Thursday, 14 December 2017

 

ব্যস্ততার মাঝেও ক্লাস নেন বাকৃবি উপাচার্য

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি:উপাচার্য হওয়ার আগে আমি একজন শিক্ষক। শিক্ষক হলে ছাত্রদের পড়াতে হয়। উপাচার্য হওয়ার পর আগের মত, হয়ত ক্লাস নিতে পারি না। উপাচার্য হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ছুটির দিনও (শুক্রবার ও শনিবার) ব্যস্ত থাকতে হয়। ব্যস্ত থাকতে পারাটাই আমার কাছে ভালো লাগে।

 

কথাগুলো বলেছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর। আগে স্নাতকোত্তর দুটো ক্লাস নিতাম, এখন একটা ক্লাস নেই। তবে ব্যস্ততার মাঝে সময় বের করতে পারি না। তাই সকাল ৮টার দিকে ক্লাস নিই। তারপর উপাচার্য কার্যালয়ে যাই। তবে আমাকে অনেকেই বলেন ‘আমার নাকি ক্লাস নেওয়া ঠিক না, তবে আমি এটা আমি সমর্থন করি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যতদিন আছি, ততদিনই ক্লাস নিবো। ক্লাস নিতে আমার ভীষণ ভালো লাগে।

সোমবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিউটে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদপত্র বিতরণের সময় এসব কথা বলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের শ্রেণীকক্ষে (জিটিআই) দেড়টার দিকে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, আজ প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাঝেও প্রায় ঘন্টাব্যাপী একটি ক্লাস নিয়েছেন তিনি। সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তিনি ওই ক্লাস নেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা, বরিশাল, বেগম রোকেয়া, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কাজী নজরুল ইসলাম, রাঙামাটি বিজ্ঞান প্রযুক্তিসহ মোট ২২ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন নবীন শিক্ষক ওই প্রশিক্ষণ ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে প্রশিক্ষণের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণের সময় নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ সাজেদুল ইসলাম এগিয়ে রাখেন এই উপাচার্যকে। তিনি বলেন, ‘এর আগে তার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ক্লাস করার সুযোগ হয়নি। উপাচার্যদের বিশ্ববিদ্যালয় সামলাতে সব সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা মূলত ক্লাস নিতে পারেন না। শত ব্যস্ততার মাঝেও বাকৃবি উপাচার্য তাদের প্রশিক্ষণ ক্লাস নিয়ে আমাদের ঋণী করেছেন। উপাচার্য স্যার আজ আমাদের নৈতিকতা বিষয়ে ক্লাস নিয়েছেন, যা আমাদের নবীন শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে দরকার ছিল।

কেমন লাগল উপাচার্য স্যারের ক্লাস, উত্তরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার এ্যন্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের শিক্ষক মেছবাহ উদ্দিন বলেন, শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল, ক্লাস নেওয়া ও নিয়মিত ক্লাসে আসা। উপাচার্য স্যার নৈতিকতা বিষয়ে আজকের ক্লাসটি আমাদের প্রত্যেক প্রশিক্ষার্থী নবীন শিক্ষকের জন্য সত্যিই শিক্ষনীয় ছিল। স্যার আগেই ডিজিটাল পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি করে নিয়ে এসেছিলেন। যার কারণে বিষয়টি বুঝতে আমাদের জন্য অনেক সহজ হয়েছিল। স্যারের পাঠের বিষয়টি আমাদের আজীবন মনে থাকবে। আমরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে তা মেনে চলার চেষ্টা করবো। বিষয়টি আমাদের কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে শিক্ষকতা পেশাটাকে অনেক খানি সম্মানিত করতে পারবো।

জিটিআই এর পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. মোজাহার আলীর সভাপতিত্বে সমাপনী ও সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো.আলী আকবর। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আবদুর রশীদ। এছাড়াও ওই আরোও উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষণ কোর্সের কো অর্ডিনেটর অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. এ কে এম জাকির হোসেন এবং পশু পালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ আলী। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন জিটিআই এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো.আলী আকবর তার বক্তব্যে বলেন, জিটিআই এর মত এমন ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৭ সাল থেকে জিটিআই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ চালু করে। যার বদৌলতে অনেক মেধাবী শিক্ষক তৈরি করতে পেরেছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নবীন শিক্ষকরা তাঁদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।