এগ্রিলাইফ প্রতিনিধি:মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফসলভিত্তিক সারের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ এবং কৃষিতে সারের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে IoT-ভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তি ‘স্মার্ট GFL Soil Sensor Pro . উপজেলা প্রশাসন, মিরপুরের উদ্যোগে উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের হাতে এসব ডিভাইস তুলে দেওয়া হয়।
এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আফরোজ শাহীন খসরু মোট ১৫টি GFL Soil Sensor Pro ডিভাইস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমানের হাতে হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা কৃষি অফিস এবং এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
মাটি পরীক্ষা ও সঠিক সার ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারে GFL Soil Sensor Pro একটি IoT-ভিত্তিক স্মার্ট প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মাটির আটটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করা সম্ভব। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে মাটির অবস্থান (Location) ও নির্দিষ্ট ফসলের চাহিদা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সারের মাত্রা নির্ধারণে সহায়তা করে এই প্রযুক্তি।
ডিভাইসটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো, মাটির পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে বাংলা ভাষায় ফসলভিত্তিক সারের পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন প্রিন্ট করা যায়। এতে বিশেষ করে নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P) ও পটাশিয়াম (K) এই তিনটি প্রধান পুষ্টি উপাদানের চাহিদা অনুযায়ী সারের যৌক্তিক ব্যবহারে কৃষককে দিকনির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে অনুমাননির্ভর সার প্রয়োগের পরিবর্তে মাটির প্রকৃত অবস্থা ও ফসলের প্রয়োজন বিবেচনায় সার ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ কমানো, উৎপাদন খরচ সাশ্রয় এবং মাটির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৪০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ডিভাইস বিতরণের পাশাপাশি ৪০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে GFL Soil Sensor Pro পরিচালনা, মাটির তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং ফসলভিত্তিক সার ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত প্রেসক্রিপশন তৈরি ও প্রিন্ট করার বিষয়ে হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণটি কারিগরিভাবে পরিচালনা ও ফ্যাসিলিটেট করেন জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেডের হেড অব এগ্রিকালচার সমীরণ বিশ্বাস। তাঁর সঙ্গে প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করেন প্রতিষ্ঠানের লিড ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম এবং আইটি বিশেষজ্ঞ মো. সাইফুল। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ডিভাইসের ব্যবহারিক প্রয়োগ, প্রযুক্তিগত কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সেবা প্রদানের কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
কৃষি সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা, কৃষির আধুনিকায়ন, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে, গতানুগতিক প্রকল্পের উপর নির্ভর না করে- মিরপুর উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে এ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারিত হলে কৃষকরা সহজেই মাটির স্বাস্থ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা এবং ফসলভিত্তিক সারের পরামর্শ পাবেন।
বিশেষ করে মাটির পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি ও ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সারের অপচয় কমানো, মাটির উর্বরতা সংরক্ষণ এবং টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি সহায়ক হতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এমন সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষিকে আরও দক্ষ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। মাটি বুঝে সার প্রয়োগ, স্মার্ট কৃষিতে বাড়ুক লাভ, সুরক্ষিত হোক মাটির স্বাস্থ্য।