এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:জাতীয় গ্রিডের জন্য বাংলাদেশে প্রথম গ্রিড-ফর্মিং স্মার্ট স্ট্রিং ইনভার্টার এবং এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম নিয়ে এসেছে হুয়াওয়ে। এই উদ্ভাবনী সমাধানগুলো বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়া ডিজিটাল পাওয়ার ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর উইল ইউ, হুয়াওয়ে এশিয়া প্যাসিফিক ডিজিটাল পাওয়ার বিজনেসের চিফ টেকনোলজি অফিসার ওয়াং জুনফেং এবং হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়া পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মা বেন গতকাল ঢাকায় হুয়াওয়ে আয়োজিত “সবুজ ভবিষ্যতকে ত্বরান্বিত করছে গ্রিড-ফর্মিং টেকনোলজি” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এই সমাধানগুলোর উদ্বোধন করেন।
“সৌরশক্তি ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজের সমন্বয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করে”—এই প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউটিলিটি সরবরাহকারী, বিদ্যুৎ উৎপাদক, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী, কারিগরি উপদেষ্টা, পরামর্শক এবং ইপিসি প্রতিষ্ঠানসমূহ।
হুয়াওয়ে শিল্পখাতের জন্য প্রথম ৫০০ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিড-ফর্মিং স্মার্ট স্ট্রিং ইনভার্টার SUN2000-506KTL-H3-এর পাশাপাশি উন্নত ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) LUTERRA-6261-2S/4S (লুটেরা-৬২৬২-২এস/৪এস) উন্মোচন করেছে। উইল ইউ-এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ওয়াং জুনফেং “বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রবণতা” বিষয়ে উপস্থাপনা দেন এবং মা বেন সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন।
উইল ইউ বলেন, “ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমের সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সমন্বয় বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের মূল ভিত্তি হয়ে উঠছে। শুধু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এখন আর যথেষ্ট নয়— নবায়নযোগ্য জ্বালানি যখন প্রয়োজন, তখন তা নিশ্চিত করতে আমাদের ইন্টেলিজেন্ট এনার্জি স্টোরেজ এবং গ্রিড-ফর্মিং প্রযুক্তি দরকার। উদ্ভাবনী সোলার+স্টোরেজ সমাধানের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে আরও স্মার্ট, স্থিতিস্থাপক ও টেকসই বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করতে হুয়াওয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
SUN2000-506KTL-H3 উচ্চতর পাওয়ার ডেনসিটি, উন্নত সিস্টেম অ্যাভেইলেবিলিটি, গ্রিড-ফর্মিং সক্ষমতা, বুদ্ধিমান অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স (ওঅ্যান্ডএম) এবং উন্নত নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা সুবিধা প্রদান করে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা ব্যালান্স অব সিস্টেম (বিওএস) ব্যয় কমাতে এবং বিদ্যুতের লেভেলাইজড কস্ট অব এনার্জি (এলসিওই) হ্রাস করতে পারবেন। ইনভার্টারটির পরিপূরক হিসেবে LUTERRA-6261-2S (লুটেরা-৬২৬২-২এস) বিইএসএসে রয়েছে ৯২ দশমিক ছয় শতাংশের উচ্চ রাউন্ড-ট্রিপ এফিশিয়েন্সি (আরটিই), অনন্য প্যাক-লেভেল অপটিমাইজেশন, সেল-টু-গ্রিড (সি২জি) নিরাপত্তা স্থাপত্য, অধিকতর নির্ভুল স্টেট অব চার্জ (এসওসি), শিল্পখাতের শীর্ষস্থানীয় স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) পারফরম্যান্স এবং দ্রুত গ্রিড-ফর্মিং প্রতিক্রিয়া।
হুয়াওয়ে সোলার ইনভার্টার সল্যুশন ব্যবহারকারী প্যারামাউন্ট গ্রুপের টেকনিক্যাল বিভাগের প্রধান মাসুদ রানা কেস স্টাডি হিসেবে প্যারামাউন্টের ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। হুয়াওয়ের ইনভার্টার বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “লালমনিরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মতো বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্যারামাউন্টের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অবস্থিত। এসব এলাকা অত্যন্ত ধুলোময় হওয়ায় ইনভার্টারের উচ্চমাত্রার আইপি (ইনগ্রেস প্রোটেকশন) সুরক্ষা থাকা জরুরি ছিল। তাই ইনভার্টারের আইপি রেটিং-কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর হুয়াওয়ের ইনভার্টারের আইপি রেটিং ৬৬। হুয়াওয়ের ইনভার্টারের ত্রুটির হার খুবই কম, যা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আর কখনো কোনো কারিগরি সমস্যা হলে, হুয়াওয়ে দ্রুততার সাথে সমস্যার সমাধান করে দেয়।”
সমন্বিত সোলার+স্টোরেজ সমাধানটি বাংলাদেশের গ্রিড পরিস্থিতি ও নীতিগত দিকনির্দেশনার সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি দিনে উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় সরবরাহ করতে পারে। পাশাপাশি এটি র্যাম্প-রেট নিয়ন্ত্রণ, ফ্রিকোয়েন্সি রেগুলেশন, ভোল্টেজ রেগুলেশন ও রিঅ্যাকটিভ পাওয়ার সাপোর্ট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রিড-ফর্মিং সুবিধা প্রদান করে। প্রচলিত শুধুমাত্র পিভি-ভিত্তিক স্থাপনার তুলনায় সমন্বিত এই সমাধানটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরবরাহ-সক্ষমতা, গ্রিডের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির একীভূতকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। ফলে আরও স্থিতিশীল, সহনশীল ও টেকসই বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে এটি ভূমিকা রাখে।
হুয়াওয়ে আরও দক্ষভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, অধিকতর জ্বালানি সংরক্ষণ, উন্নত গ্রিড স্থিতিশীলতা এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের জন্য কার্যকর সমধান নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করতে চায়।”