‘Safe Poultry for Global Markets’ প্রতিপাদ্যে মার্চে ঢাকায় বসছে আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শিল্পের বৃহৎ মিলনমেলা
এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করা, নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের রপ্তানি সম্ভাবনাকে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘১৪তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার-২০২৭’। এ উপলক্ষে আজ সোমবার (২ নভেম্বর) দেশের পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আসন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনের প্রস্তুতি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, বিশেষ আকর্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন আয়োজকরা।
ওয়ার্ল্ড'স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখা (WPSA-BB) এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (BPICC) যৌথভাবে এ আন্তর্জাতিক আয়োজনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আগামী ১৬ ও ১৭ মার্চ ২০২৭ তারিখে ঢাকার লে মেরিডিয়ান হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক কারিগরি সেমিনার। পরবর্তীতে ১৮ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত পূর্বাচলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (ICCB) অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো।
এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘Safe Poultry for Global Markets’। আয়োজকদের মতে, বিশ্ববাজারে পোল্ট্রি পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পকে এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে। এ লক্ষ্যেই এবারের শো ও সেমিনারে বায়োসিকিউরিটি, রোগ প্রতিরোধ, আধুনিক উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি এবং টেকসই ভ্যালু চেইন উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা বিজ্ঞানী, গবেষক, পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং প্রযুক্তি সরবরাহকারীরা অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের পোল্ট্রি শিল্পের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদন, রোগ নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের পোল্ট্রি শোতে দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় পোল্ট্রি, ফিড, অ্যানিমেল হেলথ ও ইক্যুইপমেন্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা নিয়ে অংশগ্রহণ করবে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে পোল্ট্রি পণ্যের পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরতে রান্নার প্রতিযোগিতা, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিনির্ভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মিউজিক্যাল প্রোগ্রাম এবং বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী ও সমাপনী আয়োজন। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণে থাকবে বিশেষ B2B নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ।
আয়োজকরা জানান, পূর্ববর্তী আয়োজনগুলোর ধারাবাহিকতায় এবার আরও বৈচিত্র্যময় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুই দিনব্যাপী কারিগরি সেমিনারকে ভিন্ন ভিন্ন সময়োপযোগী থিমে সাজানো হচ্ছে, যাতে গবেষক, উদ্যোক্তা, খামারি ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দিকনির্দেশনা লাভ করতে পারেন। প্রদর্শনী প্রাঙ্গণেও থাকছে বিশেষ থিমভিত্তিক জোন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Export Zone, Sustainability Zone এবং Safe Food Zone। এসব জোনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পোল্ট্রি শিল্প গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোল্ট্রি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবারের আয়োজনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে গ্লোবাল ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের (WPSA) প্রেসিডেন্ট ড. ব্রুস রাথগেবারের (Dr. Bruce Rathgeber) উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। পাশাপাশি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ ও প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছে। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে বৈশ্বিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন আরও শক্তিশালী করবে।
মতবিনিময় সভায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসন্ন শো ও সেমিনারকে সফল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে গবেষক, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, পোল্ট্রি উৎপাদনকারী, ফিড প্রস্তুতকারী, ওষুধ ও ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ইক্যুইপমেন্ট সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গবেষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের কাছ থেকে মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধ আহ্বান করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পাওয়া গেছে এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবেষণা প্রবন্ধ জমা পড়েছে, যা এবারের কারিগরি সেমিনারের মান ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
সভায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোল্ট্রি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের বিষয়টিও বিশেষভাবে আলোচিত হয়। গত তিন দশকে এ খাত গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে হলে নিরাপদ উৎপাদন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রপ্তানিমুখী শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে ১৪তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার-২০২৭ দেশের পোল্ট্রি শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন WPSA-BB-এর প্রেসিডেন্ট জনাব শামসুল আরেফিন খালেদ, জেনারেল সেক্রেটারি জনাব মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, ১৪তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো অ্যান্ড সেমিনার-২০২৭-এর মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কমিটির আহ্বায়ক ড. শামীম আহমেদ এবং কমিটির সচিব মো. জাকারিয়া ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন ভেন্যু ম্যানেজমেন্ট কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, BPICC-এর মিডিয়া কোঅর্ডিনেটর সাবরিনা নওরিন লিমু এবং মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা আসন্ন আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘১৪তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার-২০২৭’ কেবল একটি প্রদর্শনী বা সম্মেলনে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখবে। ‘Safe Poultry for Global Markets’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।