Monday, 18 December 2017

 

কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে- কৃষিবিদ কায়সার

মোঃ আব্দুল্লাহ আল জাবেরঃ কৃষিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিলেও সংশ্লিষ্ট কোন খাতে না থেকে অন্যদিকে চলে গিয়েছেন অনেকেই। তবে যেখানেই যান না কেন, কৃষির প্রতি একটা টান থেকেই যায়। কৃষি বিষয়ক যে কোন সভা-সেমিনার, অনুষ্ঠান বা মেলায় তাই তদের উপস্থিতি দেখা যায় প্রায়ই। কর্পোরেট জীবনের ব্যস্ততাকে পেছনে ফেলে হৃদয়ের টানে ৭ম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলায় তেমনি হাজির হয়েছিলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ তম ব্যাচের কৃতী শিক্ষার্থী কৃষিবিদ ডঃ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। পরিচিতজনেরা যাকে কৃষিবিদ কায়সার নামেই ডাকেন।

মেলায় এসে স্টলগুলো ঘুরে দেখে নিজের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, কালের বিবর্তনে প্রথাগত কৃষি এখন কৃষি শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এ ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে আয়ের উৎস ও চাকুরির ক্ষেত্র হিসেবে কৃষি এখন ভাল একটি খাত।

তিনি আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কৃষি জমিতে নগরায়নের ফলে চাষযোগ্য জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। কিন্তু এত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে এখন বাইরে চাল রপ্তানি করছি। যা উন্নত জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি এসব উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে সফল হয়েছে। তবে এখন চ্যালেঞ্জ হলো এ সফলতাকে ধরে রাখা। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

তিনি মনে করেন, বিগত কয়েক বছরে কৃষি প্রযুক্তি অনেক এগিয়েছে। কয়েক বছর আগেও এমন আন্তর্জাতিক মানে কৃষি প্রযুক্তি মেলার কথা কেউ না ভাবলেও এখন এটি বাস্তবতা। তবে এ ধরণের মেলায় বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে।  

মাইক্রোফাইবার গ্রুপের ফিনান্স ডিরেক্টর এই কৃষিবিদ বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এবং জীববৈচিত্র সংরক্ষণের মাধ্যমে ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তনবায়ন করতে হলে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। মানুষের মাঝে কৃষির অগ্রগতি তুলে ধরতে হবে। মাছ, সবজি, ধান ইত্যাদি উৎপাদনে বাংলাদেশের অগ্রগতি মানুষের সামনে তুলে ধরলে কৃষকেরা আরো উৎসাহিত হবে। উন্নয়ন মেলার মাধ্যমে যা অনেকটাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে বলে মনে করেন তিনি।