মো: দেলোয়ার হোসেন:বাংলাদেশের আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাতি রয়েছে রাজশাহীর। কিন্তু বর্তমানে রাজশাহীকে ছাড়িয়ে নওগাঁ জেলায় সর্বাধিক পরিমাণ আম বাগান স্থাপিত হয়েছে। নওগাঁ জেলার ১১ টি উপজেলার মধ্যে ধামইরহাট উল্লেখযোগ্য। তন্মধ্যে উপজেলার আগ্রাদিগুন ইউনিয়নের উত্তর কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জিল্লুর রহমান ২০১৬ সাল থেকে আম চাষ করে আসছেন।
জিল্লুর রহমান ২০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বাগান স্থাপনের মাধ্যমে আম চাষের যাত্রা শুরু করেন। তিনি ধীরে ধীরে আম বাগানটি ৭৮ বিঘার রুপান্তর করেন। তাঁর বাগানে ৩-৪ প্রজাতির আম গাছ আছে। যেখানে রয়েছে ৪৫ বিঘায় বারি আম-৪, আম রুপালী ২৭ বিঘা, ব্যানানা ম্যাংগো ৩ বিঘা এবং আরো ৩ বিঘায় রয়েছে গৌড়মতি ও কাটিমন জাতের আম।
আম চাষি জিল্লুর রহমান জানান, বাবা গিয়াস উদ্দিনের মৃত্যুর সময় মাত্র ৫ বিঘা নিজস্ব জমি নিয়ে কৃষি কাজ শুরু করেন। বর্তমানে নিজস্ব জমি হয়েছে ৩৭ বিঘা। বড় ভাইয়ের সংগে যৌথ ভাবে কৃষি কাজ ও ব্যবসার পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যান এবং ১৯৯৬ সালে আরবিতে ফাজিল (বিএ) ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি বলেন ২০১৯ সালে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আরো ৬৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মোট ৭৮ বিঘার আম বাগান গড়ে তুলেন। বাগানে প্রতি মাসে ২০০ জন লেবার কাজ করেন। তবে আম মৌসুমে প্রতি মাসে ৭৫০ জন লেবার প্রয়োজন হয়। তিনি আরো বলেন গত মৌসুমে আম বিক্রয় করেন ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার এবং খরচ হয়েছে ৯০ লক্ষ টাকা। সেখানে লাভ করেন ৪০ লক্ষ টাকা। তিনি বলেন নিজ গ্রাম থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে ধনঞ্জয়নগর গ্রামে আম বাগান গড়ে তুলেন। তাঁর লাভ দেখে এলাকায় আরো ৮-১০ টি আম বাগান স্থাপন করে ৪০০-৪৫০ বিঘা জমিতে আম চাষ করছেন।
ধামইরহাট উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন নওগাঁ জেলায় ৩০,৩১০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে, তন্মধ্যে ধামইরহাট উপজেলায় রয়েছে ৭৯৫ হেক্টর জমিতে। তিনি বলেন ধামইরহাট উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক ৭৮ বিঘা জমিতে আম বাগান করেন জিল্লুর রহমান। তাঁর বাগানে কাটিমন জাতের বারোমাসি আম রয়েছে যেখান থেকে তিনি ভাল মূল্য পাচ্ছেন। তিনি উপজেলা কৃষি অফিসার, উপ সহকারী কৃষি অফিসারের পরামর্শ মোতাবেক বাগান স্থাপন, বাগানের পরিচর্যা, রাসায়নিক ও জৈব সার ব্যবহার এবং বালাইনাশক প্রয়োগ করে থাকেন। জিল্লুর রহমানের সফলতা দেখে উপজেলার অনেক শিক্ষিত যুবক আম বাগান স্থাপন করছেন। তিনি উপজেলার শিক্ষিত যুব উদ্যোক্তাগনকে এগিয়ে আসার আহবান জানান এবং নতুন নতুন আম বাগান স্থাপনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার অনুরোধ জানান।