এগ্রিলাইফ প্রতিনিধি:দেশের গলদা চিংড়ি শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে SPF (Specific Pathogen Free) গলদা চিংড়ি চাষে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে আস্থা ফিড লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) শাহরিয়ার ইসলাম নয়ন বলেছেন, দেশের মোট সম্ভাব্য জলাশয়ের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করেও বাংলাদেশ বৈশ্বিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের চিংড়ি বাজারে মাত্র ২৫০ মিলিয়ন ডলারের অংশীদার হয়ে আছে। এর অন্যতম কারণ হলো সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং সঠিক বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার অভাব।
তিনি বলেন, শুধু উচ্চমূল্যের প্রিমিয়াম ফিড ব্যবহার করলেই কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না। গলদা চিংড়ির সঠিক বৃদ্ধি ও উৎপাদনের জন্য পুকুরের পরিবেশ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক পরিচর্যার মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সমগ্র শরীরকে ব্যতিরেকে কেবল মুখে রক্ত জন্মালেই তাকে স্বাস্থ্য বলে না”—ঠিক তেমনি শুধু ভালো ফিড নয়, প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা।
SPF গলদা চিংড়ি চাষে সফলতা অর্জনের জন্য তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ডাইজেস্টাবিলিটি সম্পন্ন ফিড ব্যবহার এবং পরিমিত খাদ্য প্রয়োগ। গলদা তলদেশ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে বলে অতিরিক্ত খাবার পানিতে পচে অ্যামোনিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা চাষের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য সঠিক FCR নিশ্চিত করতে সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
শাহরিয়ার ইসলাম নয়ন আরো বলেন, পুকুরের পিএইচ ও ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ডলোমাইট ও কৃষি চুন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গলদার খোলস পরিবর্তনের সময় ক্যালসিয়ামের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, ফলে এই উপাদানগুলো খোলস শক্ত করতে এবং তলদেশের বিষাক্ত গ্যাস দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুকুরের পরিবেশ সুস্থ রাখতে মানসম্পন্ন সয়েল ও ওয়াটার প্রোবায়োটিক ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ কররে কথা বলে শাহরিয়ার ইসলাম নয়ন। প্রোবায়োটিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধ করার পাশাপাশি পানিতে উপকারী ফাইটোপ্লাংকটন ও জুপ্লাংকটনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা গলদার প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে বলে জানান তিনি।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্ট্রেস কমানোর জন্য নিয়মিত মিনারেল মিক্সচার ও ভিটামিন সি ব্যবহারের পরামর্শ দেন শাহরিয়ার ইসলাম নয়ন। তার মতে, সুষম পুষ্টি গলদার সুস্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, SPF পোনা মজুদের আগে পুকুরের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি, নিয়মিত পানির গুণগত মান পরীক্ষা এবং কঠোর বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO), পিএইচ (pH) ও অ্যামোনিয়ার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে উৎপাদন ঝুঁকি কমে এবং বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া সম্ভব।
আস্থা ফিড লিমিটেডের এই কর্মকর্তা মনে করেন, দায় এড়িয়ে না গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে SPF গলদা চিংড়ি চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। একই সঙ্গে এ খাত দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।