Friday, October 09, 2026
বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬: টেকসই পোল্ট্রি খাত -শক্তি ও সুরক্ষার প্রতীক
08, Oct 2026 | গবেষণা ও ফিচার

কৃষিবিদ ড. এস.এম. রাজিউর রহমান সহকারী অধ্যাপক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)

ভূমিকা
প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বব্যাপী বিশ্ব ডিম দিবস (World Egg Day) পালিত হয়। ২০২৬ সালে দিবসটি পালিত হবে ৯ অক্টোবর, এবং এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি বিশ্ব ডিম দিবসের ৩০তম বর্ষপূর্তি। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় বিশ্ব ডিম দিবসের সূচনা হয়েছিল। এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য “Protein that Powers and Protects” অর্থাৎ, “যে প্রোটিন শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়”। এই প্রতিপাদ্য শুধু ডিমে প্রোটিন থাকার বিষয়টিকেই তুলে ধরে না; বরং মানবস্বাস্থ্য বৃদ্ধি, পেশি রক্ষণাবেক্ষণ, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, রোগপ্রতিরোধ এবং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যে ডিমের বহুমাত্রিক ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।

পুষ্টির সহজলভ্য উৎস ডিম
ডিম ডিম হলো উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যেখানে মানুষের শরীরের প্রয়োজনীয় নয়টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড বিদ্যমান। পাশাপাশি ডিমে কোলিন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, যা মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, পেশি এবং স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ডিমের প্রোটিন অত্যন্ত সহজে হজমযোগ্য এবং প্রোটিন ডাইজেস্টিবিলিটি-কারেক্টেড অ্যামিনো অ্যাসিড স্কোর (PDCAAS)-এর সর্বোচ্চ মানের কাছাকাছি। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমের প্রোটিন কঙ্কাল-পেশির স্বাস্থ্য, পেশি গঠন এবং বয়সজনিত পেশি ক্ষয় বা সারকোপেনিয়া মোকাবিলায় সহায়ক একটি উচ্চমানের খাদ্য প্রোটিন হিসেবে কাজ করে। ডিমের সাদা অংশে থাকা লাইসোজাইম ও ওভোট্রান্সফেরিনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, আর কুসুমে ফসভিটিনসহ বিভিন্ন বায়োঅ্যাকটিভ প্রোটিন ও পেপটাইড পাওয়া যায়, যেগুলো নিয়ে খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে। 

ডিম ও কোলেস্টেরল: কুসংস্কার  ও প্রচলিত ধারণার বাইরে বিজ্ঞান কী বলছে? 
একসময় ডিমে খাদ্যজনিত কোলেস্টেরল থাকার কারণে ডিম খাওয়া নিয়ে ব্যাপক ভীতি ছিল। তবে বর্তমান গবেষণা বলছে, বিষয়টি এত সরল নয়। একজন মানুষের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ, শরীরের ওজন, ডায়াবেটিস, লিপিড প্রোফাইল এবং হৃদ্‌রোগজনিত ঝুঁকিসবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। বিশেষভাবে, DIABEGG র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল্ড ট্রায়াল-এ দেখা গেছে, প্রিডায়াবেটিস বা টাইপ-২ ডায়াবেটিস থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সপ্তাহে প্রায় ১২টি ডিম গ্রহণের সঙ্গে কম ডিম খাওয়ার খাদ্যাভ্যাসের তুলনায় কার্ডিওমেটাবলিক ঝুঁকির উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর পরিবর্তন পাওয়া যায়নি, যখন অংশগ্রহণকারীরা একটি স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পরিকল্পনা অনুসরণ করেছেন। আরও একটি সিস্টেমেটিক রিভিউ-এ দেখা যায়, বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সপ্তাহে ৬–১২টি ডিম গ্রহণ মোট কোলেস্টেরল, এলডিএল কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড, ফাস্টিং গ্লুকোজ বা ইনসুলিনের ওপর ধারাবাহিক ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করেনি। তবে ব্যক্তিভেদে স্বাস্থ্যঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে; তাই ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ বা গুরুতর ডিসলিপিডেমিয়া থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য পরিকল্পনা করা উত্তম।

অতএব, “ডিম খেলেই কোলেস্টেরল বেড়ে যায়” এমন সরলীকৃত ধারণা যেমন বৈজ্ঞানিকভাবে যথাযথ নয়, তেমনি “যত খুশি ডিম খেলেও কোনো সমস্যা হয় না” এমন দাবিও গ্রহণযোগ্য নয়। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ডিমকে বিবেচনা করাই যুক্তিসংগত।

