এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস), ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) এবং পার্টনাররা যৌথভাবে ছয় মাসব্যাপী জরুরি ডেঙ্গু মোকাবিলা কার্যক্রম শুরু করেছে। এ উদ্যোগের আওতায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও সংক্রমণ প্রবণ এলাকাগুলোর প্রায় তিন লাখ মানুষকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।
আইএফআরসি'র ডিজাস্টার রেসপন্স ইমার্জেন্সি ফান্ড (DREF)-এর সহায়তায় পরিচালিত এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য সর্বোচ্চ ডেঙ্গু সংক্রমনিত এলাকা; বিশেষ করে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ কক্সবাজারের ক্যাম্প ও আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এই কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় এই কার্যক্রম ভবিষ্যতে অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
আগস্টের শেষ দিকে ভারী মৌসুমি বৃষ্টির পর দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DHGS) তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ২০১ জনের।
বিডিআরসিএস মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, 'ডেঙ্গু দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি। রেড ক্রিসেন্ট ভলান্টিয়াররা স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে ডেঙ্গু মোকাবিলায় কাজ করছে।'
তিনি আরও বলেন 'ছয় মাসব্যাপী এই উদ্যোগের মাধ্যমে আইএফআরসি ও পার্টনারদের সহায়তায় আমরা উচ্চ ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রবণ এলাকায় আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় পরিবারগুলোকে সহায়তা করার উদ্যোগ জোরদার করছি,' যোগ করেন তিনি।
বিডিআরসিএস-আইএফআরসির এই কার্যক্রমে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা, রক্তদান এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা; ইত্যাদি বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রমে ১,০০০ রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবককে সম্পৃক্ত করা।
সরকারি হাসপাতাল ও রেড ক্রিসেন্ট স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ১ লাখ ইউনিট আইভি স্যালাইন, ৫০ হাজার ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, ৩ হাজার ট্রিপল ব্লাড ব্যাগ, ১০০টি অ্যাফেরেসিস (apheresis) কিট এবং ২,৫০০টি মশারি সহায়তা হিসেবে দেওয়া।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ২,৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এককালীন ১০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা প্রদান। এক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও রোগীর পরিবার; যারা ডেঙ্গু চিকিৎসা ও অসুস্থতাজনিত কারনে অতিরিক্ত ব্যয় অ আর্থিক সংকটে পড়েছেন; তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
১৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে (চিকিৎসক ও নার্স) সর্বশেষ জাতীয় ডেঙ্গু চিকিৎসা নির্দেশিকা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
রেড ক্রস-রেড ক্রিসেন্ট আরও আগে থেকেই দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। ইতোমধ্যেই আইএফআরসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৩৮ হাজার এনএস১ ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট এবং রেড ক্রিসেন্ট ঢাকা ব্লাড সেন্টারকে ৫০টি অ্যাফেরেসিস কিট সরবরাহ করেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশে আইএফআরসির হেড অব ডেলিগেশন সেভাল গুজেলকিলিঞ্চ বলেন, 'ডেঙ্গুর কারণে দেশজুড়ে বিভিন্ন পরিবার, এলাকা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংক্রমণ প্রতিরোধের কাজ শুরু হয় স্থানীয় পর্যায় থেকে। সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মশার প্রজননস্থল কমানোর উদ্যোগের মাধ্যমে।'
তিনি আরও বলেন, 'স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগের পাশাপাশি সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগকে যুক্ত করাই আমাদের এই কার্যক্রমের শক্তি। রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা মানুষকে নিজেদের সুরক্ষায় সহায়তা করতে, সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা পেতে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ওপর ডেঙ্গুর প্রভাব কমাতে সহযোগিতা করতে পারি।'
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার শুরু থেকেই বিডিআরসিএস এলাকাভিত্তিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্লাডসেন্টার গুলোর মাধ্যমে জাতীয় ডেঙ্গু মোকাবিলা কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর সরকারের দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানেও বিডিআরসিএস ১,০০০ স্বেচ্ছাসেবককে সম্পৃক্ত করে।