এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:যশোরে ফসলি জমির মধ্যে খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কৃষি জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু স্মার্ট ও রিজেনারেটিভ কৃষির প্রসারে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত এলাকায় সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন জেলা সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সনেট সভাকক্ষে জেলা সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়মিত সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) মো. রফিকুল হাসানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় SAFAL for Integrated Water Resource Management (IWRM) প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার যশোর ম্যানেজার-রিজেনারেটিভ কৃষিবিদ ড. নাজমুন নাহার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার-মাইক্রো ওয়াটারশেড গভর্ণন্যান্স কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস।
সভাপতির বক্তব্যে মো. রফিকুল হাসান বলেন, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফসলি জমির মধ্যে খাল খনন ও পুনঃখনন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পুনঃখনন করা খালের ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে এবং প্রয়োজনের সময় কৃষি জমিতে সেচের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি খালগুলোতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে সামাজিকভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি খাল থেকে অবৈধ নেট-পাটা, চায়না জাল ও কচুরিপানা অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ মোঃ রুবেল আলী, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সমরেন বিশ্বাস, বিআরডিবির উপ-প্রকল্প পরিচালক প্রকাশ চন্দ্র সরকার, ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সিনিয়র অফিসার (মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন) বিপ্লব কুমার সাহা, প্রোগ্রাম অফিসার কৃষিবিদ রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী ও কৃষিবিদ শেখ মনিরুল ইসলাম, ওয়াটার ক্লাস্টার অফিসার কৃষিবিদ তাহিরা ইসলাম মুনিয়া, সুকুমার বিশ্বাস, রাজিনুর রহমানসহ মাইক্রো- ওয়াটারসেড সংশ্লিষ্ট কৃষক প্রতিনিধিগন।
মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মনিরুল মামুন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মো. আবুল হাসান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান সানা আব্দুল মান্নান এবং মাইক্রো-ওয়াটারশেড কমিটির প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম ফরাজী ও মো. জালাল উদ্দিন।
আলোচকরা খাল খনন ও পুনঃখননের পাশাপাশি ক্লাইমেট স্মার্ট ও রিজেনারেটিভ কৃষির প্রসার এবং খননকৃত খালের টেকসই পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়িত কার্যক্রম আরও বেশি উপজেলায় সম্প্রসারণে দাতা সংস্থা রাজকীয় নেদারল্যান্ডস্ দুতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উল্লেখ্য, SAFAL for IWRM প্রকল্পের আওতায় খুলনা-যশোরের প্রকল্পভুক্ত উপজেলায় এ পর্যন্ত ৯২টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছে। এসব খাল পুনরুদ্ধারের ফলে কৃষি জমির পানি নিষ্কাশন, সেচ সুবিধা এবং স্থানীয় পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে।