এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সমাপ্ত গবেষণাসমূহের ফলাফল ও অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণা পরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে ‘বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০২৬’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান অদ্য ০৫/১১/২০২৬ খ্রি. তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার বিকালে বিএলআরআই এর প্রধান কার্যালয় সাভারে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালাটির সমাপনী ঘোষণা করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামার, সাভার, ঢাকা এর পরিচালক জনাব মো. শহিদুল ইসলাম এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ড. এ. এস. এম. গোলাম হাফিজ। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই দুইদিনব্যাপী চলা এই কর্মশালায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান। সুপারিশমালা উপস্থাপনের পরে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। পর্বটি পরিচালনা করেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আবদুছ ছালাম বলেন, জাতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষি এবং প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব বাড়ছে। এর পেছনে বড় অবদান বিএলআরআই এর বিজ্ঞানীদের নিরসল পরিশ্রম এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ কর্মীদের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম। প্রাণিসম্পদ খাতকে লাভজনক করে তোলা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। এর জন্য খাদ্য খরচ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার খরচ কমাতে হবে। কৃষিতে ইতোমধ্যেই গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (জিএপি) পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে, প্রাণিসম্পদ খাতের জন্যও গুড লাইভস্টক প্র্যাকটিস (জিএলপি) এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ খাতে গবেষণা জোরদারকরণের ক্ষেত্রে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নজরে আনতে হবে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নিয়ে গবেষণা করতে হবে, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমাতে হবে। ট্রান্সবাউন্ডারি রোগ নিরসনে কাজ করতে হবে এবং এজন্য ভ্যাকসিনেশনকে গুরত্ব দিতে হবে। হাই প্রোটিন এনরিচ ফডার নিয়ে কাজ করতে হবে। তবেই ফিড কস্ট কমবে, খামার প্রফিটেবল হবে। লোকাল ব্রিডকে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি ক্রস ব্রিড তৈরির মাধ্যমে দুধের উৎপাদন বাড়াতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীগণ যে সকল সুপারিশ প্রদান করেছে, বিএলআরআই এর সক্ষমতা সাপেক্ষে সেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিতে গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করবে। বিএলআরআই ইতোমধ্যে দেশী মুরগির জাত উন্নয়নের কাজ করছে। বাচ্চা অবস্থায় ঠিক মতো ব্রুডিং করলে এবং খাদ্যসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা সম্ভব হলে দেশী মুরগির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। ফিডের উপরে ব্যাপক কাজ হয়েছে এবং আরও কাজ করতে হবে। ঘাসের বেস্ট ম্যানেজমেন্ট প্র্যাকটিসের মাধ্যমে ঘাসভিত্তিক প্রাণী পালন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে গবাদি প্রাণী হতে গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমনের পরিমাণও কমানো সম্ভব হবে। জাত উদ্ভাবন ও ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের উপরেও বিএলআরআইতে কাজ হচ্ছে। সীমিত বাজেট ও সীমিত জনবল নিয়ে বিএলআরআই জাতীয় চাহিদার নিরিখে কাজ করে যাচ্ছে।
বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০২৬ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে আগত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, প্রাণী ও পোল্ট্রি উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত বিশেষজ্ঞ এবং সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, খামারি এবং বিএলআরআই-এর বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
এবারের কর্মশালায় ছয়টি সেশনে সর্বমোট ৩৩ (তেত্রিশ) টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে প্রথম দিনে “নিউট্রিশন, ফিডস অ্যান্ড ফিডিং ম্যানেজমেন্ট” শীর্ষক প্রথম সেশনে ০৬ (ছয়) টি এবং “অ্যানিম্যাল অ্যান্ড পোল্ট্রি ডিজিজ অ্যান্ড হেলথ” শীর্ষক দ্বিতীয় সেশনে ০৮ (আট) টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে “অ্যানিম্যাল অ্যান্ড পোল্ট্রি ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস” শীর্ষক তৃতীয় সেশনে ০৬ (ছয়) টি; “বায়োটেকনোলজি, ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেইরি রিসার্চ” শীর্ষক চতুর্থ সেশনে ০৮ (আট) টি এবং “সোশিও-ইকোনোমিকস অ্যান্ড ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ” শীর্ষক পঞ্চম সেশনে ০৫ (পাঁচ) টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি কর্মশালায় বিএলআরআই এর চলমান বিভিন্ন গবেষণার উপর মোট ৩৭ (সাইত্রিশ) টি পোস্টারও প্রদর্শন করা হয়।