Friday, 23 February 2018

 

হিট স্ট্রেস (Heat Stress):গ্রীষ্মকালের বড় সমস্যা

কৃষিবিদ রুহুল আমিন মন্ডল:গ্রীষ্মকালে আমাদের দেশের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে এর উপরে চলে যায়। এই সময় উচ্চ উৎপাদনশীল মুরগীর জন্য যে সমস্যা বড় আকার ধারণ করে তা হলো হিট স্ট্রেস (Heat Stress)। এই সময় পানির দুষ্প্রাপ্ততা, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া ছাড়াও পানিতে ব্যাকটেরিযার পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে মুরগী বড় ধরনের ধকলে আক্রান্ত হয় ।

মুরগীর জন্য আদর্শ্ তাপমাত্রা :
মুরগী সাধারণত ১৮-২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস (৬৫-৭৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট) পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রায় আরাম অনুভব করে। এই তাপমাত্রাকে আরামদায়ক অঞ্চল (comfort zone) বা (Zone of thermoneutrality) বলে। এই আদর্শ্ তাপমাত্রার উপরে বা নিচে সর্বাবস্থায় মুরগী অস্বস্থি অনুভব করে, যাকে স্ট্রেস বলা হয়।



হিট স্ট্রেস কি?
পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা, আদর্শ্ তাপমাত্রার (১৮-২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস) উপরে উঠলেই মুরগীর জন্য অস্বস্থি অনুভূত হয় ।পরিবেশের তাপমাত্রা উপরে উঠতে উঠতে একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করার পর মুরগী তার স্বাভাবিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। তখন তাকে হিট স্ট্রেস বলে।

কেন হিট স্ট্রেস হয়:

মুরগীর শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রী সেলসিয়াস (১০৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট)। মুরগী সর্বাবস্থায় এই তাপমাত্রা (৪১ ডিগ্রী সেলসিয়াস) নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু মুরগীর নিজস্ব মেটাবলিজম প্রক্রিয়ায় শরীরের ভিতর তাপ উৎপন্ন হয়। এ ছাড়াও বাহিরের কিছু কিছু উৎস মুরগীর শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় যেমন:দৈনন্দিন পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা, বৈদ্যুতিক আলোর তাপমাত্রা, মটরের তাপমাত্রা ইত্যাদি। মানুষসহ অন্যান্য প্রাণির যেমন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘর্ম্ গ্রন্থি (Sweat gland) আছে কিন্তু মুরগীর  তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন ঘর্ম্ গ্রন্থি নেই। যার ফলে মুরগীর শরীরের উৎপন্ন তাপমাত্রা শরীরের সাথেই থেকে যায়। আবার পরিবেশের তাপমাত্রা (Ambient temparature) যদি খুব বেশি হয় (২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর উপরে) তাহলে মুরগীর অনুভূত তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এই অবস্থায় মুরগীর ডিম উৎপাদন কমে যায়। দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়, সর্বপরি মৃত্যুর হার(Mortality) বেড়ে যায়। একে হিট স্ট্রেস বলে।

মুরগীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কৌশল:
যদিও মুরগীর শরীরে ঘর্ম্ গ্রন্থি (Sweat gland) নেই তথাপিও কয়েকটি উপায়ে মুরগী তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। নিম্ন পাঁচটি প্রাকৃতিক উপায় যা দ্বারা মুরগী তার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, বর্ণনা করা হল:

১.বিকিরণ:ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের সাহায্যে মুরগী তার শরীরের তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রার বস্তুতে (যেমন:বাতাস, দেয়াল, সিলিং ইত্যাদি) স্থানান্তরিত করে।
২.পরিচলন:চলন্ত ঠাণ্ডা বাতাসের মাধ্যমে মুরগী তার শরীরের তাপমাত্রা বের করে দেয়।
৩.পরিবহন:মুরগী তার শরীরকে অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা বস্তুর সংস্পর্শে আনে যেমন :লিটার, স্লাট, খাঁচা,পানির লাইন, নেস্ট বক্স ইত্যাদি। এতে তার শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে।
৪.বাষ্পীভবন:পালকবিহীন চামড়া, মুখ হা করে নিঃশ্বাস নেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে পানি বাষ্পীভবন করে মুরগী তার শরীরের তাপমাত্রা বের করে দেয়।
৫.রেচনতন্ত্র: গ্রীষ্মকালে মুরগী সাধারণত দ্বিগুণ পরিমাণ পানি পান করে এবং প্রচুর পরিমাণ প্রস্রাব ও পাতলা পায়খানার মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা বের করে দেয়।

