Monday, 20 August 2018

 

হাওরাঞ্চলে কার্যক্রম উপযোগী দমকল বাহিনী চাই

ড. নিয়াজ পাশা: চারিদিকে সমুদ্র সম অথৈ থৈ থৈ পানির মাঝে মাথা উঁচু করে জেগে থাকা হাওরাঞ্চলের একটি জনপদ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর বাজার। প্রতিহিংসার আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলছে। চারিদিকে পানি । কিন্ত আগুণ নিবাইতে এ পানি ব্যবহার করতে পারছে না। পানি ছিটানোর কোন যন্ত্র / ব্যবস্থা নাই ।

হাওরবাসি মানুষ তাঁদের সীমিত সাধ্য লুটা, ঘটি, বাটি, বালতি দিয়ে আগুণ নেবানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন। লেলিহান আগুনের সাথে তাঁদের এ প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবেশিত হয়। অসহায়ভাবে তাকিয়ে থাকা ছাড়া তাঁরা আর কি-ই বা করতে পারেন ?

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জে থেকে নৌ-পথে দমকল বাহিনী আসে । ততক্ষণে ৭৫ টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেল । ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কয়েক কোটি টাকা ।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ বাজার কয়েকবার অসহায় ভাবে পুড়ে যেতে দেখেছি। সেই সাথে আমার দাদার তামা-কাসা, ডেক-ডেকচির দোকান আগুণ নিবানোর উচিলায় মানুষ লুটে নিয়ে খালি করে ফেলে। হাওরাঞ্চলের প্রতিটি জনপদে একই অসহায় অবস্থা বিরাজ করছে। আগুন লাগিলে নিবাইবার কোন উপায় থাকে না ।

শুকনো সময় তা আরো বেশী অসহায়ত্ব অবস্থা বিরাজ করে। সে সময় পানির আবার বড় অভাব। যাতায়াতও মসৃণ নয়। তবে এখন 'ভুরা আর আভুরা সড়ক' ব্যবস্থায় যাতায়াতকে অনেকটা সহজ করেছে। হাওরাঞ্চলের গ্রাম-গঞ্জে আগুন লাগিলে সব পুড়ে ছাই করে-ই আগুন আপনা আপনি নিবে। মানুষকে করে নিঃস্ব ; ক্ষতি হয় লক্ষ-কোটি টাকার। দেশের এক দশমাংশ হাওর এলাকায় কোন দমকল স্টেশন আছে কিনা আমার জানা নাই।

এমতাবস্থায়, হাওরাঞ্চলের মানুষের জান-মাল রক্ষায় সুবিধাজনক স্থানসমূহে কয়েকটি জল-স্থলে চলাচল উপযোগী দমকল স্টেশন স্থাপনের জোর দাবী করছি ।
===========
ড নিয়াজ পাশা
একজন কৃষি প্রকৌশলী এবং একজন হাওর ভূমিপুত্র
০৩ জুলাই, ২০১৬
০১৭২৭ ০৭৪ ৫৮৪