Friday, 15 December 2017

 

টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা ও ধান গবেষণার ভিশন ২০৫০

কৃষিবিদ এম. আব্দুল মোমিন: আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশে খাদ্যশস্য বলতে আমরা ধানকেই বুঝে থাকি। ধানকে এদেশের জাতীয় সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইরি’র মাসিক মূখপত্র রাইস টুডে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা বলতে মূলত ধান বা চালের নিরাপত্তাকেই বোঝায়। ক্রিশ্চিয়ান সাইন্স মনিটর পত্রিকায় ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, অতীতের তীব্র খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ বর্তমানে উদীয়মান অর্থনীতির নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, অতীতের তলাবিহীন ঝুড়ি এখন শক্ত ভিত্তির উদ্বৃত্ত খাদ্যের বাংলাদেশ; যা সম্ভব হয়েছে ধান গবেষণার অর্জিত সাফল্যের কারণেই।

এ অর্জনের ইতিবাচক মূল্যায়ন দেশে যেমন হচ্ছে তেমনি হচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও। শুধু বাংলাদেশের ১৬ থেকে ১৮ কোটি মানুষের প্রধান আহার নয়, ধান থেকে পাওয়া চালকে প্রধান খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বেঁচে থাকে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্টি। বিশ্বের শতকরা ৬০ভাগ লোকের প্রধান খাবার চাল বা চাল থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন খাদ্যপণ্য। আর দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রধান খাদ্য ভাত। বিশ্বের ৯০ভাগ ধান উৎপাদন ও ব্যবহার হয়ে থাকে এশিয়া অঞ্চলে। এ কারণে বলা হয়, রাইস ইজ লাইফ ইন এশিয়া। একইভাবে, রাইস ইজ লাইফ ইন বাংলাদেশ।

বর্তমান স্বয়ংসম্পূর্ণতা বা উদ্বৃত্ত উৎপাদন একদিনে অর্জিত হয়নি এর পেছনে রয়েছে সরকারের কৃষি বান্ধব নীতি, ধান বিজ্ঞানীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং কৃষকের নিরলস পরিশ্রম। প্রশ্ন হচ্ছে এই স্বয়ংসম্পূর্ণতা টেকসই হবে কিনা? কারণ টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের বড় চ্যালেঞ্জ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, ক্রমহ্রাসমান সম্পদ (কৃষিজমি, শ্রমিক, পানি ইত্যাদি) এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত (বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা প্রভৃতি)। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং পদক্ষেপ।

সম্প্রতি ব্রিতে অনুষ্ঠিত ২৩তম ধান গবেষণা ও সম্প্রসারণ কর্মশালায় Rice Vision for Bangladesh: 2050 and Beyond শীর্ষক মূল প্রবন্ধে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নানা সুপারিশ উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে আগামি দিনের চালের সঠিক মাথাপিছু চাহিদা নিরূপন, সীমিত সম্পদের যৌক্তিক ব্যবহার এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত যুগোপযোগী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের দিকনির্দেশনা।

বৈশ্বিক হিসেবে, বিশ্বের ১৬ কোটি হেক্টর ধানি জমিতে ৪৭ কোটি টন চাল উৎপন্ন হয়। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের যে জনসংখ্যা হবে তার চাহিদা পূরণ করতে প্রয়োজন হবে আরো ২৫ ভাগ বাড়তি উৎপাদন। ইউএনপিডির একটি গবেষণায় বলা হচ্ছে, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল শতকরা ২.৮৫ ভাগ এবং ২০১৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ১.২২ ভাগে। এই হিসেবে বাংলাদেশে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২১ কোটি ৫৪ লাখ এবং স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীতে অর্থাৎ ২০৭১ সালে ২৪ কোটি ২৮ লাখে এসে স্থিতিশীল হবে। অর্থাৎ সর্বোপরি ২৫ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা নিশ্চিত করার চিন্তা মাথায় রেখে বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে মাথাপিছু চালের চাহিদা বছরে জনপ্রতি ১৪৮ কেজি। যা খাদ্যের বহুমুখিতা ও খাদ্যাভাসের পরির্বতনের দরুন প্রতিবছর ০.৭% হারে কমছে। সে হিসেবে ২০৪০ সাল নাগাদ মাথাপিছু চালের চাহিদা কমে জনপ্রতি প্রান্তিক সীমা (Threshold Level) ১৩৩ কেজিতে দাঁড়াবে। এজন্য ২০৫০ সাল নাগাদ জনসংখ্যা বাড়লেও খাদ্যের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কমবে।

