ইসলামিক ডেস্ক:পবিত্র আল-কোরআনের সূরা আল-আহকাফের ৩১ নম্বর আয়াতটি মুমিন মুসলমানদের জন্য এক মহা দিকনির্দেশনা। এই আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে সত্যের পথে আহ্বান জানিয়েছেন এবং সেই পথে চলার বিনিময়ে ক্ষমা ও মুক্তির সুসংবাদ দিয়েছেন।
আয়াতটিতে বলা হয়েছে: “হে আমাদের জাতি, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও আনুগত্যের সাথে এবং তাঁর প্রতি ঈমান আন, তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর তোমাদেরকে (জাহান্নামের) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন।”
তাফসীরবিদদের মতে, এই আয়াতটি মূলত জিন জাতির একটি দল সম্পর্কে নাযিল হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন নাখলা উপত্যকায় কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন, তখন কয়েকজন জিন তা শ্রবণ করে। তারা কুরআনের অলৌকিকতা ও সত্য উপলব্ধি করে ঈমান আনে এবং নিজেদের জাতির কাছে ফিরে গিয়ে এই ভাষাতেই তাদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকে। এখানে "আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী" বলতে রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল দাঈ-ইলাল্লাহকে বোঝানো হয়েছে।
এই আয়াত থেকে আমরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই। প্রথমত, আল্লাহর ডাকে শুধু কান দেওয়া নয়, বরং পরিপূর্ণ আনুগত্যের সাথে তা গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আল্লাহর প্রতি খাঁটি ঈমান স্থাপন করতে হবে, যার মধ্যে তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের প্রতি অবিচল বিশ্বাস রয়েছে। তৃতীয়ত, এই ঈমান ও আনুগত্যের ফলাফল অত্যন্ত সুন্দর। আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করেছেন, তিনি বান্দার সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন এবং কিয়ামতের দিনের কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অর্থাৎ জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন।
আমাদের বর্তমান জীবনে এই আয়াতের প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। যদি আমরা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলি এবং অন্যদেরকেও সৎপথে ও ন্যায়ের সাথে জীবনযাপনের আহ্বান জানাই, তাহলে আমাদের পরিবারে শান্তি, সমাজে ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে। একজন মুমিনের কাজই হলো নিজে হেদায়েতের উপর থাকা এবং অন্যকে হেদায়েতের দিকে ডাকা।
এই আয়াত আমাদেরকে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের সফলতার রূপরেখা দিয়ে দেয়। দুনিয়াতে আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে আমরা পাই মানসিক শান্তি ও বরকত, আর পরকালে পাই আল্লাহর ক্ষমা ও চিরস্থায়ী জান্নাত। তাই আসুন, আমরা সকলে কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরি, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিই এবং নিজেদের জীবনকে ঈমান ও তাকওয়ার আলোয় আলোকিত করি।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তৌফিক দান করুন। আমিন।