অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব, ডিন, ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। এটি শুধু একটি মাছ নয়; বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে ইলিশ গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ফলে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়া, বাজারে দাম বেড়ে যাওয়া কিংবা ইলিশ আমদানি করা হবে কি না এসব বিষয় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি করে। সম্প্রতি ইলিশ আমদানি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে এসেছে, আর নতুন করে ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না এবং ভারত থেকে আর ইলিশ বাংলাদেশে প্রবেশ করবে না। এ অবস্থায় প্রশ্ন হচ্ছে—ইলিশ আমদানি বন্ধ করাই কি আমাদের মূল সমাধান, নাকি এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন?
দেশে ইলিশের উৎপাদন বা প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য যদি ইলিশ আমদানির প্রয়োজন হয়, তাহলে ন্যায্য ও যৌক্তিক দাম নিশ্চিত করা গেলে আমদানিতে ক্ষতির কিছু দেখি না। বরং শুধু আমদানি বন্ধের দিকে নজর না দিয়ে এখন আরও বেশি জরুরি হলো কীভাবে দেশীয় ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ানো যায়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া। আমদানিকৃত ইলিশ তুলনামূলক কম দামে কিনে অনেক বেশি দামে “পদ্মা/মেঘনার ইলিশ” হিসেবে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা এবং ভোক্তার জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা আমদানি বন্ধ করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে দেশি ও আমদানি করা ইলিশের উৎস, পরিচয় ও বাজারজাতকরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
আমদানি বন্ধ নয়, মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত ইলিশ কমছে কেন?
ইলিশ নিয়ে আলোচনা শুধু “আমদানি বন্ধ” বা “আমদানি চালু” এই দুইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আমাদের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—দেশে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা কমছে কেন এবং কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই ইলিশ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সঠিক মজুত মূল্যায়ন, নদী ও পরিবেশের সুরক্ষা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা, মাছ ধরার চাপের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনার প্রতিটি সিদ্ধান্তকে নিয়মিত তথ্য ও গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করতে হবে।
ইলিশ সংরক্ষণ শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা বা নির্দিষ্ট এলাকায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। জেলেদের জীবিকা, মাছের প্রাপ্যতা, বাজারব্যবস্থা, নদীর পরিবেশ, সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ এবং ইলিশের প্রজনন ও মাইগ্রেশন সবকিছুকে বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। ইলিশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে আবেগের পাশাপাশি এখন প্রয়োজন আরও বেশি বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, নির্ভরযোগ্য তথ্য, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা।
ইলিশকে চাষযোগ্য মাছের মতো দেখলে চলবে না
ইলিশ যদি চাষযোগ্য মাছ হতো, তাহলে আমদানি বন্ধ করে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি সরাসরি প্রাসঙ্গিক হতো। কিন্তু ইলিশ মূলত একটি প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ। তাই এর উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ানোর জন্য শুধু মাছ ধরার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করলেই হবে না; ইলিশের ব্যবস্থাপনায় নদী, মোহনা, প্রজননক্ষেত্র, অভয়াশ্রম, বিচরণ ও মাইগ্রেশন পথ এবং মাছ ধরার কার্যক্রম সবকিছুকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। সমুদ্র থেকে মোহনা, মোহনা থেকে নদী, নদী থেকে প্রজননক্ষেত্র এবং সেখান থেকে নতুন প্রজন্মের আবার সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার পুরো জীবনচক্রকে বুঝেই ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা উচিত। এজন্য এখনই স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ইলিশের আবাসস্থল কতটা নিরাপদ?
