ন দিনের কার্যক্রমও বুঝিয়ে দেওয়া হলো, এরপরেও খুনসুটি থামে না। এভাবে কেটে যায় অসম্পূর্ণ ঘুমের একটি রাত।
 
সকাল হয় পাক-পাকালির ডাকে। ট্যুর গাইড আর গানম্যানের বাঁশির শব্দে দূরের হরিণগুলো মুখ তুলে তাকায়।

এটা কটকা। দিনের শুরুতে কথা হলো একদল জেলের সাথে। আমরা আসছি ঘুম থেকে উঠে পর্যটকবেশে। কিন্তু এই জেলেদের সকাল হয়েছে আরও ঘন্টা চারেক আগে! এটা উনাদের পেশা আর জীবিকা। প্রকৃতির নিয়ম এখানেও একই। জেলেদেরও একটা পরিবার আছে, উনাদের ছেলেমেয়েও পড়াশোনা করছে। এমনটা শুনলে কার না ভালো লাগে। কটকা অভয়ারণ্যে প্রায়ই নাকি বাঘের দেখা মেলে। সেই বাঘের খুঁজেই অরণ্যে ঘুরে দেখা। গভীর বনের ভেতরে কয়েকটা টাইগার পয়েন্ট চোখে পড়লো। কয়েক ঝাঁক হরিণ আর বন্য শূকরের দেখা পাওয়া গেলেও বাঘের দেখা আর মিললো না। এবার গন্তব্য কটকা আর জামতলা সৈকত। ঘাট থেকে প্রায় মাইল দেড়েকের পথ, পায়ে হাঁটা ছাড়া উপায় নাই। সবাই একদলে উপস্থিত সুপরিচিত কটকা বীচে। কাঁদা-বালুময় আর চমৎকারভাবে ঢালু এক সুন্দর জায়গা এটা। ফেরার পথেও চোখ ধাঁধানো চেনা-অচেনা প্রাণী আর উদ্ভিদের রাজ্যে অবাক করার মতো অভিজ্ঞায় ফেলেছিল।

সময় সংকীর্ণ, তাই জাহাজও দেরী না করে রওয়ানা হলো হিরণপয়েন্ট অভিমুখে। সারেংয়ের ভাষ্যমতে গন্তব্যে পৌঁছতে দুপুর হবে। সময় যাচ্ছে, আর জাহাজ এগোচ্ছে নতুন রুটে। গন্তব্যে পৌঁছার আগেই প্রাকৃতিক পরিবেশের হাতছানিতে বুঝা গেল, এই বুঝি হিরণপয়েন্ট এলাম। জাহাজ থেকে ছোট নৌকায় করে ঘাটে যেতে হবে। পথে দেখা গেল সাদা বক আর বড় বড় মদনটাক পাখির দল। ইউনেস্কো যে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছিল, সেটার দলিল কাঠামো কিংবা সুন্দরনের জরীপকার্য্যরে প্রমাণসই স্থাপনা, সরকারী অফিস আর নেভীর কিছু স্থাপনা মিলেই হিরণ পয়েন্ট। পুরো একটা ঘন্টা চক্কর দিয়ে হিরণ পয়েন্ট শেষ করে রওয়ানা হলাম দুবলার চরে। বিকেলের সূর্যটা রং পরিবর্তন করছে যখন, ঠিক তখনই তরী এসে থামলো দুবলার চরে।

পূর্বঘোষিত শিডিউল অনুযায়ী আমাদের দুইটা দল এখানে কাজ করবে, পুরো দুবলার চরের জেলেদের সুখ-দুঃখের খবর জানার জন্য কথা হলো  কয়েকজন জেলের সাথে। আর অন্যদল দুবলার চরের বেলাভূমির মাপ  নিলো! অন্যদিকে বিশাল চরাঞ্চল পেয়ে দূরন্ত অভিযাত্রীরা মেতে উঠলো দস্যিপনায় আর বাচ্চামিতে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ-এক অনন্য উপভোগ্যতা। সন্ধ্যা হলো এখানেই। সদলবলে এবার শুটকিবাজারে সবাই। দুবলার চরের শুঁটকির বাজার বাংলাদেশের এক বিখ্যাত নাম। এখানের শুঁটকি যেমন দেশে চলে, তেমনি যায় বিদেশেও। গিয়েছিল সবাই জেলেদের সাথে কথা বলবে, ফিরলো সবাই শুঁটকি কিনে! সন্ধ্যা গনিয়ে রাত তিমির হয়। জাহাজও ছুটে চলে নতুন এক গন্তব্যে। রাতের খাবারের আগে প্রতিদিন মজার মজার খেলা হয় জাহাজে। আড্ডা আর গান তো না বলাই থাক।

দুবলার চরের পরে আমাদের গন্তব্য ছিলো করমজল, জাহাজও সেদিকেই এগোচ্ছে। সুন্দরবনে আমাদের শেষ রাত এটি। এই রাতটি হয়তো ক্লান্তির রাত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু না, সবাই কাজ করছে আর বাইরের চাঁদনী উপভোগ করছে। সকালে পোস্টার প্রেজেন্টেশন করতে হবে, তিনদিনের কাজের উপর। অভিযাত্রীদের চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ, তবুও ঘুম নেই। দিবাগত রাত শেষে জাহাজ ও এর যাত্রীরা ভোরের আলো দেখে, প্রকৃতি সাজে অন্যভাবে। কিন্তু অভিযাত্রীরা কাজেই থাকে। সকালে গিয়ে সবাই করমজল দেখে আসে। হরিণের খাঁচা আর কুমিরের পুকুর কিংবা ওয়াচ টাওয়ার থেকে বন দেখে সবাই যখন মুগ্ধ, তখনই দুষ্টু বানর এসে সবাইকে হাসিয়ে তুলে তার বাঁদরামিতে! এগুলো সুন্দরবনের সহজিয়া চিত্র।