আবার একসময় পরীক্ষার আগে ডিম খাওয়া নিয়ে নানা ধরনের কুসংস্কার প্রচলিত ছিল। অনেক মা, দাদী ও নানী বিশ্বাস করতেন যে সন্তানরা যদি পরীক্ষার আগে ডিম খায়, তবে তারা শূন্য নম্বর পাবে কারণ ডিমের আকৃতি শূন্যের মতো। তাই পরীক্ষার আগে ডিম খেতে দেওয়া হতো না। কিন্তু এটি ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কুসংস্কার। বাস্তবে ডিম একটি পুষ্টিকর খাবার, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। পরীক্ষার আগে ডিম খেলে বরং মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও কর্মক্ষমতা উন্নত হতে পারে। তাই এই ধরনের ভুল ধারণা দূর করে ডিমকে স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

বাংলাদেশের শিশু পুষ্টির বর্তমান চিত্র
বাংলাদেশে শিশু অপুষ্টি এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সর্বশেষ বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (MICS) ২০২৫, যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফ-এর সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে, তাতে দেখা যায়  পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ২৪% খর্বকায় বা স্টান্টেড, ২৩% কম ওজনের (আন্ডারওয়েট), ১২.৯% অপচয়গ্রস্ত বা ওয়েস্টেড অর্থাৎ উচ্চতার তুলনায় ওজন কম। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর মধ্যে মাত্র ৫৬.৬% এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং পায় এবং ৬–২৩ মাস বয়সী শিশুর মাত্র ২৯.৫% ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য (minimum acceptable diet) পায়। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো, এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং-এর হার ২০১৯ সালের ৬২.৬% থেকে ২০২৫ সালে ৫৬.৬%-এ নেমে এসেছে এবং একই সময়ে ওয়েস্টিং-এর হারও বেড়েছে।

এ বাস্তবতায় ছয় মাস বয়সের পর বয়সোপযোগী সম্পূরক খাদ্য (complementary feeding)-এর অংশ হিসেবে ডিমসহ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ প্রাণিজ খাদ্য শিশুর খাদ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রথম ছয় মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ-এর সুপারিশ অনুযায়ী এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং-ই শিশুর প্রধান পুষ্টির উৎস হওয়া উচিত।

নারী ও মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও পুষ্টির গুরুত্ব সমান। বাংলাদেশে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু কম জন্ম-ওজন নিয়ে জন্মায়; ইউনিসেফ-এর তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে আনুমানিক সাত লাখ শিশু লো বার্থওয়েট নিয়ে জন্ম নেয় যা মাতৃস্বাস্থ্য ও পুষ্টির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই ডিমের মতো তুলনামূলক সহজলভ্য ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ খাদ্য নারী, কিশোর-কিশোরী এবং সম্পূরক খাদ্য গ্রহণযোগ্য বয়সী শিশুদের খাদ্যবৈচিত্র্য বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।

বাংলাদেশে ডিম উৎপাদন: অর্জন আছে, চ্যালেঞ্জও আছে
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিম উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে ২,৪৪০.৬৫ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়েছে, যা ২০১০–১১ অর্থবছরের ৬০৭.৮৫ কোটি ডিমের প্রায় চার গুণ। একই হিসাবে বর্তমানে জনপ্রতি ডিমের প্রাপ্যতা বছরে প্রায় ১৩৭টি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর দেশকে ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবেও উল্লেখ করেছে। কিন্তু শুধু মোট উৎপাদন দিয়ে মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা বিচার করলে চলবে না। উৎপাদন, বাজারদর, ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা ও খামারির ন্যায্যমূল্য চারটি বিষয়কে একই সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বাজারে ডিমের দাম দ্রুত বেড়ে গেলে দেশের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিয়মিত ডিম কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের উৎপাদন খরচ উঠে আসে না। তাই উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করতে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ ও সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা
ডিমের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশে একটি হালনাগাদ ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পোল্ট্রি ডাটাবেস থাকা জরুরি। সেখানে নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন ডিমের প্রকৃত উৎপাদন, লেয়ার মুরগির সংখ্যা, হ্যাচারি ও চিক উৎপাদন, খাদ্য ও খাদ্য উপাদানের মূল্য, ফার্ম-গেট মূল্য, পাইকারি ও খুচরা মূল্য, অঞ্চলভিত্তিক সরবরাহ ও চাহিদা, উৎপাদন ব্যয় এবং খামার বন্ধ বা নতুন খামার চালুর তথ্য। এ ধরনের রিয়েল-টাইম বা নিকট-রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া গেলে সরকার আগেভাগে বাজারের ঘাটতি বা অতিরিক্ত সরবরাহ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এতে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি কিংবা অস্বাভাবিক মূল্যপতনের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।

