Sunday, 27 May 2018

 

‘বড়’ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ-গবেষকদের সতর্কতা

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম,পরিবেশ ডেস্ক:ভূ-গাঠনিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এবং ভারতের পূর্বাঞ্চল ‘বড়’ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছন যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের একদল গবেষক। সোমবার এই গবেষণা প্রতিবেদনটি, নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

 ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, এখনই বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠবে এমন কথা বলা না গেলেও দুটি গতিশীল ভূগাঠনিক প্লেট পরস্পরের ওপর চেপে বসতে থাকায় সেখানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে। এতে অন্তত ১৪ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গবেষক দলের প্রধান নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ মাইকেল স্টেকলার বলেন, ওই ধরণের ভূমিকম্প কবে ঘটতে পারে, সে পূর্বাভাস আরও গবেষণা না করে দেওয়া সম্ভব নয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও অন্যতম দরিদ্র এই অঞ্চলে এ ধরণের একটি ভূমিকম্প মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তেমন কোনো ভূমিকম্প হলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা ভবন, ভারী শিল্প, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গ্যাস ক্ষেত্রগুলো ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে বলে গবেষকরা আশঙ্কা করছেন।তাদের এই গবেষণায় প্রায় ৬২ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে এই ভূমিকম্পের ঝুঁকির আওতায় বলা হয়েছে।

দশ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি কম্পিউটার মডেল তৈরির মাধ্যমে তারা দেখিয়েছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্ব অংশের ভূ-গাঠনিক প্লেট উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়ে মিয়ানমারের পশ্চিম অঞ্চলের ভূ-গাঠনিক প্লেটে চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে সৃষ্টি হচ্ছে অস্থিরতা।

২০০৪ সালে যে ফল্ট লাইনের ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামিতে ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, সেই একই ফল্ট লাইনে নতুন এই ভূমিকম্পের আশঙ্কা দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

জিওসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের লিংক: http://www.nature.com/ngeo/journal/vaop/ncurrent/full/ngeo2760.html