Friday, August 21, 2026

বাকৃবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর ফলাফল বিপর্যয়ের অভিযোগ

20, Aug 2026 | কৃষিবিদ ও ক্যাম্পাস

বাকৃবি প্রতিনিধি:বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের একাংশের ফলাফলে বিরূপ প্রভাব পড়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এক শিক্ষার্থী একই কোর্সের তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক - উভয় অংশে অকৃতকার্য হওয়ার পর মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সহপাঠীরা।

ঘটনার কেন্দ্রে পশুপালন অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এএনএম এহসানুল হক হিমেল যিনি ২০২৫ সালের আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন। গত ১৮ আগস্ট প্রকাশিত লেভেল-৩, সেমিস্টার-২-এর ফলাফলে অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের 'মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি' কোর্সের তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক দুই অংশেই তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগের সেমিস্টারগুলোর নম্বরপত্র প্রকাশ করে তিনি দেখান, লেভেল-২, সেমিস্টার-২ পর্যন্ত তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৬৭১ এবং তখন কোনো বিষয়ে ফেল ছিল না। আন্দোলন-পরবর্তী প্রথম সেমিস্টারে তা কমে ২.৯৪৬-এ নামে, এরপরের সেমিস্টারে ৩.২৭৮ হলেও একটি কোর্সের দুই অংশেই এফ গ্রেড আসে, যা তাঁর দাবি অনুযায়ী নিয়মিত ক্লাস টেস্ট, উপস্থিতি ও নোটবুকে ভালো পারফরম্যান্সের প্রেক্ষাপটে অস্বাভাবিক।

তাঁর নম্বরপত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে ফলাফল নিরপেক্ষভাবে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।

শুধু হিমেলের ঘটনা নয় ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন ব্যাচেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় বর্ষের 'এলিমেন্টারি ডেইরি সায়েন্স' এবং তৃতীয় বর্ষের 'অ্যানিমেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট' কোর্সে একই সেমিস্টারের অন্য বিষয়ের তুলনায় ফলাফল অস্বাভাবিক কম হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের দাবি। ডিন কার্যালয়ের তথ্যমতে, দুই কোর্সেই সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়েছেন মাত্র তিনজন করে শিক্ষার্থী। লেভেল-১-এর শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পশুপালন অনুষদের কিছু কোর্স নিয়ে একই অসন্তোষ দেখা গেছে।

গত ২৬ জানুয়ারি ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমানের মাধ্যমে লেভেল-২ ও লেভেল-৩-এর শিক্ষার্থীরা ফলাফল পুনরালোচনার দাবিতে উপাচার্য বরাবর পৃথক আবেদন জমা দেন। কিন্তু ছয় মাসের বেশি সময় পার হলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভেটেরিনারি অনুষদের এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, কম্বাইন্ড ডিগ্রি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুই অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনো একাডেমিক মূল্যায়নে পড়ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

পশুপালন অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শিবলী সাদী জানান, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া প্রায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সাম্প্রতিক ফলাফলেই ধস নেমেছে, বিশেষত মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কোর্সে - কারও তত্ত্বীয়, কারও ব্যবহারিক, আবার কারও উভয় অংশেই ফেল এসেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বরের সমঝোতা সভায় উপাচার্য আন্দোলনকারীদের কোনো একাডেমিক শাস্তি না দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন; তাই পরবর্তী ফলাফলে তার ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এছাড়া বাকৃবির বর্তমান ও সাবেক ২৮ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ফেসবুক গ্রুপ "বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (অল টুগেদার ১৯৬১-ইনফিনিটি)"-এ এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।  

মো. নূর আলম লিখেছেন, "আমরা কি ভুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম? এটা কি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়োচিত আচরণ?"

মো. আশরাফুল আলম লিখেছেন, ভার্সিটি থেকে পাশ করে বের হয়ে গেলাম বছর দুয়েক হতে চললো। এতদিনে আবার এগুলো নিয়ে কথা বলবো ভাবি নি। এই হিমেল কে আমি চিনি না। কখনো সাক্ষাৎ হয় নি। তাই তার পক্ষ নিয়ে কথা বলার কোনো কারন নেই। কথা বলছি একারনে যে, ছেলেটার প্রতি জুলুম হয়েছে। জুনিয়র,সিনিয়র আর ব্যাচমেট, তোমরা যারাই ক্যাম্পাসে আছো, বিষয়টা এমনি এমনি ছেড়ে দিও না। ভুক্তভোগী ছেলেটার পাশে দাঁড়াও। আজকে এর সাথে এরকম হয়েছে প্রতিবাদ যদি না করো কালকে তোমার সাথেও এমন হবে। ছেলেটার এক্সাম পেপার সবার সামনে রিভিল করতে বলো। যদি স্টুডেন্ট সত্যিই ভুক্তভোগী হয় তাহলে ঐ শিক্ষক বা ঐ সিস্টেমের এমন হাল করে দাও যাতে এরপরে শুধু হাজবেন্ড্রি না, বাকৃবির কোনো টিচার এধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ করার আগে বহুবার চিন্তা করে।

মো. আব্দুল ওয়াহাব লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টিতে যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, সেই আন্দোলনে শিক্ষকদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া একটি গ্রুপের সঙ্গে হিমেলের অবস্থান ছিল। সেই সময় আমিও হিমেলের বিপক্ষে এবং শিক্ষকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম। কারণ, বিষয়টি আমাদের ফ্যাকাল্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু ছিল। কিন্তু আজ আমি হিমেলের পক্ষে কথা বলছি। কারণ, একজন শিক্ষক যখন বিচারকের ভূমিকায় থাকেন তখন তার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, মতপার্থক্য কিংবা অতীতের কোনো ঘটনা নয় - ন্যায়বিচারই হওয়া উচিত তার একমাত্র বিবেচনা। আমি নিজেও পশুপালন অনুষদের একজন শিক্ষার্থী ছিলাম। তাই এই বিষয়টির একাডেমিক বাস্তবতা সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা আছে। হিমেল যে বিষয়ে ফেল করেছে এবং তার সহপাঠী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো যদি সত্য হয়ে থাকে এবং তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানো হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পশুপালন অনুষদের ডিন ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি এবং ব্যক্তিগত বিরোধ বা আন্দোলনের প্রভাব ফলাফলে পড়া উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা সত্যি বলে তিনি মনে করেন না, তবে এমন কিছু ঘটে থাকলে তা দুঃখজনক হবে বলে স্বীকার করেন। নিশ্চিত না হয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিষয় প্রকাশের বদলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি, এবং ডিন হিসেবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের আবেদন তিনি সংগ্রহ করে প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন, তবে এখনো কোনো জবাব পাননি। ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক জানান, আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ প্রয়োজন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া অভিযোগকারীকে বিস্তারিত বিবরণসহ নতুন করে আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিধিবিধান মেনে ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

Agrilife24 Logo

Agriculturist Md. Shafiul Azam, Editor & CEO
Dhaka Office: 141/4, Lake Circus, Kalabagan, Dhanmondi, Dhaka-1205.
Bogura Office: Hakim Son's House, Seujgari, Bogura-5800.
Email: info@agrilife24.com, editor@agrilife24.com, news@agrilife24.com
Contact: +880 2-48112812, Whatsapp: +880 1912-837-999

Social Share

© Agrilife24 . All Rights Reserved. Developed by Innovative Soft