Thursday, 14 December 2017

 

আটকে রয়েছে বাকৃবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি:নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে দ্রুত শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সোনালী দল। রবিবার সোনালী দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল আউয়াল মোল্লাহ্ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়াপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদকও একই দাবি করেন। এদিকে ‘ব্যালটের ছবি তোলা’ বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের সমঝোতা না হওয়ায় শিক্ষক সমিতির তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান শিক্ষক সমিতির সভাপতি।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, বাকৃবি শিক্ষক সমিতির নিয়ম অনুযায়ী যে কোন কমিটির মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরবর্তী কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। যেখানে বিদায়ী সভাপতি নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু বর্তমান বাকৃবি শিক্ষক সমিতির মেয়াদ গত ৯ মার্চ শেষ হয়। কিন্তু এরপরও নির্বাচনের কোন তারিখ ঘোষণা না করায় সোনালী দলের পক্ষ থেকে দ্রুত শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। এদিকে গত ৯ মার্চ শিক্ষক সমিতির সর্বশেষ মিটিংয়েও ‘ব্যালটের ছবি তোলা’ নিয়ে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম ও সোনালী দলের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারেনি শিক্ষক সমিতি। পরে বিষয়টি অমিমাংসীত রেখেই মিটিং শেষ হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে ভোট প্রদানের পর দলীয় আনুগত্যের প্রমান স্বরূপ ‘ব্যালটের ছবি তোলা’ বিষয় নিয়ে অচলাবস্থা হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করে সোনালী দল। এ অন্যায়টি ইতিপূর্বে হয়েছিল বিধায় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় ভোট প্রদানের পর ব্যালট পেপারের ছবি তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এদিকে যথাসময়ে  নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষকদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি দাওয়া আদায় ও স¦ার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ব্যহত হচ্ছে। নির্বাচনে কোন শিক্ষক এ কাজটি করলে তাঁর ব্যালট বাতিলসহ উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।  

এবিষয়ে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে আমরাও চাই অতিদ্রুত নির্বাচন হোক। শিক্ষক সমিতি না থাকায় শিক্ষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনেক কাজই থেমে আছে। ব্যালটের ছবি তোলা বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এটি আমরাও সমর্থন করিনা।  

একই বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির বলেন, নির্বাচনে ‘ব্যালটের ছবি তোলা’ হলে এবং তা প্রমাণিত হলে তার ভোটটি গণনা করা হবে কিনা কিংবা তার কি শাস্তি হবে এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। বারবার মিটিং করে সন্তোষজনক কোন সমাধানে না আসতে পারায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।

এ বিষয়ে বাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর বলেন, আমার কাছে নির্বাচন দাবি করা অযৌক্তিক। তবে একটি বিষয় নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় যেহেতু দু’পক্ষই আমার কাছে বিষয়টি সমাধানের দাবি জানিয়েছে আমি তাদের নিয়ে বসবো। ইতিমধ্যে একটি পক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে। তবে দু’পক্ষেরই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা না থাকলে বিষয়টি সমাধান সম্ভব নয়।