এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় উৎপন্ন পুষ্টিসমৃদ্ধ উপজাত হোয়ে ওয়াটার বর্জ্য হিসেবে ফেলে না দিয়ে মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ, পুষ্টি উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষার সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।
রাজধানীর পল্টনের ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে হুই ওয়াটার সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফল প্রচার ও অবহিতকরণ কর্মশালা’-এ এ বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. এবিএম খালেদুজ্জামান, পরিচালক (বাজেট)। সমাপনী বক্তব্য দেন গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার। স্বাগত বক্তব্য দেন গেইন বাংলাদেশের পোর্টফোলিও লিড ড. আশেক মাহফুজ। হুই ওয়াটার ব্যবহারে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে উপস্থাপনা করেন গেইন বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আহমেদ শিহাব জামান।
সমীক্ষার মূল ফলাফল উপস্থাপন করেন গবেষণা দলের দলনেতা ও জাতীয় দুগ্ধ বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, যিনি মিমবা (মডার্ন ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অব বোভাইন এগ্রিকালচার)-এর উপদেষ্টা। গবেষণা দলে আরও ছিলেন ড. মো. তাজাম্মুল হক, সহযোগী পরামর্শক ও মিমবার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী; তানভীরুল ইসলাম, স্টাডি টিম আইটি এক্সপার্ট; এবং আলভী আল হৃদয়, ডাটা এনালিষ্ট।
গবেষণায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশে ছানা, পনির, চিজ ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি উৎপাদনের সময় বিপুল পরিমাণ হুই ওয়াটার তৈরি হলেও এর বড় অংশ এখনও ব্যবহার না করে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ এতে ল্যাকটোজ, সিরাম প্রোটিন, খনিজ এবং পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনসহ মূল্যবান পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
গবেষণায় হুই ওয়াটার থেকে পুষ্টিসমৃদ্ধ পানীয়, প্রোবায়োটিক ও ফারমেন্টেড পণ্য, হুই পাউডার, হুই প্রোটিন, বেকারি উপকরণ এবং প্রাণিখাদ্যের সম্পূরক তৈরির সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হুই সংগ্রহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা, শীতল সরবরাহ ব্যবস্থা, উপযুক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি, অর্থায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নির্ধারণ এবং বাজার সংযোগকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মিল্ক ভিটা, প্রাণ ডেইরি, আড়ং ডেইরি, আকিজ ডেইরি, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এফএও, আইএফএড, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও দূতাবাসের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আলোচনায় সম্ভাবনাময় দুগ্ধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকায় পরীক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ, হুই সংগ্রহ ও সমন্বিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সাশ্রয়ী প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি চালু, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালার আলোচনায় হুই ওয়াটারকে ‘বর্জ্য নয়, মূল্যবান দুগ্ধসম্পদ’ হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। যথাযথ প্রযুক্তি, গবেষণা, নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এর ব্যবহার বাড়ানো গেলে দেশে নতুন পুষ্টিপণ্য ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি খাদ্য অপচয় ও পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মত দেন।