উপরিউক্ত ৫টি পদ্ধতির মাধ্যমে মুরগী তার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা (৪১ ডিগ্রী সেলসিয়াস) নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু যদি পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা অত্যাধিক বাড়ার কারণে শরীরের ভিতরের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে যায় তাহলে এই অবস্থায় মুরগীর মৃত্যু হয়।

হিট স্ট্রেসের তাপমাত্রার ব্যাপ্তির উপর শারীরিক পরিবর্তনের (Physiological Change) চিত্র:

পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা  (Ambient temperature)  রেসপিরেশন রেট  (Respiration rate) শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন (Physiological change)
১৮-২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস ২০-৩০ শ্বাস/মিনিট • সমস্ত কার্যকলাপ স্বাভাবিক
২৫-২৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস ৫০-১৮০ শ্বাস/মিনিট

• খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়

• লিটারের সংস্পর্শে বেশি থাকে

• ডিম উৎপাদন কমে যায়

• ডিমের আকার ছোট হয়ে যায়

৩০-৩৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস ১৮০-২৫০ শ্বাস/মিনিট

• পানি গ্রহণের পরিমাণ কমে  যায়

• প্রস্রাব ও পাতলা পায়খানা বেশি করে

• ডিমের খোসার কোয়ালিটি খারাপ হয়

• সর্বোপরি মৃত্যুর হার বেড়ে যায়

৩৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর উপরে ২৫০ এর উপরে  শ্বাস/মিনিট 

• মৃত্যুর হার নিয়ণ্ত্রণের বাইরে চলে যায়

হিট স্ট্রেসের লক্ষণ সমূহ:  

   

মুখ হা করে শ্বাস নেওয়া হিট স্ট্রেসের প্রথম, প্রধান এবং নিশ্চিত লক্ষণ। হিট স্ট্রেসের সমস্ত লক্ষণ সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা য়ায়। নিম্নে সেগুলো বর্ণনা করা হল:

ক) দৃশ্যমান লক্ষণ সমূহ (Visible signs):
১.মুখ হা করে শ্বাস নেওয়া
২.শ্বাস প্রশ্বাসের হার প্রতি মিনিটে ২৫০ এর উপরে যাওয়া
৩.দুই পাখা ছড়িয়ে দেয়
৪.লিটারে শোয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়
৫.নিম্ন তাপমাত্রার বস্তুসমূহ যেমন পানির পাইপ, নেস্ট বক্স, কনক্রিট মেঝের সাথে শরীর ঘষতে থাকে
৬.মুরগীর ভিতর এক ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়
৭.পালকগুলো উসখো খুসকো দেখায়
৮.ঠোকরা ঠুকরির (Cannibalism) পরিমাণ বেড়ে যায়
৯.ডিম উৎপাদন কমে যায়
১০.প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়, সাথে প্রচুর পরিমাণে ইলেক্ট্রোলাইট থাকে
১১.পানি গ্রহণের পরিমাণ ২-৩ গুণ বেড়ে যায়
১২.মৃত্যুর হার বেড়ে যায়
১৩.পাতলা পায়খানা করে।পায়খানাতে পানির পরিমাণ বেশি
১৪.অ্যাসাইটিস (Ascites) অর্থাৎ পেটে পানি জমে
১৫.ওজন কমে যায়
১৬.ইউনিফরমিটি (Uniformity) ব্যহত হয়
১৭.ফিড হজমের ক্ষমতা কমে যায়
১৮.ডিমের খোসা পাতলা হয়
১৯.ডিমের ওজন কমে যায়
২০.ব্রীডার মুরগীতে ফার্টিলিটি কমে যায় কারণ মেটিং কম করে।সিমেনের (Semen) কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যায়

খ) অদৃশ্যমান লক্ষণ সমূহ (invisible sign):
১.রক্তের PH বেড়ে যায়
২.কোষের PH কমে যায়
৩.প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে ফলে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি দেখা দেয়
৪.রক্তে স্ট্রেস হরমোন বিশেষ করে করটিকোস্টেরয়েড বেশি পাওয়া যায়
৫.হিট শক প্রোটিন (Heat shock protein) তৈরি হয় ফলে মেটাবলিজম ব্যহত হয়
৬.ক্ষুদ্রাণ্ত্রের নড়াচড়া (Intestinal motility) কমে যায়
৭.সুবিধাভোগী জীবাণুর বংশবিস্তার দ্রুত ঘটে
৮.শরীরের ভারসাম্য (Homeostasis) নষ্ট হয়

পোস্টমর্টেমের লক্ষণ সমূহ:
১.হৃদপিণ্ড আকারে বড় হয়ে যায়
২.হৃদপিণ্ডের ভিতর রক্ত জমাট বেঁধে থাকে
৩.সেরেব্রাল হিমোরেজ (Cerebral hemorrhage) পাওয়া যায়


৪.বুকের মাংস (Breast muscle) শুষ্ক থাকে
৫.রক্ত স্বভাবিকের চেয়ে কালো ও অপেক্ষাকৃত ভারী (Thicker) হয়
৬.ক্রপ এবং গিজার্ড খালি থাকে
৭.কিডনী ফোলা থাকে এবং তাতে রক্ত ও প্রস্রাব জমা থাকে

হিট স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব:
ক) অভ্যন্তরীণ অঙ্গে রক্ত সরবরাহে স্বল্পতার কারণে নিম্নোক্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়
১.খাদ্যকণা ঠিকমত হজম হয় না
২. FCR বেড়ে যায়
৩.অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় যার ফলে অণ্ত্রে প্রদাহের সৃষ্টি হয় (Enteritis)

খ) শরীরে অম্ল-ক্ষারের অসামঞ্জস্যতা:
অনবরত উর্ধ্বশ্বাস ফেলার কারণে (Panting) বেশি পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয়ে যায়। ফলে রক্তের PH বেড়ে যায় (Alkaloidosis)। কিডনী এই অম্ল ক্ষারের অসামঞ্জস্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য বেশি পরিমাণে বাইকার্বনেট (HCO3-) প্রস্রাবের সাথে বের করে দেয় এবং ক্লোরিন আয়ন (Cl-) প্লাজমাতে জমিয়ে রাখে ফলে সিস্টেমিক অ্যাসিডোসিস (Systemic Acidosis) হয়।

ফলাফল এই দাঁড়ায় যে, হিট স্ট্রেসের কারণে প্রথমে অ্যালকালোইডোসিস (Alkaloidosis) হয় এবং পরবর্তীতে তা থেকে সিস্টেমিক অ্যাসিডোসিস (Systemic Acidosis) হয়।

এই হিট স্ট্রেসে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) ০.৩-১% এবং সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3) ১-২% খুব ভাল কাজ করে। অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড রক্তের PH কে কমিয়ে দেয় এবং সোডিয়াম বাই কার্বনেট অ্যাসিডোসিসকে রোধ করে।

গ) ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি:
কোষের জন্য সোডিয়াম আয়ন (Na+) ও পটাসিয়াম আয়ন (K+) খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট। এই ইলেক্ট্রোলাইটগুলো কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু যখন মুরগী হিট স্ট্রেসে পরে তখন শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে বাইকার্বোনেট( HCO3-) বের হয়ে যায়। যেহেতু বাইকার্বোনেট নেগেটিভ চার্জযুক্ত সেহেতু বাইকার্বোনেট প্রস্রাবের সাথে বের হওয়ার সময় পজেটিভ চার্জযুক্ত সোডিয়াম ও পটাসিয়াম আয়ন সাথে নিয়ে বের হয়ে যায়। এতে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি দেখা দেয়।

ঘ)শরীরে পানির অসামঞ্জস্যতা:
হিট স্ট্রেসে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। হিট স্ট্রেসের সময় মুরগীর শ্বাস প্রশ্বাসের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে পানি প্রশ্বাসের মাধ্যমে বাষ্পীভূত হয়। এতে মুরগী পানি শূন্যতায় ভোগে। রক্তে পানির পরিমাণ কমে কমে যায় বলে রক্তের ঘণত্ব বেড়ে যায় এবং রক্ত চাপ কমে যায়।

ঙ) রোগ প্রতিরোধের অক্ষমতা(Immune suppression):
গরম আবহাওয়ায় মুরগীর অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে কর্টিকোস্টেরয়েড হরমোন নিঃসৃত হয় যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। তাছাড়াও রক্তে ভিটামিন সি এর পরিমাণ কমে যায়।

হিট স্ট্রেস রোধ করার উপায়:

১.ভেনটিলেশন (বায়ু চলাচল):
স্ট্রেসের সময় শেডের ভিতর পর্যাপ্ত পরিমাণ বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যদি শেডের ভিতরের তাপমাত্রা অত্যাধিক পরিমাণে বেড়ে যায় (৩০0 সেলসিয়াস এর উপরে) তাহলে অবশ্যই কুলিং প্যাড চালু করতে হবে।
২.খাদ্য সরবরাহ:
অত্যাধিক তাপমাত্রার সময় ফিডিং বন্ধ রাখতে হবে। সচরাচর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪.৩০ পর্যন্ত তাপমাত্রা বেশি থাকে।এই সময় ফিডিং করা যাবেনা। কারণ ফিডিং করলে খাবার হজমের (ডাইজেশনের) সময় অতিরিক্ত ৭% তাপমাত্রা শরীরে উৎপন্ন হয় যা ৪-৫ ঘন্টা বিদ্যমান থাকে। তাই হিট স্ট্রেস বন্ধ করার জন্য অবশ্যই মুরগীকে ভোরে ফিডিং করতে হবে।
৩.পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ:
হিট স্ট্রেসের সময় মুরগীকে ঠাণ্ডা পানি (১০-১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস) সরবরাহ করতে হবে এবং পানির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুগ করতে হবে। বিশেষ করে দুপুরের সময় আরো বেশি ঠাণ্ডা (৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস)পানি সরবরাহ করতে হবে।
৪.হিট স্ট্রেসে চিকিৎসা:

মধ্যম পর্যায়ের হিট স্ট্রেসে নিম্ন-লিখিত উপাদান পানির সাথে সরবরাহ করতে হবে-

ক্রমিক নং উপাদান পরিমাণ
১. অ্যাসকরবিক এসিড(ভিটামিন সি) ৬২.৫ মিলিগ্রাম/লিটার
২. অ্যাসিটাইল স্যালিসাইলিক এসিড ৬২.৫ মিলিগ্রাম/লিটার
৩. সোডিয়াম বাই কার্বোনেট ৭৫.০  মিলিগ্রাম/লিটার
৪. পটাসিয়াম ক্লোরাইড ১২৫.০ মিলিগ্রাম/লিটার

                 
অত্যধিক পর্যায়ের হিট স্ট্রেসে নিম্ন-লিখিত উপাদান পানির সাথে সরবরাহ করতে হবে-

ক্রমিক নং উপাদান পরিমাণ
১. অ্যাসকরবিক এসিড(ভিটামিন সি) ৪০০ মিলিগ্রাম/লিটার
২. অ্যাসিটাইল স্যালিসাইলিক এসিড ৪০০ মিলিগ্রাম/লিটার
৩. সোডিয়াম বাই কার্বোনেট ১ গ্রাম/লিটার
৪. ইলেক্ট্রোলাইট পর্যাপ্ত পরিমাণ


৫.ফিড ফর্মুলেশন:

গ্রীষ্মকালে বিশেষ করে যে সময়টাতে তাপমাত্রা বেশি থাকে সেই সময় ফিড ফর্মুলেশনে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহন করলে হিট স্ট্রেস অনেকাংশে কমানো যায়।

ক) ক্রুড প্রোটিন: গ্রীষ্মকালে প্রোটিনের উৎস হিসেবে উদ্ভিজ উৎসকে বাছাই করলে খুবই ভাল হয়। কারণ প্রাণিজ প্রোটিন ডাইজেশনের সময় বেশি হিট তৈরি হয়।
খ) ভিটামিন সি: হিট স্ট্রেসের সময় ভিটামিন সি এর পরিমাণ কমে যায় ফলে ফিডের সাথে অতিরিক্ত ভিটামিন সি সরবরাহ (৫০০-১০০০ গ্রাম/টন) করতে হয়। উল্লেখ থাকে যে, ফিডে ভিটামিন সি সরবরাহ করলে, পানিতে দেয়ার প্রয়োজন নেই।
গ) সোডিয়াম বাই কার্বোনেট: সোডিয়াম বাই কার্বোনেট ফিডের সাথে দিলে পানি গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং সিস্টেমিক এসিডোসিস কে রোধ করে।
ঘ) বিটেইন: বিটেইন কোষের মধ্যে পানির সামঞ্জস্যতা ঠিক রাখে বা অসমোলাইট হিসেবে কাজ করে।
ঙ) অ্যান্টি অক্সিডেন্ট: হিট স্ট্রেসে অক্সিডেটিভ মেটাবলিজম বেশি হয় ফলে বেশি পরিমাণে মুক্ত রেডিক্যাল তৈরি হয়।আর এই মুক্ত রেডিক্যালগুলো কোষের পদার্থকে নষ্ট করে দেয়।এই মুক্ত রেডিক্যালকে রোধ করার জন্য ফিডের সাথে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যোগ করতে হয়। অ্যান্টি অক্সিডেন্টের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ই, সিভিটামিন-সি, BHA, BHT, EQ ইত্যাদি।
চ) অ্যান্টিকক্সিডিয়াল: গ্রীষ্মকালে নিকারবাজিন, মোনেনসিন ফিডে দেওয়া ঠিক না। কারণ এগুলো পানি গ্রহণের মাত্রাকে কমিয়ে দেয়।
ছ) ভিটামিন কে: গ্রীষ্মকালে ঠোট কাটতে চাইলে (ডিবেকিং) ফিডে ভিটামিন কে দিতে হয়। কারণ হিট স্ট্রেস রক্ত জমাট বাঁধার সময়কে দীর্ঘায়িত করে।
জ) টক্সিন বাইন্ডার: গ্রীষ্মকালে যখন আর্দ্রতা বেশি থাকে সেই সময় ফিডে টক্সিন তৈরি হয় যা রোধ করার জন্য টক্সিন বাইন্ডার দিতে হয়।

৬.গ্রীষ্মকালে পানিতে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেশি থাকে, ফলে পানি সঠিক মাত্রায় বিশুদ্ধ করতে হবে। তাছাড়াও পানির পাইপ, ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

৭.লিটার ব্যবস্থাপনা: যেহেতু গ্রীষ্মকালে পানিগ্রহণ বেশি করে এবং প্রস্রাবের পরিমাণও বেড়ে যায় ফলে লিটার ভিজে যায় এবং অ্যামোনিয়া বেশি উৎপন্ন হয়। তাই লিটার শুষ্ক রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে।
=================
লেখক পরিচিতি:-
সিনিয়র ফার্ম ম্যানেজার
নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী লিঃ
ইমেইল:
মোবাইলঃ ০১৯১৯-৮৪১৮৭৩

লাভজনক খামার করতে হলে মুরগির পালক বদলানো সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন

কৃষিবিদ রুহুল আমিন মন্ডল:প্রাকৃতিক নিয়মে মুরগির শরীরের পুরাতন পালক পড়ে নতুন পালক উঠার প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে মোল্টিং বলে। পালক বদলানোর স্বভাব থেকে একটি মুরগির ডিম উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে অনুমান করা যায়। তাই লাভজনকভাবে খামার করতে হলে মুরগির পালক বদলানো সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।

কৃষক পর্যায়ে মাস্কমেলন ফলটি জনপ্রিয় হওয়া সম্ভব-মত বিনিময় সভায় গবেষকরা

কৃষি গবেষণা ডেস্ক:দেশীয় জাতের তুলনায় স্বাদ, পুষ্টি ও অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক হওয়ায় কৃষক পর্যায়ে মাস্কমেলন ফলটি জনপ্রিয় হওয়া সম্ভব। বরেন্দ্র অঞ্চলসহ বাংলাদেশের সর্বত্র বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করার জন্য গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে গবেষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মুরগীর লিভার (কলিজা): একটি গুরুত্বপূর্ণ্ অঙ্গ

কৃষিবিদ রুহুল আমিন মন্ডল:সুস্হ মুরগীর জন্য সুস্হ লিভার অপরিহার্য্। মুরগীর ক্ষেত্রে লিভারকে সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি বলা যায়, কারণ শরীরবৃত্তীয় ৪০ টিরও অধিক বিক্রিয়া লিভারের সাথে সম্পর্ক্ যুক্ত ।লিভার ভাল থাকলে সমস্ত শরীরের অন্যান্য অঙ্গসমূহও ভাল থাকে। তাই কোন রোগ নির্ণয়ের জন্য মুরগীর পোস্টমরটেমের পরই যে অঙ্গ দেখতে হয়, তা হল লিভার। অনেক ইনফেকসাস ও টক্সিক রোগের লক্ষণ প্রথমে লিভারেই দেখা যায়।

ভ্রুণ থেকে ভেড়ার বাচ্চা উৎপাদনে সফালতা-জন্ম নিয়েছে উৎস ও আশা

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি:ভেড়ার ভ্রুণ উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং হিমায়িত ভ্রুণ প্রতিস্থাপন ও বাচ্চা উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের গবেষকরা। এ ধরনের কাজ বাংলাদেশে প্রথম হয়েছে বলে দাবি করছেন গবেষকরা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন যাবৎ কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থার প্রচলন থাকলেও নানা কারণে গবাদিপশু গর্ভধারণের হার এখন পর্যন্ত আশানুরূপ ছিল না। কম সময়ে উচ্চগুণ সম্পন্ন অধিক সংখ্যক গবাদি পশুর বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. নাছরিন সুলতানা জুয়েনা এবং প্রকল্পের সহকারী পরিচালক ড. ফরিদা ইয়াসমীন বারী গবেষণা শুরু করেন। তাদের এ কাজে সহযোগিতা করেছেন তিন জন পিএইচডি গবেষক ও  কয়েকজন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী।

টমালু-আলু টমেটো এক গাছে

আবুল বাশার মিরাজ:আলু বহুল প্রচলিত শীতকালীন সবজি, যা মাটির নিচে জন্মে। অপরদিকে টমেটো আরেকটি সবজি যা মাটির উপর জন্মে। কিন্তু একই গাছে মাটির নীচে হবে আলু আর মাটির উপরে লতানো গাছের ডালে ধরবে টমেটো। বাংলাদেশে জোড়কলম বা গ্রাফটিং পদ্ধতিতে এই গাছের উদ্ভাবনে সফলতাও পেয়েছেন। বেসরকারি আইইউবিএটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি নিয়ে গবেষণা করছেন কৃষি বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. এ এম ফারুক।

হাটহাজারীতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক গবেষণা সম্প্রসারণ পর্যালোচনা ও কর্মসূচী প্রণয়ন কর্মশালা-২০১৭ অনুষ্ঠিত

গবেষণা ডেস্কঃহাটহাজারীতে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) এর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এর সেমিনার কক্ষে ২৫ এপ্রিল  তিনদিন ব্যাপী চট্টগ্রাম অঞ্চল এর আঞ্চলিক গবেষণা-সম্প্রসারণ পর্যালোচনা ও কর্মসূচী প্রণয়ন কর্মশালা-২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এর মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আমীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, পরিচালক, বিএআরআই, গাজীপুর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো. রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক, ডিএই, চট্টগ্রাম।

চলুন, একজন স্বাপ্নিকের গল্প শুনবেন

ডা. এম. মুজিবুর রহমান:
স্বাপ্নিক চিনেন?
- হ্যাঁ, স্তন্যপায়ী প্রাণি। মানুষ।
বাদুড় চিনেন?
-হ্যাঁ, উড়তে পারা একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণি।
এদের মধ্যে বিরোধ কি নিয়ে জানেন?
- না তো! কি নিয়ে?

Fat digestion and broiler performance- A commercial view

Azimul Haque, Partha Pratim Das, Chandrasekar S, Saravanan Sankaran-Kemin Industries South Asia Pvt. Ltd.

Introduction: Modern broiler industry is aiming high towards attaining maximum productivity at sustainable input costs. Feed alone contributes almost 75 percent of the broiler production costs. Increased feed raw material price and efficient utilization of costly nutrients from feed have always been very challenging concerns towards deriving optimum Return On Investment (ROI). Fat whether from oil or other raw material source in broiler diet is an inevitable part. It reduces the passage rate of digesta inside the gut and helps in better absorption of nutrients. Fats also improves palatability of diets and is the highest contributor of energy per unit for the birds. Oils or fats from external source are one of the costliest nutrients for birds. So, optimum bioavailability of nutrients from fat should be ensured for desired economic return.

দেশে তেলের আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে আনতে জাপানি কৃষিবিদদের পরীক্ষামূলক তিল চাষ

কৃষি গবেষণা ডেস্ক:কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় পরীক্ষামূলক ভাবে তিল চাষ সম্প্রসারণের লক্ষে এদেশের বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ এবং জাপানি কৃষিবিদদের সমন্বয়ে উপজেলায় ১১টি জাতের তিলের ১১টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। ১০শতাংশের প্রতিটি প্লটে কৃষকদেরকে প্রযুক্তি, বীজ সরবরাহ এবং উপকরণ বাবদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।