অন্যসব পয়েন্টের মতো করমজলেও রীতিমতো স্যাম্পলিং হয়, ডাটা হয়। সকাল দশটা বাজে, ডাক পরে নাস্তার এবং এরপরেই প্রেজেন্টেশন। পোস্টারগুলো ভালো করে উপস্থাপন করা হয়। পোস্টারে ছিল আমাদের চমৎকার পরিবেশনা- সুন্দরবনে কি কি আছে, কেন আছে, আরও কি কি থাকা দরকার, আমাদের করণীয় আর কর্তাদের করণীয় সবই উঠে আসে উপস্থাপনায়। সবার তথ্যবহুল উপস্থাপনা দেখে স্যার উপস্থাপন করলেন তিনদিনের আবেগঘন মুহূর্তগুলো। সূর্য যখন ঠিক মাথার উপরে, তখনই আমরা বুঝতে পারি এবার বুঝি ফেরার সময় হলো।

৮ মার্চ-২০১৮, বিকেল ৩ টা বাজে আমাদের বাসদ্বয় মংলা ঘাট ছেড়ে আসে। বিকেল পাঁচটা নাগাদ এসে পৌঁছে বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদের সামনে। ছোটবেলায় একসময় যে মসজিদের বর্ণনা আমরা কেবল বইয়েই পড়তাম, বিশ্ব ঐতিহ্যের এই স্থাপনা যে এতো তাড়াতাড়ি দেখা হবে সেটি বিশ্বাস হচ্ছিলো না অনেকেরই। বিশাল বড় এক জলাশয়, ৭৭ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ আর বাগেরহাট জাদুঘর আমাদের শিক্ষাসফরকে অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল। আমাদের কয়েকজন বন্ধুর সুযোগও হলো মসজিদে মাগরিবের সালাত আদায় করার।

আমাদের এরপরের গন্তব্য হলো গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, বঙ্গবন্ধুর শৈশব স্থান আর সমাধি। ঘন্টা দুয়েক পর ঠিক সেখানেই পৌঁছালাম। সময় স্বল্পতা আর নিরাপত্তাজনিত জটিলতায় সে জায়গার শতভাগ দেখার সৌভাগ্য হয়ে উঠেনি সবার। এরপর সবাই রাতের খাবার খেয়ে ঘুম দিল আর সকাল দশটায় এসে পৌঁছালো কুমিল্লায়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আসতে সময় লাগলো আরও ঘন্টা চারেক। বেলা দেড়টায় আমাদের সুন্দর শিক্ষাসফরের সমাপনও ঘোষণা হলো।

সুন্দরবন ভ্রমণের দিনগুলো সত্যিই অসাধারণ ছিল। কিন্তু এই শিক্ষাসফরের পিছনে যাঁদের স্বার্থহীন শ্রম আর অণুপ্রেরণা ছিল তাঁরা হলেন আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ। সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: মোসলেম উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক মো: মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক, সহকারী অধ্যাপক জুয়েল দাশ স্যারদের বিভিন্ন অবদানের কারণেই আমাদের শিক্ষাসফর সফল হয়েছে। এই যাত্রায় আর যারা আমাদের সাহায্য করেছেন তারা হলেন- পেনিনসুলা ট্যুরিজম লিমিটেড আর অ্যাকুয়া-টেক লিমিটেড। উনাদের সবার জন্যই কৃতজ্ঞতা। এবার তাহলে অভিযাত্রীদের পরিচয়টা দেয়া যাক- দলের সবাই সহপাঠী আর এরা ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সস্ এন্ড ফিশারিজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সুন্দরবন ভ্রমণ শেষে এরা সুন্দরবনকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করে আসছে। আসুন না, সুন্দরবনটা আমাদের সবার করে নিই, তবেই রক্ষিত হবে বিশ্ব ঐতিহ্য।

যেভাবে যাবেন সুন্দরবন  
বাস, রেল, নৌ কিংবা আকাশ পথেও সুন্দরবন যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে সড়ক পথে মংলা সহজ পথ সবচেয়ে। রেলে হলে, কমলাপুর থেকে যশোর হয়ে খুলনা তারপর মংলা। ঢাকার সদরঘাট থেকে বা চাঁদপুর থেকে নৌপথে মংলা পৌঁছা যায়। বিমানে হলে আপনাকে প্রথমে যশোর এয়ারপোর্ট নামতে হবে, এরপর বাসে বা রেলে করে মংলা। মূলতো মংলা থেকেই সুন্দরবন ঘুরা সহজতম। আর সুন্দরবন ঘুরতে হলে আপনাকে আগাম অনুমতি নিতে হবে বনবিভাগ থেকে। কিন্তু ট্যুরিজম কোম্পানির আওতায় গেলে সবচেয়ে সুবিধা হয়, এরাই সবকিছুর ব্যবস্থা করে দেয়। মোটামুটি মানের সুন্দরবন ভ্রমন আপনাকে ১০ হাজার টাকার মধ্যেই হয়ে যায়।

ছবি: দিবস দেব।