এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: আধুনিক কৃষির সম্ভাবনা, প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবন এবং কৃষি উদ্যোক্তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে তিন দিনব্যাপী ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬। রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় গত ৫ নভেম্বর শুরু হওয়া এ আন্তর্জাতিক আয়োজন শনিবার (৭ নভেম্বর) শেষ হয়। মেলার শেষ দিনেও দর্শনার্থী, কৃষি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, কৃষি সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং দেশি-বিদেশি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
মেলার বিভিন্ন স্টলে আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত প্রযুক্তি, কৃষি উপকরণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, পণ্যের কার্যকারিতা ও গুণগত মান যাচাই এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে কৃষির প্রচলিত উৎপাদনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও বাণিজ্যিক কৃষির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ মেলাজুড়ে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
মেলায় আগত দর্শনার্থী ও উদ্যোক্তাদের অনুভূতিতে উঠে আসে, কৃষি প্রযুক্তির এমন আন্তর্জাতিক আয়োজন দেশের কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। একই জায়গায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানার সুযোগ নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হয়েছে। বিশেষ করে যারা কৃষিভিত্তিক নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান কিংবা বিদ্যমান কৃষি উদ্যোগকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করতে চান, তাদের জন্য মেলাটি নতুন ধারণা, প্রযুক্তি নির্বাচন এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের কৃষিকে শুধু উৎপাদননির্ভর না রেখে আধুনিক যান্ত্রিকীকরণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষি ব্যবসায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখ্য, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ার্স অ্যান্ড এক্সিবিশনসের যৌথ উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় অংশগ্রহণকারী ১২টি দেশের প্রায় ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের ৫৩টি স্টলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণসহ কৃষি খাতের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও সমাধান তুলে ধরা হয়। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ মেলাটিকে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত করে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, এ ধরনের আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এর পরিসর আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। কৃষির আধুনিকায়ন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকারের নীতিগত সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার হলে বাংলাদেশের কৃষি খাত দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।