ক্যাম্পাস ডেস্ক:হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে ‘প্রাণি চিকিৎসা ও প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞান’ অনুষদের ক্লিনিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের এর উদ্যোগে এবং নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি-এর (ভেটেরিনারি ডিভিশন) পৃষ্ঠপোষকতায় "সার্জিক্যাল কিট বক্স ডিস্ট্রিবিউশন সেরেমনি ২০২৬" অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সার্জিক্যাল কিট বক্স বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রাণি চিকিৎসা ও প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক ড. শারমিন সুলতানা রয়েল। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। এরপর স্পিকার হিসেবে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি-এর ডেপুটি ম্যানেজার (এসবিএমডি-ভেট) ড. মোঃ মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী একটি ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। প্রেজেন্টেশনে তিনি প্রাণী চিকিৎসায় তাদের কোম্পানির আধুনিক ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর ভূমিকা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা ও স্পনসরশিপ কার্যক্রমে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ নূরুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণার সুবিধার্থে হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আধুনিক ল্যাবরেটরি, ভেটেরিনারি হাসপাতাল এবং যাবতীয় রিসোর্স এক্সেস সবসময় তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন এই আয়োজনে আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি তার বক্তব্যে ভেটেরিনারি পেশার অপরিসীম গুরুত্ব ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মোজাম্মেল হক সার্জিক্যাল কিট বক্স বিতরণের মতো একটি সময়োপযোগী আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং স্পনসর প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান। হবু চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনের দ্বারে পৌঁছানোর এই বিশেষ মুহূর্তে অনুপ্রেরণা যোগাতে তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা কোনো বাণিজ্যিক বিষয় নয় বরং এটি একটি মহান সেবামূলক ব্রত। ব্যবসায়িক মানসিকতা দূরে রেখে নিজেদের কারিগরি দক্ষতা ও যোগ্যতাকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে একজন প্রকৃত মানবিক ও আদর্শ ডাক্তার হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
ক্লিনিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. মোঃ ইমরান হোসেনের সভাপতিত্বে সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই ধরনের মানসম্মত ব্যবহারিক সহযোগিতা তাদের দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান গঠনে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।