প্রান্তিক খামারি সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ
দেশের পোল্ট্রি খাতকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করতে পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বা সমন্বিত পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের মানসম্পন্ন চিক, সাশ্রয়ী খাদ্য, ভ্যাকসিন ও ওষুধ, বায়োসিকিউরিটি সহায়তা, রোগ নির্ণয়, প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং বাজার সংযোগ সবকিছু একটি সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে প্রদান করা সম্ভব হবে। সরকারি পোল্ট্রি ফার্ম ও ব্রিডিং সুবিধার সক্ষমতা বাড়িয়ে মানসম্পন্ন লেয়ার এবং সোনালি-টাইপ চিক উৎপাদন ও বিতরণে কাজ করছে। এ কাজে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF), ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যুবক ও গ্রামীণ নারীদের জন্য পোল্ট্রি উদ্যোক্তা কর্মসূচি চালু করা হলে ডিম উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভবিষ্যতের খামার হতে হবে জলবায়ুসহনশীল
বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলাবদ্ধতা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং অন্যান্য জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই ভবিষ্যতের পোলট্রি ফার্ম পরিকল্পনায় জলবায়ু-স্মার্ট চর্চা অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। উন্নত ভেন্টিলেশন ও হিট-স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পানি সরবরাহ, দুর্যোগসহনশীল শেড ডিজাইন, সোলার এনার্জি ব্যবহার, দক্ষ খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মল ব্যবস্থাপনা, রোগ পর্যবেক্ষণ এবং শক্তিশালী বায়োসিকিউরিটি এসব ব্যবস্থাকে খামারের নকশা ও ব্যবস্থাপনার অংশ করতে হবে। এর ফলে একদিকে জলবায়ুজনিত ক্ষতির ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে পোলট্রি উৎপাদন আরও দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে।

বিশ্ব ডিম দিবসকে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখা নয়
বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে শুধু র‍্যালি বা আলোচনা সভা নয়, বাস্তবমুখী কার্যক্রম নেওয়া যেতে পারে। যেমন—
•    স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ে সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন;
•    দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য পুষ্টি কার্যক্রম;
•    স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ে সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন;
•    গ্রামীণ নারীদের জন্য ডিমভিত্তিক পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুত ও খাদ্য-নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ আয়োজন;
•    খামারিদের জন্য বায়োসিকিউরিটি, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা;
•    ফার্ম-টু-মার্কেট সাপ্লাই চেইন উন্নয়ন;
•    এবং উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ।
এর পাশাপাশি ডিম নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কার দূর করতে চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ, প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গণমাধ্যমকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

উপসংহার
ডিম কেবল একটি খাদ্যপণ্য নয়; এটি পুষ্টি, জনস্বাস্থ্য, কৃষি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিজ খাদ্য। বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য “Protein that Powers and Protects” আমাদের মনে করিয়ে দেয় উচ্চমানের প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের উৎস হিসেবে ডিম মানুষের জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ডিম উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এখন পরবর্তী লক্ষ্য হওয়া উচিত উৎপাদনের পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করা, নিরাপদ ডিম সরবরাহ করা, খামারিদের ন্যায্যমূল্য প্রদান করা, শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা এবং জলবায়ু-স্মার্ট ও টেকসই পোল্ট্রি উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তবেই দেশের উৎপাদিত ডিম সত্যিকার অর্থে প্রতিটি পরিবারের পুষ্টিতে পৌঁছাবে এবং একটি সুস্থ জাতি গঠনে সহায়ক হবে।

তথ্যসূত্র
1.    World Egg Organisation. World Egg Day 2026: Protein that Powers and Protects.
2.    Bangladesh Bureau of Statistics (BBS) & UNICEF. Bangladesh Multiple Indicator Cluster Survey (MICS) 2025.
3.    Department of Livestock Services (DLS), Bangladesh. Livestock Production Statistics, 2024–25.
4.    Fuller NR et al. DIABEGG Study, American Journal of Clinical Nutrition.
5.    Richard C et al. Systematic review of egg consumption and cardiovascular risk factors in people with or at risk of type-2 diabetes.
6.    UNICEF Bangladesh. Maternal, newborn and child nutrition data. Reviews on nutritional and functional properties of egg protein published in peer-reviewed biomedical literature.

-(লেখক আইআরজি/ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অধীনে জাতীয় প্রাণিসম্পদ ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন;  ইকো-সিকিউরিটি/এসএসআইএল, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অধীনে মিথেন নির্গমন এবং কার্বন ফাইন্যান্স প্রকল্পে একজন  জাতীয় উপদেষ্টা ; জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (UNIDO) সংস্থা জাতীয় দুগ্ধ বিশেষজ্ঞ এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) সাবেক জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী  হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন)।

Agrilife24 Logo

Agriculturist Md. Shafiul Azam, Editor & CEO
Dhaka Office: 141/4, Lake Circus, Kalabagan, Dhanmondi, Dhaka-1205.
Bogura Office: Hakim Son's House, Seujgari, Bogura-5800.
Email: info@agrilife24.com, editor@agrilife24.com, news@agrilife24.com
Contact: +880 2-48112812, Whatsapp: +880 1912-837-999

Social Share

© Agrilife24 . All Rights Reserved. Developed by Innovative Soft