এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:কানাডার আলবার্টা প্রদেশের এডমন্টন শহরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘সাস্টিয়ান সোসাইটি’র উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা। গত ১৫ আগস্ট স্থানীয় রান্ডেল পার্কের রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে এই আনন্দঘন উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে এডমন্টন শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা (সাস্টিয়ান) সপরিবারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মূল অনুষ্ঠানটি বিকেল বেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, সকাল থেকেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পার্কে সমবেত হতে থাকেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত ও নতুন মুখগুলোর মধ্যে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে শুরু হয় প্রাণবন্ত আড্ডা। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝে সবাই মেতে ওঠেন প্রিয় ক্যাম্পাসের সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণে।
আড্ডা ও আনন্দের পাশাপাশি মিলনমেলায় গুরুত্ব পায় কানাডার জীবনযাত্রা, আইন-কানুন এবং ক্যারিয়ার গঠনের মতো বিষয়গুলো। কানাডায় সদ্য আগত নতুন সাস্টিয়ানদের প্রবাস জীবনে মানিয়ে নেওয়া এবং ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন সিনিয়র এবং প্রতিষ্ঠিত সাস্টিয়ানরা।
দুপুরের খাবারে প্রবাসের মাটিতে আয়োজন করা হয় খাঁটি বাঙালি ভোজের। মেন্যুতে ছিল সুগন্ধি পোলাও, চিকেন রোস্ট, খাসির রেজালা, সালাদ এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি দই। বিদেশের মাটিতে দেশীয় খাবারের এই সুবাস ও স্বাদ উপস্থিত সবার মাঝে এক টুকরো বাংলাদেশের অনুভূতি এনে দেয়।
বিকেলের সেশনে অনুষ্ঠানকে আরও জমকালো করতে আয়োজন করা হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং সবার কাঙ্ক্ষিত র্যাফেল ড্র। প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নানামুখী অংশগ্রহণ পুরো পার্কের পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলে।
প্রথমবারের এই মিলনমেলা সফল করতে মূল তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন জামিল আহমেদ, মোহাম্মদ রাশিদ তাহের, ফয়েজ আহমেদ, ফাহিমিদা খানম উর্মি, জুলফিকার রাসেল, রাব্বানী রাসেল, আজিজুল হক, সাইফুল ইসলাম, সাদমান আবসার চৌধুরী, নুজহাত আনজুম, গৌরব কুমার সেন, আমিনুল হাসান এবং তাসলিমা সুলতানাসহ অন্যান্য সাস্টিয়ানরা।
দিনব্যাপী এই উৎসবের শেষাংশে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এবং র্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন উপস্থিত সিনিয়র সাস্টিয়ানরা। আয়োজকদের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আগামী বছরগুলোতে আরও বড় পরিসরে এবং ব্যাপক আয়োজনে এই মিলনমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রবাসে থাকা শাবিপ্রবির এই প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ঘরে ফেরেন।