Thursday, 14 December 2017

 

রাবি ভিসি ও প্রোভিসি: রকীব ও আনন্দ কুমারের নাম প্রস্তাব

এস.এম.আল-আমিন,রাবি সংবাদদাতাঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ দিতে অধ্যাপক ড. রকীব আহমদ ও অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করে পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলে উপাচার্য ও উপ-উপচার্য পদে তাদের দু’জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন দুয়েকদিনের মধ্যেই জারি করা হবে।

রবিবার (১৬ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে তাদের নামের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) লায়লা আরজুমান্দ বানু। কে উপাচার্য আর কে উপ-উপাচার্য হচ্ছেন তা জানতে চাইলে সরকারের এই যুগ্মসচিব জানান, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ফাইল ফেরত এলেই তা জানা যাবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হয় গত ২০ মার্চ। ওই দিন থেকেই পদ দু’টি শূন্য থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এর আগেও দুই দফা উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদ শূন্য ছিল ২০০৯ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি এবং ২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত।

মন্ত্রণালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২০ মার্চ চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজান উদ্দিন ও উপ-উপাচার্য পদে অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান নিয়োগ পান। গত ২০ মার্চ নিজ নিজ পদের মেয়াদ শেষে তারা দু’জন নিজ নিজ বিভাগে যোগদান করেন।

এরপর ওই শূন্য পদ পূরণে রেজিস্ট্রার দফতর থেকে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এসময় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহল থেকে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগের দাবি তুলে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবকশূন্য রয়েছে। শিগগিরই যেন নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রকীব আহমদ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলায়।

১৯৭৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগ থেকে স্নাতক ও ১৯৮০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ড. রকীব আহমদ। ১৯৮১ সালে তিনি একই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ১৯৮৪ সালে সহকারী, ১৯৯১ সালে সহযোগী ও ১৯৯৭ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। এর মধ্যে ১৯৯০ সালে ভারতের মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে ড. রকীব বিভাগীয় প্রধান, ইনস্টিটিউট প্রধান, কম্পিউটার সেন্টারের প্রশাসকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

অপরদিকে, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বর্তমানে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাড়ি মাগুরা জেলায়।###