Sunday, September 27, 2026
এক বছরেও চালু হয়নি ১০ তলা হলের লিফট, ভোগান্তিতে বাকৃবির খালেদা জিয়া হলের ছাত্রীরা
26, Sep 2026 | কৃষিবিদ ও ক্যাম্পাস

বাকৃবি প্রতিনিধি:আবাসন সংকট নিরসনে নির্মিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১০ তলাবিশিষ্ট বেগম খালেদা জিয়া হল চালুর এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো লিফট চালু হয়নি। ৩৫০ জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা হলে বর্তমানে আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৫৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রতিদিন ১০ তলা ভবনে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ক্লাসের ফাঁকে হলে যাওয়া, খাবার খাওয়া এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীদের নিচে নামানো নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

এ ছাড়া হলে জরুরি প্রয়োজনে রান্নার কোনো ব্যবস্থা নেই। ক্যান্টিন বন্ধ থাকলে কিংবা খাবারের জন্য নিচে নামতে অসুবিধা হলে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হয়। ক্যান্টিনের খাবারের মান, বৈচিত্র্য, মূল্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে বেগম খালেদা জিয়া হলের উদ্বোধন করা হয়। তখন ১০ তলা ভবনের প্রথম ছয় তলা শিক্ষার্থীদের থাকার উপযোগী করে ৩৫০ জন ছাত্রীকে আবাসন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভবনের বাকি অংশের নির্মাণকাজ শেষ হলে চলতি বছরের ৫ জুলাই ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে ওঠেন। বর্তমানে হলটিতে ৫৪৪ জন ছাত্রী আবাসিক হিসেবে রয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়া, ক্যান্টিনে খাবার খাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে ভবনের নিচে যেতে তাদের সিঁড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে। ক্লাসের ফাঁকে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিরতি থাকলেও অনেকেই ১০ তলা থেকে নামা-ওঠার ভয়ে হলে ফিরে যান না। একই দিনে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাস আলাদা সময়ে থাকলে দুইবার হলে যাতায়াত করতে হয়। এতে উঁচু তলায় থাকা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়ে।

পশুপালন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের অষ্টম তলায় থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্লাস শেষে অনেক ক্লান্ত থাকি। এরপর এত ওপরে উঠতে গিয়ে আরও কাহিল হয়ে পড়ি। অনেক সময় ক্লাসের ফাঁকে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিরতি থাকলেও রুমে ফিরতে পারি না। তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাস দিনে দুই সময়ে হওয়ায় হলে আসা-যাওয়া করতে অনেক কষ্ট হয়। আমাদের ক্যান্টিনও নিচতলায়। খাবার নিতে নিচতলা পর্যন্ত যেতে হয়, যা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। ক্যান্টিনের খাবারের মানও তেমন ভালো নয়।’

১০ম তলায় থাকা প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘১০ তলায় সিট পাওয়ায় অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। একবার ওপরে উঠলে আবার নিচে নামতে ইচ্ছা করে না। এ কারণে অনেক সময় দিনে এক বেলা খাবার খাই। একবার নিচে নেমে খাবার নিয়ে আসি। সকালের খাবারও অনেক সময় খাওয়া হয় না। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার ক্লাস বন্ধ থাকায় খাবারের কষ্ট আরও বেশি হয়। হলে রান্নার কোনো সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু রান্না করে খাওয়ারও উপায় নেই। তাই অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ তলা আবাসিক হলে লিফট নেই, এমনটা খুব কমই দেখা যায়। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে ক্লাস শেষে এবং খাবারের জন্য দীর্ঘ সিঁড়ি ভাঙতে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় ১০ তলার কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে। তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া এবং পরে আবার ওপরে তোলা খুবই কষ্টসাধ্য। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার স্বার্থে দ্রুত লিফট চালু করা জরুরি।’

লিফট চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা শিক্ষক ও হাউজ টিউটররা দফায় দফায় মিটিং করেছি। লিফট স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট চালু হবে।’

তিনি বলেন, ‘১০ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা কতটা কষ্টের, তা আমরা শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে অনুভব করি। লিফট চালু হলে ছাত্রীদের ভোগান্তি অনেকখানি কমে যাবে।’

লিফট চালুর অগ্রগতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মুহ. এনামুল হক বলেন, ‘খালেদা জিয়া হলের জাপানি প্রযুক্তির নতুন লিফটটির মেশিনসহ স্থাপনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এটি তিন তলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। পুরো কাজ শেষ হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পর লিফটটি স্থায়ীভাবে চালু করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপাতত একটি লিফট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য লিফটগুলোর যন্ত্রাংশ এলেও সেগুলোর কাজ শুরু হয়নি। নিয়মিত সার্ভিসিং নিশ্চিত করে একটি লিফট চালুর বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’

Agrilife24 Logo

Agriculturist Md. Shafiul Azam, Editor & CEO
Dhaka Office: 141/4, Lake Circus, Kalabagan, Dhanmondi, Dhaka-1205.
Bogura Office: Hakim Son's House, Seujgari, Bogura-5800.
Email: info@agrilife24.com, editor@agrilife24.com, news@agrilife24.com
Contact: +880 2-48112812, Whatsapp: +880 1912-837-999

Social Share

© Agrilife24 . All Rights Reserved. Developed by Innovative Soft