Thursday, 14 December 2017

 

আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে শেকৃবিকে একশ’র মধ্যে দেখতে চাই-প্রফেসর ড. মোঃ সেকেন্দার আলী, প্রো-ভিসি

কৃষিতে উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৮৬ একর জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস পুরানো। ঢাকার আগারগাঁও এ ‘দি বেঙ্গল এগ্রিকালচার ইনস্টিটিউট’(বিএআই) নামে ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৯৪৮ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘ইস্ট পাকিস্তান এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’(ইপিএআই)। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ কৃষি ইন্সটিটিউট’ (বিএআই)। তারপর বিভিন্ন চড়াই উতরাই পার হওয়ার পর দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে হীরক জয়ন্তী উৎসবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এ প্রতিষ্ঠানকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা দেন। গত ১৪ আগস্ট এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধক্ষ্য নিয়োগ দেয়া হয়। উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: সেকেন্দার আলী। কৃষি শিক্ষা, গবেষণাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে তার সাথে কথা বলেছেন রফিকুল ইসলাম রবি।

রবি: উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর কোন বিষয়গুলোর উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বা দিবেন ?
ড. সেকেন্দার আলী: সবে মাত্র যোগদান করলাম। প্রথমেই একাডেমিক কার্যক্রমের উপর বেশি গুরুত্ব দিব। একাডেমিক কার্যক্রমগুলো দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। শিক্ষা ও গবেষণাকে গতিশীল করতে তৎপর হব। শিক্ষার্থীরা যাতে সময়মত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবন শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পায় সেদিকে নজর বাড়াতে হবে।

রবি: নতুন কোন অনুষদ চালু করার চিন্তা-ভাবনা আছে কিনা ?
ড. সেকেন্দার আলী: কৃষি সম্পর্কিত অনুষদগুলো চালু করার চিন্তা-ভাবনা আছে। নতুন করে মৎস্য অনুষদ খুলতে চাই। যদি শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন অনুমতি দেয় তাহলে অচিরেই মৎস্য অনুষদ খোলার চেষ্টা করবো।

রবি: উপ-উপাচার্য হিসেবে আপনার চ্যালেঞ্জ ?
ড. সেকেন্দার আলী: শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণকে সামনে রেখে দক্ষ জনবল তৈরী করাই আমার বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট খোলার চেষ্টা করবো, যেখানে অংশগ্রহন করবে কৃষক, কৃষি পণ্য ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষিবিদ এবং কৃষির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষন ও বাজারজাতকরণসহ কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহন করবেন।

রবি: একটি অনুষদের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে অচল অবস্থায় রয়েছে অনুষদটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সংকট মোকাবেলায় আপনার ভূমিকা কি হবে ?
ড. সেকেন্দার আলী: এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের বর্তমান ডিগ্রিটা বাংলাদেশ কর্ম কমিশনে (বিপিএসসি) প্রফেশনাল ক্যাডারভুক্ত না থাকায় সঠিকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না। ডিগ্রির নাম পরিবর্তনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনরত রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। দায়িত্বগ্রহনের পরপরই আমরা ওই অনুষদের শিক্ষার্থীদের সাথে বসেছি। এর আগেও আমি ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক হিসেবে শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর রেখেছি। খুব শীঘ্রই একাডেমিক কাউন্সিলে তাদের দাবি এজেন্ডাভুক্ত করা হবে। সেখানে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা আলোচনা করে যেভাবে সিদ্ধান্ত নিবেন, সেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করবে।

রবি: শিক্ষার পাশপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে কিভাবে ভাবছেন।
ড. সেকেন্দার আলী: ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয় রূপে প্রতিষ্ঠালাভ করলেও ২০০৯ সাল পর্যন্ত তেমন কোন অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। এরপর জনবল বাড়ার পাশাপাশি চাহিদাও বেড়েছে। অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়কে সাজাতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ করতে হবে। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩৫২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এখন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক সকলের আবাসন সঙ্কট পূরণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছি।

রবি: আগামী ৪ বছরে শেকৃবিকে কোন জায়গায় দেখতে চান ?
ড. সেকেন্দার আলী: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে যে র‌্যাঙ্কিং করা হয় সেখানে বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই একশ’র মধ্যে নেই। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে একশ’র মধ্যে কোন অবস্থানে দেখতে চাই। এজন্য ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষণায় নজর দিতে হবে। গবেষণা যাতে রিপিট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত পাঠ ও মৌলিক গবেষণার প্রতি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ঝুঁকতে হবে।

রবি: আপনার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বায়নের এই যুগে কতটা যুগাপোযোগী বলে মনে করছেন ?
ড. সেকেন্দার আলী: বিশ্বায়নের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনবল তৈরী করতে আমরা যুগাপোযোগী শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। সেভাবেই আমাদের কারিকুলাম তৈরী করা হয়েছে। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে কারিকুলাম আপডেট করতে হবে। দক্ষ কৃষিবিদ ও কৃষকের প্রচেষ্টা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আধুনিক কৃষি নীতির ফলেই বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে অবস্থান করছে।

রবি: কৃষির গবেষণাগুলো কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কি করনীয় হতে পারে ?
ড. সেকেন্দার আলী: শিক্ষকরা বেশিরভাগ সময় বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ লিখে থাকেন। শিক্ষকরা প্রমোশনের জন্য এসব গবেষণাপত্র তৈরী করে থাকেন। তবে শিক্ষকরা এগুলো বাংলায় তৈরী করে গণমানুষের কাছে পৌছে দিতে পারেন। এতে কৃষক উপকৃত হবে। আর এজন্য গণমাধ্যমকেও এগিয়ে আসতে হবে। কৃষি সংবাদের উপর গণমাধ্যমগুলো গুরুত্ব আরোপ করলে কৃষি শিক্ষার সাথে সাথে কৃষি গবেষণার ফলাফলগুলো সহজে কৃষকের কাছে সম্প্রসারিত হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন হবে।

রবি: আপনাকে ধন্যবাদ।
ড. সেকেন্দার আলী: তোমাকেও ধন্যবাদ।