এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমাল সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর অ্যাপ্লায়েড ইথোলজি (ISAE)-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিয়াজন ড. জসিম উদ্দিন আজ ৫৯তম ISAE আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একটি প্লেনারি বক্তৃতা প্রদান করেছেন। "নন-ইনভেসিভ ইনফ্রারেড থার্মোগ্রাফি অ্যাজ আ টুল ফর অ্যাসেসিং ইমোশন অ্যান্ড প্রোডাক্টিভিটি ইন ডেইরি কাউস" শীর্ষক এই উপস্থাপনাটি প্রাণি কল্যাণ বিজ্ঞানে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার পিএইচডি গবেষণার অংশ হিসেবে ড. ডেভিড ম্যাকনিল এবং অধ্যাপক ক্লাইভ ফিলিপসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই গবেষণা ডেইরি গাভীর আবেগগত অবস্থা ও কল্যাণ পর্যবেক্ষণে ইনফ্রারেড থার্মোগ্রাফি (IRT)-এর ব্যবহার নিয়ে কাজ করেছে ।
ড. জসিম উদ্দিনের এই যুগান্তকারী গবেষণা বাণিজ্যিক ডেইরি গাভীতে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক আবেগ যেমন ভয় ও চাপ নির্ণয়ের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে। রক্তের কর্টিসল বা আচরণগত পর্যবেক্ষণ-নির্ভর ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিগুলি অনেক সময় পরিমাপজনিত চাপে প্রভাবিত হয় অথবা ব্যক্তিগত মতামতনির্ভর ও সময়সাপেক্ষ হয় । তার গবেষণা প্রমাণ করে যে, চোখ ও পায়ের করোনারি ব্যান্ডের সর্বোচ্চ ইনফ্রারেড তাপমাত্রা পরিমাপ করলে গাভীর আবেগগত অবস্থার সাথে সম্পর্কিত শারীরবৃত্তীয় ও আচরণগত সূচকগুলোর একটি নির্ভরযোগ্য, পুনরাবৃত্তিযোগ্য ও অ-আক্রমণাত্মক চিহ্নিতকারী পাওয়া যায় । এই প্রযুক্তি প্রাণি কল্যাণের বৃহৎ পরিসরের দীর্ঘমেয়াদী মূল্যায়নের জন্য একটি ব্যবহারিক হাতিয়ার সরবরাহ করে।
"শেয়ার্ড ওয়ার্ল্ডস: ইথোলজি-ড্রিভেন অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড কোএক্সিস্টেন্স" থিমে আয়োজিত এই সম্মেলন ২০২৬ সালের ১০-১৪ আগস্ট ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় অবস্থিত গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সারা বিশ্বের শীর্ষ গবেষক, শিক্ষক ও প্রাণি কল্যাণ বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নিয়ে জ্ঞান বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছেন।
ড. জসিম উদ্দিনের এই প্লেনারি বক্তৃতা প্রাণি কল্যাণ গবেষণায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতিফলন। এই যাত্রাপথের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাক্ষী এবং বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন সরদার তার অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায়। তিনি বলেন: “ড. জসিম উদ্দিন শুধু একজন অসাধারণ গবেষকই নন, তিনি আমাদের বিভাগের প্রথম ব্যাচের অন্যতম মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষার্থী। আমি তাকে কৌতূহলী এক শিক্ষার্থী থেকে আজ বিশ্বস্বীকৃত বিজ্ঞানী হিসেবে দেখতে পেয়েছি। তাকে এত মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখে আমার হৃদয় গর্বে ভরে উঠেছে। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ গড়ে তুলেছি, তা বিশ্বের যেকোনো স্থানের সাথে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তার এই অর্জন এবং সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী আমাদের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অবদান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আমাদের সীমান্ত পেরিয়ে বিশ্বের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে দেবে। এই সাফল্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বিশ্বব্যাপী বিকিরিত করুক এটাই আমার অন্তরের আকুল প্রার্থনা ও আশাবাদ।”
আইএসএই ২০২৬ সম্মেলনে বাংলাদেশের শক্তিশালী উপস্থিতি "শেয়ার্ড ওয়ার্ল্ডস: ইথোলজি-ড্রিভেন অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড কোএক্সিস্টেন্স" থিমে আয়োজিত এই সম্মেলন ২০২৬ সালের ১০-১৪ আগস্ট ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় অবস্থিত গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা বিশ্বের শীর্ষ গবেষক, শিক্ষাবিদ ও প্রাণি কল্যাণ বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয় যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ছয়জন গবেষক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করছেন: শিক্ষক (৪ জন): প্রফেসর ড. জালাল উদ্দিন সরদার; প্রফেসর ড. আওরঙ্গজেব কবির; ড. জসিম উদ্দিন; ড. ইশরাত জেরিন মনি। এছাড়াব শিক্ষার্থী (২ জন) ডা. মেহেদি হাসান প্রান্ত ও ডা. মো. মাহাবুবুর রশীদ। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও উদীয়মান শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত এই শক্তিশালী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ গবেষণার ক্রমবর্ধমান গভীরতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতিফলন। এর বাইরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও গবেষকরা অংশগ্রহণ করছেন, যা দেশের সামগ্রিক উপস্থিতিকে আরও সুসংহত করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছয় গবেষকের সম্মিলিত অংশগ্রহণ শুধু তাদের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই তুলে ধরে না, এটি বিভাগটির গবেষণা-বান্ধব পরিবেশ এবং বিশ্বমানের বিজ্ঞানী তৈরির অঙ্গীকারেরও এক উজ্জ্বল দলিল।