Monday, 20 November 2017

 

ভেটেরিনারিয়ানদের সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য-ডা. সাজেদা

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:ডা. সাজেদা সুলতানা, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের প্যাথলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক। এর পূর্বে ২৭ তম বিসিএস লাইভস্টক ক্যাডারে ভেটেরিনারি সার্জন পদে চার বছর কর্মরত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিভিএম এবং এম.এস ইন প্যাথোলজি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই ভেটেরিনারি পেশার উত্তোরত্তর উন্নতিতে ডা. সাজেদার রয়েছে দৃপ্ত পদচারণা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ইন্টার্নশীপ আন্দোলনের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, গবেষনা আর সাংসারিক কাজের পরেও তিনি ভেটেরিনারি সম্পর্কিত সকল সভা, অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশি বিদেশী জার্নালে এ পর্যন্ত তার ৯টি গবেষনাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও দ্যা ভেট এক্সিকিউটিভের আয়োজনে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্যুভেনির কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দায়িত্ব পালন করেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বহু আকাঙ্ক্ষিত অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন এবং ভেটেরিনারিয়ান স্বার্থ সংশ্লিস্ট সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রয়েছে তাঁর সরব উপস্থিতি। কার্যকর কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদিকার দায়িত্বে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন| এ তাছাড়া ডা. সুলতানা বিভিন্ন সোসাইটি ও এসোসিয়েশনের সক্রিয় সদস্য। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু ভেটেরিনারি পরিষদ, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, ওয়ার্ল্ড ভেটেরিনারি পোল্ট্রি এসোসিয়েশন এবং ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশনের সদস্য, ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ এবং দ্যা ভেট এক্সিকিউটিভ এর প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স সেক্রেটারি হিসেবে বর্তমানে কাজ করছেন।

ভেটারিনারিয়ানদের জন্য আরো কিছু করতে চান। সে লক্ষ্যেই আসন্ন বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন (বিভিএ) ২০১৭-২০১৮ মেয়াদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ সমর্থিত ডা. নজরুল-ড. হাবিব প্যানেল থেকে সদস্য পদে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। বিভিএ নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণার পর এগ্রিলাইফ২৪.কমের পক্ষ থেকে ডা. সাজেদা সুলতানা'র সাথে একান্তে সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: সামনে ভেটেরিনারিয়ানদের সর্ববৃহৎ সংগঠন বিভিএ নির্বাচন ২০১৭ -২০১৮। ইতোমধ্যে পদে ডা. নজরুল-ড. হাবিব প্যানেল থেকে সদস্য পদে প্রার্থীতাও ঘোষণা করেছেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে আপনার ভাবনা কি?

ডা. সাজেদা সুলতানা: ২০১২ সালের পর দীর্ঘ ৬ বছর পর এই নির্বাচন সবার মতো আমার জন্যও কাঙ্খিত নির্বাচন। আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের সবার প্রাণপ্রিয় এবং কৃষিবিদদের অহংকার জনাব আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম ভাইকে। ভেটেরিনারিয়ানদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের পক্ষ থেকে যিনি একটি সুষম এবং তারুণ্যদীপ্ত প্যানেল উপহার দিয়েছেন। সরকারি, বেসরকারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নতুন ভেটেরিনারিয়ানগণসহ সকল স্তরের ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়ে প্যানেল তৈরি হওয়ায় জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়ের ভেটেরিনারিয়ানদের নিকট কাজের মাধ্যমে আপনার গ্রহনযোগ্যতা প্রমাণ করছেন। আপনি তাদের নিয়ে কি ভাবছেন?

ডা. সাজেদা সুলতানা: কৃষিবিদদের মধ্যে ভেটেরিনারিয়ানদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্য ও কৃষি ক্যাডার ব্যতিত জেলা-উপজেলায় আমাদেরই রয়েছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ক্যাডার অফিসার। তাছাড়া বেসরকারি সেক্টরে প্রতি জেলা-উপজেলায় কাজ করছে প্রচুর ভেটেরিনারিয়ান। এ বিপুল সংখ্যক ভেটেরিনারিয়ানদের সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করে বর্তমান সময়ের সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ।  

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: বিভিএ নির্বাচনে বিজয়ী হলে ভেটেরিনারিয়ান ও ভেটেরিনারি পেশার জন্য কি করতে চান?

ডা. সাজেদা সুলতানা: নির্বাচনে বিজয়ী হলে আমাদের প্রধান কাজ হবে সরকারি-বেসরকারি খাতে কাজ করা ভেটেরিনারিয়ানদের সমস্যাগুলিকে নিয়ে কাজ করা। আমরা আশা করছি বিজয়ী হলে ডিএলএস এর সাথে সমন্বয় করে অতি দ্রুত আমাদের কাঙ্ক্ষিত অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন করা। এ অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে পারলে সরকারি খাতে বিরাজমান সমস্যার ৮০% সমাধান হবে বলে আমরা মনে করছি। একই সাথে “দ্যা ভেট এক্সিকিউটিভ” এর মাধ্যমে বেসরকারি খাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভেটেরিনারিয়ানদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি অভীন্ন নীতিমালা যাতে বাস্তবায়ন করা যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া।

পাশাপাশি সরকারি খাতে চাকরির যে সম্ভাবনাগুলি আছে তা এক্সপ্লোর করা। যেমন: সিটি কর্পোরেশনে স্বাস্থ্য বিভাগের অধীন ভেটেরিনারি বিভাগ রয়েছে। সেখানে সিভিও পদ চালুসহ একটি পৃথক ভেটেরিনারি ইউনিট চালুর ব্যপারে উদ্যোগ  নেয়া হবে। প্রতিবছর একটি করে বার্ষিক সায়েন্টিফিক সভা করে ভেটেরিনারি শিক্ষার কন্টিনিউটি রক্ষা করা। তাছাড়া ভেটেরিনারী সার্ভিসকে ইমার্জেন্সি সার্ভিস হিসেবে সরকারীভাবে স্বীকৃতি আদায় করা। তাছাড়া বন বিভাগ, সাফারি পার্ক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ননভেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে একটি ভেটেরিনারি ইউনিট চালু করার বিষয়ে আমরা চেষ্টা করবো। এ বিষয়গুলি হয়তো খুব দ্রুত চালু করা যাবে না, তবে আমরা কিছুটা শুরু করতে পারলে পরবর্তী নেতৃত্ত্ব সেটাকে আরো বেগবান করতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: ধন্যবাদ আপনাকে।
ডা. সাজেদা সুলতানা: ধন্যবাদ আপনাকে এবং এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম পরিবারকে।