বর্তমান সরকারের জনবান্ধব কৃষিনীতি ও বিভিন্ন পদক্ষেপ যেমন-সার এবং তেলের দাম কমানো, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি কৃষিতে প্রণোদনা প্রদান, সার বিতরণ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, উন্নত মানের ধানের বীজ সরবরাহ, বিভিন্ন ঘাত সহিঞ্চু জাত উদ্ভাবন ইত্যাদি গ্রহণের ফলে বিগত বছরগুলোয় চালের উৎপাদন ৩.৪ লক্ষ টন হারে বেড়েছে। বর্তমানে চালের উৎপাদন ৩ কোটি ৮৬ লাখ টন। গতিশীলতার এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে চালের উৎপাদন হবে ৪ কোটি ৭২ লাখ টন। বিপরীতে ২০৫০ সালে ২১ কোটি ৫৪ লাখ লোকের খাদ্য চাহিদা পূরণে চাল প্রয়োজন হবে ৪ কোটি ৪৬ লাখ টন। এটাই আপাতত টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের অভীষ্ট লক্ষ্য, যা সামনে রেখে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)।

টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণে প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্রম হ্রাসমান কৃষি জমি। এটি মোকাবেলায় প্রয়োজন আধুনিক ধানের জাতগুলোর কৌলিতাত্ত্বিক বা জেনেটিক গেইন ত্বরান্বিতকরণ। দেশে প্রতি বছর ধানি জমি কমছে ০.৪% হারে; ফলে চাষের জমি সম্প্রসারণের সুযোগ নেই। উৎপাদন বাড়াতে হবে উলম্বভাবে (Vertical expansion)। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে আধুনিক জাতগুলোর গড় ফলন ৩.১৭ টন/হেক্টর। অত্যাধুনিক ব্রিডিং কৌশল অবলম্বন ও মাঠ পর্যায়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে গড় ফলন ৪.৮২ টন/হেক্টর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব। এতে প্রতিবছর জেনেটিক গেইন হবে ০.৪৪ টন/হেক্টর। বর্ধিত জনগোষ্ঠির খাদ্য চাহিদা পূরণে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি প্রয়োজন গবেষণা মাঠ ও কৃষক পর্যায়ে ফলনের পার্থক্য কমানো। বাংলাদেশে ধানের প্রকৃত ফলন ও সম্ভাব্য ফলনের পার্থক্য ০.৮৩ টন/হেক্টর। উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ পার্থক্য প্রতি বছর ১.১৩৫% হারে হ্রাস করতে পারলে ২০৫০ সালে ৪৮ লক্ষ টন উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সীমিত ও ক্রমহ্রাসমান সম্পদের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। বর্তমান ০.৪% হারে ধানি জমি কমলেও আমাদের মোট ধানি জমি ৬.২৯ মিলিয়ন হেক্টর নিশ্চিত করা গেলেই মোট চালের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে জমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ ২.০-২.৪ % পর্যন্ত বাড়াতে হবে। ধান ২০ সেমি নাড়া/খড় রেখে কর্তনের পর তা চাষ দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিলেই জমির জৈব পদার্থের পরিমাণ ২.৪% উন্নীত করা সম্ভব। আরেকটি উপায় হচ্ছে ধান ভিত্তিক শস্য বিন্যাসে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি, নতুন নতুন স্বল্পমেয়াদি জাতগুলো চাষের মাধ্যমে একই জমি থেকে বছরে অধিক পরিমাণে আয় করা। গবেষকরা বলছেন, শস্য চাষের নিবিড়তা ২০৫০ সাল নাগাদ ২২১% এর বেশি বাড়ানো সম্ভব হবে না।

তৃতীয়ত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ধান চাষে সেচ বা পানি সরবরাহের নিশ্চয়তা। ধান একটি পানি পছন্দকারী ফসল। আউশ ও আমন বৃষ্টি নির্ভর হলেও বোরো মৌসুমে ধানের জমি সেচের কাজে ব্যবহৃত হয় ভূগর্ভস্থ পানি যা ভবিষ্যৎ আশংকার কারণ। কেননা; অনবরত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন ও ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে সুপেয় পানির অভাব দেখা দিতে পারে। এজন্য বৃষ্টি নির্ভর আউশ ও আমনের আবাদ বাড়াতে হবে।

কৃষিতে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে বর্হিবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরও ধান চাষে আধুনিক জাত এবং প্রযুক্তির বিস্তার ও ব্যবহার বাড়াতে হবে। সেকেলে প্রযুক্তি আর প্রচলিত ধানের জাত দিয়ে এটা কখনোই সম্ভব নয়। যেমন; স্বল্পকালীন রোপা আমনে প্রচলিত জাত ব্রি ধান৩৩ এবং ব্রি ধান৩৯ এর পরিবর্তে আধুনিক জাত ব্রি ধান ৬২, ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১ ও ব্রি ধান৭২ এবং ব্রি হাইব্রিড ধান৪ চাষ করতে হবে। মধ্য মেয়াদি আমনে আগের জনপ্রিয় জাত বিআর১১, ব্রি ধান৩৭, ব্রি ধান৩৮ এর পরিবর্তে ব্রি ধান৪৯ ও ব্রি ধান৭০ এর চাষ করা যেতে পারে।

উত্তরের জেলাগুলোতে যেখানে বৃষ্টিনির্ভর স্বর্ণা জাতের প্রচলন রয়েছে সেখানে ব্রি উদ্ভাবিত আধুনিক আমন জাতসমূহ যেমনঃ ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭০, ব্রি ধান৭১, ব্রি ধান৭২ জাতগুলো প্রবর্তন করা গেলে ফলনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এছাড়া অঞ্চলভেদে খরাসহনশীল ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১, জলমগ্নতা সহনশীল ব্রি ধান৫১ ও ব্রি ধান৫২, লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি ধান৪১, ব্রি ধান৪৭, ব্রি ধান৫৪ এবং ব্রি ধান৭৩, বন্যাত্তোর বিআর২২, বিআর২৩, ব্রি ধান৪১ এবং জোয়ারের পানি যেখানে জমে যায় সেসব এলাকায় ব্রি ধান৪৪, ব্রি ধান৭৬, ব্রি ধান৭৭ চাষ করে কাঙ্খিত উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।

আবার বোরো মৌসুমে মেগা জাত (সর্বাধিক জনপ্রিয়) হিসেবে খ্যাত ব্রির জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান২৮, ও ব্রি ধান২৯ এর চেয়েও অনেক ভালো জাত বর্তমানে রয়েছে, যার মধ্যে ব্রি ধান৫০, ব্রি ধান৫৮ ব্রি ধান৬০, ব্রি ধান৬৩, ব্রি ধান৭৪ এবং ব্রি হাইব্রিড ধান৩ উল্লেখযোগ্য। লবণাক্ততা প্রবণ এলাকার জন্য ব্রি ধান৪৭ এর আধুনিক সংস্করণ ব্রি ধান৬৭। আউশে পারিজা, জামাইবাবু ও বিআর২৬ এর পরিবর্তে যথাক্রমে ব্রি ধান৪৮, ব্রি ধান৬৫ এবং নেরিকা মিউটেন্ট প্রবর্তন করে অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব।

আরেকটি লক্ষনীয় বিষয় হলো, গরু বা মহিষ দিয়ে হালচাষ এখন ইতিহাস। ধানের ক্ষেতে এখন শতভাগ কলের লাঙলের চাষ হয়। চারা রোপণ, আগাছা নিধন থেকে ধান কাটা ও মাড়াই সব কিছুতেই লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। ব্রি বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত দেশের কৃষকদের ব্যবহার উপযোগী ৩২টি কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও উন্নয়ন করেছে; এবং শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত ৬০ ভাগ ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষক পর্যায়ে বিতরণ করছে।

উৎপাদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো ভালো বীজ। কথায় বলে ভালো বীজে ভালো ফলন। ভালো বীজের অভাবে আমাদের কৃষকরা প্রায়শই প্রতারিত হন। বিষয়টি মাথায় রেখে ব্রি প্রতি বছর ১০০ টনের অধিক ব্রিডার (প্রজনন) বীজ উৎপাদন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষকের দোড়গোঁড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়া ব্রি থেকে ভিত্তি বীজ ও টিএলএস বিতরণের পরিমাণ প্রতি বছর বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

Rice Vision for Bangladesh: 2050 and Beyond শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধের প্রধান প্রবন্ধকার ও ব্রির পরিচালক প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা ড. মো: শাহজাহান কবীরের মতে, ‘শুধুমাত্র ভালো জাত উদ্ভাবনই নয়, কৃষকের কাছে এসব জাত পৌঁছানোও বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে একটি জাত উদ্ভাবন করতে প্রায় ১৫ বছর সময় লাগে এবং সেটি কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় করতে লেগে যায় আরো প্রায় ১৩-১৯ বছর। এ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার লক্ষ্যে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।’

(নিবন্ধটি সম্প্রতি ব্রিতে অনুষ্ঠিত ২৩তম ধান গবেষণা ও সম্প্রসারণ কর্মশালার মূল প্রবন্ধ Rice Vision for Bangladesh: 2050 and Beyond ধহফ ইবুড়হফ অবলম্বনে রচিত ও সংকলিত, কৃতজ্ঞতা সকল প্রবন্ধকারদের প্রতি)।

লেখক: ঊর্ধ্বতন যোগাযোগ কর্মকর্তা, ব্রি, গাজীপুর। মেইল: