Sunday, 19 November 2017

 

স্বপ্নের ক্যাম্পাসের টানে!

সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘বন্ধন ১৯৮৯-৯০’ ব্যাচের সকল অনুষদের পুনর্মিলনী। মায়াবী ক্যাম্পাসের টানে কর্মস্থল ছেড়ে ছুটে এসেছিলেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের সেই পুর্নমিলনীর গল্প শোনাচ্ছেন আবুল বাশার মিরাজ-

১৯৯০ সালের বাইশ ডিসেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তারা। বহু বছর পর তারা আবারও মিলিত হলেন বাঁধভাঙ্গা আবেগ আর উচ্ছাসে। গল্প আড্ডায় আর স্মৃতি কাতরতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই হারিয়ে যান প্রিয় ক্যাম্পাস বাকৃবিতে। কারণ এখানেই সূচিত হয়েছিল তাদের বন্ধুত্বের যাত্রা, দীর্ঘ ২৫ বছর আগে। প্রকৃতিকন্যা খ্যাত বাকৃবির সবুজ শ্যামলিমায় দীর্ঘ ৯ বছর ধরে লালিত পালিত ও বর্ধিত হয় তাদের বন্ধুতা। অতপর বিচ্ছেদ। কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে ছড়িয়ে পড়েন দেশজুড়ে। বাড়তে থাকে বিরহ যন্ত্রণা! এদিকে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলে মিলনের আকাংখা। অবশেষে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ওরা আবারও মিলিত হলেন।

পুনর্মিলনী উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাস আলোকসজ্জা করা হয়েছিল। সপ্তাহ জুড়েই চলছিল কাজটি। ক্যাম্পাসের বর্তমান শিক্ষার্থীর মুখে একটিই কথা। কি হতে যাচ্ছে, কিসের আয়োজন ! অবশেষে দিন ঘনিয়ে এল। ২৩-২৪ ডিসেম্বরে পুর্নমিলনীর নির্ধারিত তারিখে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আনোগোনায় ক্যাম্পাস ভরে গেলে সকলের বুঝার আর বাকি থাকল না। প্রিয় বন্ধু ও প্রিয় ক্যাম্পাসের টানে ওরা ছুটে এসেছেন দূর-দূরান্ত কর্মস্থল থেকে। ওদের সাথে এসেছিলেন স্বামী/স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে। তাদেরকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন ক্যাম্পাসের প্রিয় স্থান গুলোতে।  

পুনর্মিলনীর প্রথম দিনে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রাটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, শহীদ মিনার, বোটানিক্যাল গার্ডেন, কামাল রঞ্জিত মার্কেট, জব্বারের মোড় প্রশাসন ভবন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বরে অস্থায়ী মঞ্চও তৈরি করা হয়। এখানে পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। চলে হাসি, ঠাট্রা, টিপ্পনী, খুনসুটি, হৈ হুল্লোড় আর প্রাক্তন জুটিদের নিয়ে রম্যরস। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলানায়তনে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। ১৯৮৯-৯০ ব্যাচের  পারফার্মারদের পাশাপাশি সাঁওতালি নৃত্য পরিবেশন করেন ঢাকার একটি নৃত্যশিল্লী গোষ্ঠী। অতিথি শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন এ প্রজন্মের জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী মিলা। অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল আতশবাজি, ফান গেম, র‌্যাফেল ড্র প্রভৃতি।

পুনর্মিলনী উপলক্ষে অনূভুতি ব্যাক্ত করতে গিয়ে ড. মাহবুবা খাতুন স্বপ্না বলেন, এতদিন পর বন্ধুদের সাথে মিলতে পারাটা কত যে আনন্দের এটা বলে বুঝানো যাবে না। বারবার মনে হচ্ছে, একবার যদি ক্যাম্পাস জীবনে ফিরে যেতে পারতাম। সত্যিই ব্রহ্মপুত্র সবাইকে হাতছানি দিয়ে ডাকে, তাই এত বড় মিলন মেলা। তবে বিকেল হওয়া আসতে সবার ফিরে যাওয়া কষ্টের। ক্যাম্পাস জীবনে সাংস্কৃতিক চর্চা ও রাজনীতি করার দরুণ সবার কাছেই জনপ্রিয় একটি নাম ছিল মাসাহদুল হাসান আকিক। অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগ তাড়িত হয়ে যান। বললেন, চলার পথে ছোট্র এই পৃথিবীতে আবারো দেখা হয়ে যেতে পারে। যদি কোনভাবেই চিনতে পারি একে অপরকে। ফিরে যাবো যৌবনে। মেতে উঠবো হাসি খেলায় আর ভাসবো সুখের ভেলায়। অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ আনোয়ার চয়ন বললেন, দীর্ঘদিন পর সকল বন্ধু ক্যাম্পাসে মিলিত হয়ে মনে হল আমরা ফিরে গেলাম ২৫ বছর আগের সেই সোনালী দিনগুলিতে। এই অনুভুতি ভাষায় প্রকাশ করার নয়, এ যেন শুধুই অনুভব করার বিষয়।

অধ্যপক ড. তানভীর রহমান, অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান খোকন, অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন ও অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মানুষের জীবনে এমন কিছু স্মৃতি থাকে যা কোনদিনও ভুলার নয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনই এমন একটি জীবন ছিল আমাদের জীবনে। সময়ের সাথে জীবনের প্রয়োজনে একাকিত্বকে বরণ করতে হয়, তবে তোদের সাথে কাটানো মূহুর্তগুলো কখনও ভুলার নয়। টুম্পা, মনজু মিয়া, রফিকুল হক রাসু, সাদেক, এস এম এ খালিদরা বললেন, আমরা আবারও মিলিত হব। সিক্ত হব পরস্পরের ভালবাসায়। বিমূঢ় হবে স্মৃতি কাতরতায়। পূর্ণ হবে কানায় কানায়।
==============
লেখক: শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক
ইমেইল: