Thursday, October 08, 2026
একজন সফল নারী উদ্যোক্তার গল্প
07, Oct 2026 | ফারমার্স এন্ড ফার্মিং

এগ্রিলাইফ ডেস্ক:দক্ষিণ বঙ্গের উপকৃলবর্তী জেলা বাগেরহাটের একটি উপজেলা ফকিরহাট। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকৃলবর্তী অন্যান্য জেলার মতো বাগেরহাট জেলায় ও লবনাক্ততা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, সেচের পানি সংকটসহ বহুবিধ প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কৃষি কাজ করা হয়। প্রতিকৃল পরিবেশের সাথে নানা ধরেনর অভিযোজন কৌশলের মাধ্যমে এক ধরেনর লড়াই করেই দৈনন্দিন জীবন অতিবাহিত হয় গ্রামীণ জনপদ। এ অঞ্চলে কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে যেখানে একজন সাধারণ প্রমজীবী মানুষকে অনেক চিন্তা ভাবনা করতে হয়, সেখানে একজন গৃহিণী নিজেকে কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করার বিষয় বিবেচনায় আনা অন্তত: চ্যালেন্জিং একটি বিষয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এক্ষেত্রে প্রামীন জনেগাষ্ঠীর আর্থসামাজিক জীবন মান উন্নয়েন অত্যন্ত গুররুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের  প্রতিকৃল পরিস্থিতিতে চাষাবাদের নানা অভিযোজন কলাকৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, পাশাপাশি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারেও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়।

বর্তমান মূল্যস্ফীতির চাপে প্রামীন জনজীবন অনেকটাই অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। সাধারণ স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে দৈনন্দিন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করে স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এখানে একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী শাকসব্জি উৎপাদন করার কোন বিকল্প নেই। এধরেনর পরিস্থিতি মোকাবিলায় চম্পা খাতুন একটি বিপ্লবের নাম।

ফকিরহাট উপজেলার নলধা মৌভোগ ইউনিয়নের উকিলপাড়া গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন সাধারণ গৃহবধু চম্পা খাতুন। চম্পা খাতুনের স্বামী সরদার লুৎফর রহমান পেশায় একজন কৃষিজীবী। একজনের আয়ে কোন রকেম সংসার চলে। দুই সন্তানের লেখা পড়ার খরচ চালাতে হিমসিম খেতে হয় লুৎফরের।

নলধা ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে লুৎফর তার পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা করেন। ২০২২ সালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সহায়তায় লুৎফরের স্ত্রী চম্পা ডিএইতে চলমান এসএসিপি প্রকল্পের একটি প্রশিক্ষণে অংশগপ্রহন করার সুযোগ পান। প্রশিক্ষণে তিনি উচ্চমূল্য ফসল চাষ, ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন, ফলবাগান স্থাপন ও পরিচর্যা বিষয়ে জানতে পারেন। প্রাথমিক ধারণা থেকে তিনি ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদনের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। কারণ তার বাড়িতে যেহেতু গরু রয়েছে, তাই ভার্মিকম্পোস্ট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় গোবর তাকে বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হবে না। সেইসাথে তিনি এটাও বুঝতে পারেন যে এধরনের ছোট ছোট কৃষি পণ্যের ব্যবসা একজন গৃহিনী তার সাংসারিক কাজের অবসরেই করতে পারেন।

নলধা ইউনয়েনর দায়িত্বরত উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ ও সুপারিশে তিনি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চারটি সিমেন্টের রিং ও ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদনের কেঁচো সংগ্রহ করেন।  প্রাথমিকভাবে শুরু করেন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন। প্রথম মাসে প্রতিটি রিং থেকে ১৫-১৮ কেজি ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন করেন। এই সার তিনি নিজের বাড়িতে কৃষি উৎপাদন এ ব্যবহার করেন। পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরকেও ভার্মি কম্পোস্ট দিয়ে সহযোগীতা করেন। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের আগ্রহ দেখে তিনি এটি বিক্রির উদ্যোগ নেন এবং বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু করেন। 

কৃষি অফিসের সহযোগীতায় বড় পরিসরে চল্লিশটি সিমেন্টের রিং ব্যবহার করে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলেন। এখানে বর্তমানে প্রতি মাসে কমপেক্ষ ৮০০ কেজি সার উৎপাদিত হয়। ভার্মি কম্পোস্ট বিক্রি করে তিনি মাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করেন। এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে চম্পা কৃষি বিপনন অধিদপ্তর আয়োজিত উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার আচার তৈরী করতে শেখেন। বর্তমানে তিনি কুল,আম, জলপাইসহ নানাধরনের সুস্বাদু আচার তৈরি করেন এবং মোড়কজাত করে বিক্রি করেন। এখান থেকে বদলে যেতে শুরু করে তার জীবনের গল্প। নিজের জীবনকে তিনি নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করতে শুরু করেন।

উপজেলা মৎস্য অফিসের সহেযাগীতায় তিনি নিজ বাড়ির পুকুরে কৃত্রিম উপায়ে ঝিনুকে মুক্তা উৎপাদন করেন। এছাড়াও তার রয়েছে উন্নত জাতের মাল্টা ও সিডলেস লেবু বাগান। এসব বাগান থেকেও উনার একটি সম্মানজনক আয় হয়ে থাকে। এসকল কাজে তার স্বামী ও বড় সন্তানের স্ত্রী তাকে সার্বক্ষণিক সহযোগীতা করেন। বর্তমানে তার ছয়টি গরু রয়েছে। গরুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রথমে রান্নার জন্য গ্যাস তৈরি হয় এবং উচ্ছিষ্টাংশ ব্যবহার করে ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন করে থাকেন।

এভাবে সঠিক পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চম্পা বেগমের মত একটি আদর্শ বাসস্থান গড়ে তোলা সম্ভব, যেখান থেকে সংসারের জন্য বাড়তি আয়ের পাশাপাশি পরিবারের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্ভব। বাংলাদেশের মত একটি জনবহুল দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দেশে প্রতিটি ঘরে ঘরে চাই চম্পার মতো একজন আদর্শ কৃষক ও উদ্যোক্তা।

Agrilife24 Logo

Agriculturist Md. Shafiul Azam, Editor & CEO
Dhaka Office: 141/4, Lake Circus, Kalabagan, Dhanmondi, Dhaka-1205.
Bogura Office: Hakim Son's House, Seujgari, Bogura-5800.
Email: info@agrilife24.com, editor@agrilife24.com, news@agrilife24.com
Contact: +880 2-48112812, Whatsapp: +880 1912-837-999

Social Share

© Agrilife24 . All Rights Reserved. Developed by Innovative Soft