Monday, 20 November 2017

 

জাপানের কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শেকৃবি'র ১৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত

তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন জাপান থেকে:জাপানের কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষায় অধ্যয়রনরত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন গ্র্যাজুয়েটরা উদ্যাপন করল শেকৃবি’র ১৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। উল্লেখ্য, ১৫ই জুলাই ছিল রাজধানীর সবুজ শ্যামল গ্রাম শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। হাঁটি হাঁটি পা পা করে ১৬ বছর পেরিয়ে আজ ১৭ বছরে পদার্পন করল প্রিয় এ বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও এর গৌরবের ইতিহাস দীর্ঘ ৭৮ বছরের।

১৯৩৮ সালে দি বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট নামে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল। এই সুদীর্ঘ পথচলায় নানান চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে আজ দেশ-বিদেশে আমরা গর্বিত শেকৃবিয়ান। দেশের গন্ডি পেরিয়ে শুধুমাত্র জাপানের কাগাওয়ায় বর্তমানে ১১ জন শেকৃবিয়ান অধ্যয়ন করছে। এভাবে জাপানের বিভিন্ন্ বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারাবিশ্বের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শেকৃবিয়ানদের বিচরণ। এ যে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশ-বিদেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর এক দীপ্ত শপথ। তাই প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে আমরা একত্রিত হয়েছিলাম কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে। একসাথে সবাই মিলে প্রিয় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা আর ১৭তম উদ্যাপনের লোগো নিয়ে ছবি উঠিয়ে কিছুটা হলেও তৃপ্তির ঢেকুর তুললাম। হাজার হাজার পথ দূরে থেকে আমরা যে প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ভুলে যায়নি তার-ই স্বাক্ষর রাখলাম আমাদের আড্ডা ও গল্পে।  আর আমাদেরকে সঙ্গ দিতে এসেছিলেন কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি বংশদ্ভোত সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা জামাল এবং তার সহধর্মিনী রুবি জামাল।

স্মৃতির পাতায় হাতড়িয়ে আমরা স্মরন করেছি আমাদের ফেলে আসা নানান দুরন্তপনার দিনগুলিকে। ব্যস্ততম ঢাকা শহরে দিনে ও রাতে শিয়ালের চেচামেচি কিংবা বানর দলের ডালে ডালে ঘুরে বেড়ানো-এ সব এখন অকল্পনীয় মনে হলেও এগুলিই ছিল আমাদের বাস্তবতার দিনলিপিতে। আম বাগান অথবা হর্টিকালচার গার্ডেন অথবা টাওয়ারের পাদদেশে এখন হয়ত আর আগের মত আড্ডা জমে উঠে না। প্রয়োজনের তাগিদে এখনকার ছেলে মেয়েরা হয়ত নতুন কোন জায়গাকে বেছে নিয়েছে। ডিবেটিং সোসাইটির চ্যাম্পিয়নশীপ করতে গিয়ে কত রাত আমরা নির্ঘুমে ক্যাফেটারিয়ার দূ’তলায় কাটিয়েছি প্রিয় ক্যাম্পাসকে মাথা উঁচু করে তুলব বলে। আর এর চেয়েও বড় বিষয় ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমাদের ও সিনিয়র বড় ভাইদের অনেক অনেক আত্মত্যাগ। ষোল বছর আগের -এ সবই এখন গল্প। সময়ের তালে অনেক কিছুই হারিয়ে যাবে, আর নতুনেরা মেতে থাকবে নতুন কোন নেশায়। প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়টি Centre of Excellence হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক, কৃষি ও কৃষকের কল্যানে আরো বেশি নিবেদিত হোক, দেশ ও বিদেশে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ  থেকে এটিই আমাদের শুভ কামনা।
==================
তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন
সহকারী অধ্যাপক
কৃষি রসায়ন বিভাগ
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১২০৭।
(বর্তমানে উচ্চ শিক্ষায় জাপানে অধ্যয়নরত)
ই-মেইল: