Friday, 22 June 2018

 

বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে এলো জাপান প্রবাসী বাংলাদেশী কৃষিবিদরা

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল প্লাবিত এবারের বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে এগিয়ে এসেছে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশীরা। তাদের সহযোগিতায় দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এ বন্যা স্মরণকালের ইতিহাসে অন্যতম যাতে মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক মানুষের প্রাণহানি, অসংখ্য বাড়িঘর নষ্ট হওয়া, মাঠের পর মাঠ ফসল নষ্ট হওয়া, অগণিত গবাদিপশু ভেসে যাওয়া এবারের বন্যা জাতীয় গণমাধ্যম ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছে। নজরে এসেছে বিশ্বের আনাচে-কানাচে বসবাসকারী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশীদের। প্রবাসীরা শুধুমাত্র সমবেদনা জানিয়েই ক্ষান্ত হন নাই, বন্যা ও তৎপরবর্তী পুনর্বাসনে অসহায়, নিরীহ মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্ব-স্ব অবস্থান থেকে।

এমনই একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন জাপানের টোকিওতে বসবাসরত পিএইচডি গবেষক ডা. মো. আব্দুল ওয়ারেছ ও ড. মোঃ হাসনাত রহমান। গবেষণার প্রচণ্ড ব্যস্ততাকে উপেক্ষা করে অত্র অঞ্চলের বন্যাদুর্গত মানুষদের জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজে নেমে পড়েন তারা। এ প্রসঙ্গে ডা. ওয়ারেছ বলেন, "আসলে সামাজিক দায়বধ্যতা থেকেই নিঃস্ব মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা, আর তাই, হাসনাত ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করে এই পদক্ষেপ হাতে নেওয়া। ডোনারদের স্বতঃস্ফূর্ত অবদান এবং প্রেরণা আমাদেরকে অনেক সাহস সঞ্চার করেছে।” এরপর, সংগৃহীত অর্থ দিনাজপুর এবং জয়পুরহাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বণ্টন করা হয়। তন্মধ্যে, গত ২৮ আগস্টে দিনাজপুরের মাধবপুর, মণ্ডলপুরে ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব পালন করেন হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলেকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ আবু সাঈদ। তার কিছু ছাত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে চরমভাবে বিপর্যস্ত নির্দিষ্ট ৫০ টি পরিবারকে নগদ এক হাজার টাকা করে প্রদান করেন।

ধারাবাহিকভাবে, জয়পুরহাট এলাকায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এ গুরুভার কাঁধে নেন মাওলানা মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ। সদর উপজেলার মীরগ্রাম চৌমহনী উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাড. সামছুল আলম দুদু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যানসহ এলাকার আর অনেক গুণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত সকলেই এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং সকল প্রবাসীদের জন্য শুভকামনা করেন। মাননীয় সাংসদ তার বক্তব্যে বলেন, “দুর প্রবাসে থেকেও যারা আমার এলাকার বানভাসি মানুষের জন্য সাহায্য পাঠিয়েছে তাদেরকে আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই।” সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে ১২০ টি পরিবারের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে চাল, ১ কেজি ডাল ও আধা কেজি করে তেল প্রদান করা হয়। ত্রাণ পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুশির জোয়ার বয়ে যায়। বাড়ী ফিরতে ফিরতে জনাব আশরাফ বলেন, “হামরা খুবই খুশী, এই ইলিপ দিয়ে বউ-ছল লিয়ে ঈদ করমো ”

ডোনারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ড. হাসনাত, দেলোয়ার, ড. গাজি, জেনিন, ফারুক, নেহাল, ওয়ারেছ, রবি, নাদিম, শাহিন, তুহিন, বিমল, ফেরী, ইমাম, তানি, নাফসুন, ড. লুতফর, মহিউদ্দিন, ড. অনিমেষ, আনোয়ারজাই, কেয়া, নজরুল, ইউসুফ, তাজুল। এছাড়াও, জাপানের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশান অফ সাইতামা ইউনিভার্সিটি (BASU) এর সদস্যরা অর্থ সংগ্রহ করে সম্মিলিতভাবে ড. সাঈদের নেতৃত্বে দিনাজপুরে বণ্টনের ব্যবস্থা করেন। উল্লেখিত কর্মকাণ্ডে প্রভাবিত হয়ে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে আবার অনেকেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রুপ গঠন করে নিজ নিজ এলাকায় ত্রাণ পাঠান।

এবারের বন্যাসহ যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় সমস্যা মোকাবিলায় সমাজের সচেতন নাগরিক, বিত্তশালী, রাজনীতিবিদসহ সবাই সার্বজনীনভাবে এগিয়ে আসলে সমস্যাগুলির সমাধান খুব এ সহজতর হয় এবং ভুক্তভোগীরা সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে আশাবাদী হতে পারে।