এগ্রিলাইফ প্রতিনিধি: যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় নারিশ ফিডস লিমিটেড এবং ইউএস গ্রেইনস অ্যান্ড বায়োপ্রোডাক্টস কাউন্সিল (USGBC)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘বেস্ট প্র্যাকটিসেস ফর পন্ড অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড ফিড ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক ৫ দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ৪র্থ দিন আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় একটি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপি এ প্রশিক্ষণে এলাকার প্রায় ১০০ জন মৎস্য চাষী, নারিশ ফিডস লিমিটেডের পরিবেশক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউএসজিবিসি (USGBC)-এর কনসালট্যান্ট ও আন্তর্জাতিক মৎস্য বিশেষজ্ঞ অং থোয়েন এ (অন্তু)। তিনি খাদ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের কৌশল তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, খাদ্য অপচয়ের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, তাই অপচয় রোধ করে সঠিক পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পুকুরের পানির গুণাগুণ, গভীরতা, pH, অক্সিজেন ও তাপমাত্রা সরেজমিনে পরীক্ষা করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মাঠ পর্যায়ে পানি ও মাটি পরীক্ষার বিভিন্ন কিট প্রদর্শন এবং এগুলোর কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করা হয়।

নারিশ ফিডস লিমিটেডের বিজনেস প্রোফাইল, মিশন ও ভিশন তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড সার্ভিস) ডা. মুহাম্মদ মুছা কালিমুল্লাহ। তিনি বলেন, দেশের মৎস্য খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে মানসম্মত ফিড এবং প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। টেকসই ও লাভজনক মৎস্য চাষ নিশ্চিত করতে নারিশ সবসময় খামারিদের পাশে রয়েছে।
ইউএসজিবিসি-এর বাংলাদেশ কনসালট্যান্ট মাহে আলম সরওয়ার জানান, মৎস্য চাষীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন করা এবং মাঠপর্যায়ে তা প্রয়োগে উৎসাহিত করাই এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।

নারিশ ফিডস লিমিটেডের এজিএম মো. ওবায়দুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র আরএসএম মো. রবিউল ইসলাম, রিজিওনাল ম্যানেজার ডা. আজহারুল ইসলাম, সিএসও ডা. আশিকুর রহমান, এসপিও মির্জা রাকিবুল হাসান এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার নাইমুল হাসান। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে মাহমুদ এন্টারপ্রাইজের মাওলানা মো. হাতেম আলী ও মাহমুদ হাসান, বিশিষ্ট মৎস্য খামারি জনাব মোছলেম বিশ্বাস, রানী এন্টারপ্রাইজের মো. শফিউদ্দিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খাদ্য অপচয় কমিয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং মৎস্য খাতের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা