Tuesday, 12 December 2017

 

দীর্ঘ ৮ মাসেও হয়নি বাকৃবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন

বাকৃবি প্রতিনিধি:কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ ৮ মাসেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। নির্বাচন না হওয়ার শিক্ষক সমিতির দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচন না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষক সমাজের মাঝে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও বিভ্রান্তি। সম্প্রতি আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম এক বিবৃতিতে দ্রুত শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সোনালী দলও একই দাবি জানিয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাকৃবি শিক্ষক সমিতি ২০১৬ এর কার্যকাল এ বছরের ০৯ মার্চ শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ও উপ-উপাচায়ের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম এবং সোনালী দলের ৫ জন করে প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন বিষয়ে এ পর্যন্ত ৮টি সভা করার পরও নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। এদিকে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিবৃতি থেকে জানা যায়, প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী শিক্ষক সমিতির কার্যকালের মধ্যেই সাধারণ সভার মাধ্যমে কার্যকালের মেয়াদ পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়ার উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু প্রাক্তন শিক্ষক সমিতি এ ধরনের কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় বর্তমানে বাকৃবিতে কার্যত কোন শিক্ষক সমিতির অস্তিত্ব নেই। এতে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সোনালী দল শিক্ষক সমিতির বিভিন্ন বিষয়ে ঐক্যমতে পৌছাতে না পারায় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে বিলম্ব হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

জানা গেছে, দফায় দফায় সভা হলেও শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করতে পারেনি দুই দল। উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সাথে আলাদা সভা হলেও বিষয়টি নিয়ে কোন সুরাহা হয়নি। সোনালী দলসূত্রে জানা যায়, শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে ভোট প্রদানের পর দলীয় আনুগত্যের প্রমাণ স্বরূপ ‘ব্যালটের ছবি তোলা’ বিষয় নিয়ে অচলাবস্থা হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তৃতীয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, সকল বিতর্ক এড়াতে শিক্ষক সমিতির এবারের নির্বাচনে ই.ভি.এম ব্যবহার করা হবে। এই সম্মতি সত্বেও সোনালী দলের প্রতিনিধিবৃন্দ তাদের সম্মতির বিষয়টি নিজ দায়িত্বেই দলীয় সাধারণ সভায় অনুমোদন নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। সভায় উপস্থিত সকলে এ সিদ্ধান্তে পোৗছে যে, রমজানের প্রথম সপ্তাহে দু’দলের প্রতিনিধিবৃন্দ মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রোভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের উপস্থিতিতে একসাথে ইফতার করবেন এবং নির্বাচনের তারিখসহ বিস্তারিত সময়সুচি নির্ধারন করবেন। কিন্তু চতুর্থ সভায় সোনালী দলের প্রতিনিধিবৃন্দ জানায়, ই.ভি.এম-এর বিষয়টি উনারা দলের সাধারণ সদস্যদেরকে মানাতে পারেননি। আবারও কিছুদিন সময় ক্ষেপনের পর দু’দলের প্রতিনিধিবৃন্দ উপ-উপাচার্যের নেতৃত্বে পঞ্চম সভায় মিলিত হন। এই সভায় সম্মানিত প্রতিনিধিবৃন্দ অত্যন্ত গুরুত্ত্বপুর্ণ কিছু সিদ্ধান্তে উপনিত হয়ে গঠন করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, নির্ধারিত হয় নির্বাচনের তারিখ, সিদ্ধান্ত হয় ভোটদানকৃত ব্যালটের ছবি তুললে কি ফয়সালা হবে। এসময় তারা একমত পোষন করেন যে, শিক্ষক সমাজের মানমর্যাদা সমুন্নত রাখতে আচরণবিধি বা অন্য কোথাও লিখিতভাবে ভোটদানকৃত ব্যালটের ছবি তোলার বিষয়ে কিছু থাকবে না, কিন্তুনির্বাচন কমিশন ও দু’দলের নেতৃবৃন্দের কাছে এই সভার সিদ্ধান্তসমূহ থাকবে যা তারা দলীয় সাধারণ সভায় সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে অবহিত করবেন এবং জানাবেন। ভোটদানকৃত ব্যালটের ছবি তোলাসহ নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে পারে এমন যে কোন কর্মকান্ড করলে সে ভোটটি বাতিল হবে।

কিন্তু এরপরেও সমস্যা সৃষ্টি হলো নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দু’জন সদস্যের নামের পাশে তাদের পদবি উল্লেখ করা নিয়ে, যদিও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পদবি (প্রিজাইডিং/সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার) ব্যতীত অন্য কোন পদবি ব্যবহারের রেওয়াজ নেই। ষষ্ঠ সভায় দু’দলের সম্মানিত প্রতিনিধিবৃন্দের সিদ্ধান্ত হলো নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ঐ দু’জন সম্মানিত সদস্যের নামের সাথে প্রাক্তন সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, শিক্ষক সমিতি ২০১৬ উল্লেখ করা হবে। সপ্তম সভা হয় নির্বাচনের তারিখসহ বিস্তারিত সময়সূচি নির্ধারনের জন্য। গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম জানায়, সবই হয়েছিল। কিন্তু আবারও সোনালী দলের প্রতিনিধিবৃন্দ ৫ম সভায় মীমাংসিত (নির্বাচনী আচরণ বিধির ১৩ নং ব্যালটের ছবি তোলা) বিষয়টি নিয়ে তোলেন নতুন ভাবে। অক্টোবর মাসে উপ-উপাচার্য মহোদয় আহবান করেন ৮ম সভা। সিদ্ধান্ত হয় ‘নির্বাচনকে সকল বিতর্কের উর্দ্ধে রাখার স্বার্থে ভোটদানকৃত ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।’

সোনালী দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম হারুন অর রশিদ বলেন, ব্যালটের ছবি তোলা দ্বন্দে এতদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বাকৃবি শিক্ষক সমিতির। আমরা শুরু থেকেই চাই, দ্রুত এ নির্বাচন আয়োজন করার। তবে ২০১৬ সালের যে  নির্বাচন আচরণ বিধি রয়েছে তা মেনেই নির্বাচন করতে হবে। ইভিএম বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্রে ইভিএম বিষয়ে কোন কিছু লেখা নেই। সেখানে স্পষ্টত ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন করার কথা রয়েছে। ইভিএম বিষয়ে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের প্রশ্ন তোলাটাই অযোক্তিক। এ পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে হলে আগে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করতে হবে।