ইলিশের অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্রের আশপাশে পানিদূষণ, অবৈধ ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার, নদীতে অতিরিক্ত পলি জমে ডুবোচর সৃষ্টি ও মাইগ্রেশন বাধাগ্রস্ত হওয়া, নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনজনিত আবাসস্থল নষ্ট হওয়া, সমুদ্র থেকে নদীতে প্রবেশমুখের আশপাশে কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের স্থান নির্ধারণ ও পরিচালনাজনিত কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ছে কি না, অতিরিক্ত আহরণসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করে দেখা দরকার।
কোনো একটি কারণকে দায়ী করার আগে প্রতিটি সম্ভাব্য কারণের প্রভাব পরিমাপ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নদীর পরিবেশ ও পানির গুণগত মান ইলিশের প্রজনন, বিচরণ ও মাইগ্রেশনের জন্য কতটা উপযোগী রয়েছে, সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা দরকার। নদীর গভীরতা, পানির প্রবাহ, লবণাক্ততা, দ্রবীভূত অক্সিজেন, তাপমাত্রা, পলি, খাদ্যজীব এবং অন্যান্য পরিবেশগত উপাদানের পরিবর্তনও নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা যেতে পারে। এ-সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি তথ্য ও উপাত্ত থাকলে ভবিষ্যতে মডেলিংয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ উৎপাদনসংক্রান্ত পূর্বাভাস ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গ্রহণ করা সহজ হবে।
ছোট আকারের ইলিশে আগাম পরিপক্বতা
সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক ছোট আকারের ইলিশে পরিপক্বতা বা ডিম আসার বিষয়টি অনেকের নজরে পড়ছে। যদি বড় ও পরিণত স্ত্রী ইলিশ দীর্ঘদিন ধরে বেশি মাত্রায় আহরণ করা হয় এবং ইলিশের প্রজননতায় বড় মাছের পরিমাণ কমে যায়, ফলে ইলিশের বংশ রক্ষার্থে তুলনামূলক কম বয়সে পরিপক্বতা অর্জনের কোনো প্রবণতা তৈরি হচ্ছে কি না এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং গবেষণার বিষয় হতে পারে। বিশেষ করে, যদি বড় ও পরিণত স্ত্রী ইলিশের সংখ্যা কমে গিয়ে তুলনামূলক ছোট বয়সে পরিপক্বতার প্রবণতা বাড়তে থাকে, তাহলে এর ফলে সামগ্রিক প্রজননক্ষমতা ও পরবর্তী প্রজন্মের সংযোজন (recruitment)-এর ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তবে ছোট আকারে পরিপক্বতার পেছনে অতিরিক্ত আহরণ ছাড়াও খাদ্যপ্রাপ্যতা, পরিবেশগত পরিবর্তন, বৃদ্ধির হার, তাপমাত্রা, জনসংখ্যাগত ও জিনগত বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বিষয়টি অনুমানের ভিত্তিতে নয়, দীর্ঘমেয়াদি তথ্য ও গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এখানে আরও একটি বিষয় বিবেচনার দাবি রাখে। সাধারণভাবে বড় ও পরিণত স্ত্রী মাছের প্রজননক্ষমতা এবং ডিমের পরিমাণ বেশি হতে পারে। ফলে জনতায় বড় ও পরিণত স্ত্রী ইলিশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে সামগ্রিক প্রজননক্ষমতার ওপর কী প্রভাব পড়ে, সেটিও গবেষণায় গুরুত্ব পাওয়া উচিত। কেননা, একটি পরিপক্ক আকারের ইলিশের ডিম বা পোনার তুলনায় একটি অপরিপক্ক মাছের ডিম বা পোনার টিকে থাকার প্রবণতা কম (less viable) হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তাই বিভিন্ন বয়স ও আকারের ইলিশের ডিমের গুণমান, লার্ভার বেঁচে থাকার হার এবং পরবর্তী প্রজন্মের সংযোজনের সঙ্গে এসব বৈশিষ্ট্যের সম্পর্কও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, ভারতের গুজরাট থেকে যে ইলিশ আমদানি হয়েছে, সেগুলো ডিমযুক্ত এবং আকারেও তুলনামূলক বড় বলে দেখা গেছে। এটি নিজেই কোনো বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের প্রমাণ নয়; তবে বাংলাদেশের ইলিশের বয়স, আকার, পরিপক্বতা ও প্রজনন কাঠামোর সঙ্গে অন্য অঞ্চলের ইলিশের তুলনামূলক গবেষণার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আনে।
সমুদ্রে ইলিশের ওপর মাছ ধরার চাপ কতটা?
ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ইলিশের ওপর বর্তমানে কতটা মাছ ধরার চাপ রয়েছে, অর্থাৎ সেখানে অতিরিক্ত আহরণ (overfishing) হচ্ছে কি না? সমুদ্র থেকে বড়, পরিণত বা সম্ভাব্য প্রজননক্ষম ইলিশ যদি অতিরিক্ত হারে আহরণ করা হয়, তাহলে পর্যাপ্ত পরিণত ইলিশ কি প্রজননের জন্য নদীতে প্রবেশ করতে পারছে কি না এই প্রশ্নটি অবশ্যই চিন্তা করতে হবে। জেলেরা নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাচ্ছেন না এই বিষয়টি সমুদ্রে অতিরিক্ত আহরণের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ জন্য শুধু মোট আহরণের পরিমাণ জানলেই হবে না। সমুদ্রে ইলিশের বয়স ও আকারভিত্তিক গঠন, প্রজননক্ষম মাছের অনুপাত, আহরণের হার, মাছ ধরার পরিমাণ (fishing effort), প্রজননক্ষম মজুত (spawning stock) এবং নদীতে ইলিশের প্রবেশের পরিমাণ এসব তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে। গবেষণায় যদি অতিরিক্ত আহরণের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশের ইলিশ কি বিকল্প প্রজননক্ষেত্র খুঁজে নিচ্ছে?
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো আমাদের নদীগুলোতে দূষণ, খাদ্যের অপর্যাপ্ততা, ডুবোচর গঠন, মোহনায় অতিরিক্ত আহরণ ইত্যাদি কারণে যদি ইলিশের প্রজনন ও মাইগ্রেশনের উপযুক্ত পরিবেশ ক্রমশ কমে যায়, তাহলে ইলিশের একটি বড় অংশ কি বিকল্প প্রজননক্ষেত্র হিসেবে ভারত বা মিয়ানমারের নদনদীতে চলে যাচ্ছে? এমন সম্ভাবনাকে একেবারে অসম্ভব বলা যায় না। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের পদ্মা-মেঘনার মা ইলিশের সঙ্গে মিয়ানমারের ইরাবতী ও ভারতের হুগলি নদীর মা ইলিশের জিন-কৌলিতাত্ত্বিক বা জিনগত সম্পর্ক রয়েছে। তবে প্রজননক্ষেত্রের পরিবর্তন ঘটছে এমন কোনো সিদ্ধান্ত অনুমানের ভিত্তিতে দেওয়া উচিত নয়। বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আধুনিক মজুত মূল্যায়ন, ট্যাগিং ও ট্র্যাকিং এবং জেনেটিক ও মলিকুলার গবেষণার মাধ্যমে ইলিশের বিভিন্ন মজুতের পারস্পরিক সম্পর্ক, বিচরণপথ এবং প্রজননক্ষেত্র পরিবর্তন সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
কৃত্রিম প্রজনন ও চাষের সম্ভাবনা নিয়েও গবেষণা দরকার
ইলিশ বিষয়ে আরেকটি বিষয়ের অবতারণা করতে চাই। বিশেষজ্ঞরা বিবেচনা করে দেখতে পারেন, এখন সময় এসেছে কি না ইলিশের কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে (পুকুর বা খাঁচায়) ইলিশ চাষের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু করার। ইলিশের জীবনচক্র, প্রজনন, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত চাহিদা অত্যন্ত জটিল হওয়ায় এটি সহজ কোনো কাজ নয়। তাই ইলিশকে বর্তমানে প্রচলিত চাষযোগ্য মাছের মতো ধরে নিয়ে দ্রুত বাণিজ্যিক চাষের কথা বলা বাস্তবসম্মত হবে না। বরং দীর্ঘমেয়াদি মৌলিক ও প্রয়োগভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে ইলিশের প্রজনন, ডিম ও লার্ভার বিকাশ, পোনা উৎপাদন, খাদ্যাভ্যাস, বৃদ্ধি, রোগপ্রতিরোধ, বেঁচে থাকার হার এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অভিযোজনের সম্ভাবনা ধাপে ধাপে অনুসন্ধান করা শুরু করতে হবে। প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের ওপর চাপ কমানোর দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প হিসেবে বিষয়টি নিয়ে এখন থেকেই প্রাথমিক গবেষণার সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে চাষযোগ্য ইলিশের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করার সময় সচেষ্ট থাকতে হবে কিভাবে এর স্বাদ ও গন্ধ অটুট রেখে তা করা যায়।
প্রয়োজন সমন্বিত গবেষণা ও জাতীয় উদ্যোগ
বিশেষ করে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জরুরি ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ে সমন্বিত জরিপ ও গবেষণা প্রয়োজন। ইলিশের উৎপাদন হ্রাসের কারণ নির্ণয়, মজুত মূল্যায়ন (stock assessment), প্রজনন ও মাইগ্রেশন পরিস্থিতি, বয়স ও আকারভিত্তিক গঠন, আহরণের চাপ এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে একটি সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক, জেলে প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক ও জাতীয় পর্যায়ের কর্মশালা আয়োজন করে ইলিশের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাব্য কারণ এবং ব্যবস্থাপনার ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করা যেতে পারে। এরপর বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। ইলিশের বর্তমান অবস্থা, গবেষণার ফলাফল এবং ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নিয়মিত পর্যালোচনার জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের ইলিশ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।
পরিশেষে বলতে চাই, এখন সময় এসেছে ইলিশ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আরও গভীরভাবে ও বড় পরিসরে দেখার। ইলিশের প্রাপ্যতা ও উৎপাদন কমছে কেন, ইলিশের জীবনচক্রের কোন পর্যায়ে বেশি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং কীভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও টেকসই ইলিশ মজুত নিশ্চিত করা যায় এই প্রশ্নগুলোর সমাধানই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের ইলিশ।