এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: আধুনিক কৃষির সম্ভাবনা, প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবন এবং কৃষি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে জমে উঠেছে তিন দিনব্যাপী ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬। রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় আয়োজিত এ মেলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার দর্শনার্থী, কৃষি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, কৃষি সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পদচারণায় ছিল বেশ মুখরিত। মেলার বিভিন্ন স্টলে আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত প্রযুক্তি, কৃষি উপকরণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতি দেখতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, পণ্যের কার্যকারিতা যাচাই এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কৃষি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি মেলায় বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শুরু হওয়া এ আন্তর্জাতিক মেলার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
মেলার দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখা যায়, কৃষির প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও বাণিজ্যিক কৃষির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, ফসল উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা নিজেদের ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়, পণ্যের গুণগত মান যাচাই এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করছেন তারা।
মেলায় আগত দর্শনার্থী ও উদ্যোক্তাদের অনুভূতিতে উঠে এসেছে, কৃষি প্রযুক্তির এমন আন্তর্জাতিক আয়োজন দেশের কৃষি খাতের জন্য সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। এক জায়গায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানার সুযোগ নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক। বিশেষ করে যারা কৃষিভিত্তিক নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান কিংবা বিদ্যমান কৃষি উদ্যোগকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করতে চান, তাদের জন্য এ মেলা নতুন ধারণা, প্রযুক্তি নির্বাচন এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের কৃষিকে শুধু উৎপাদননির্ভর না রেখে আধুনিক যান্ত্রিকীকরণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ, কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষি ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ার্স অ্যান্ড এক্সিবিশনসের যৌথ উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী ১২টি দেশের প্রায় ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের ৫৩টি স্টলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণসহ কৃষি খাতের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও সমাধান তুলে ধরা হচ্ছে।
আগামীকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) মেলার শেষ দিন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, শেষ দিনে দর্শনার্থী, কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষি ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। এবারের মেলা থেকে কৃষি উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবমুখী ব্যবসায়িক ধারণা, নতুন প্রযুক্তি এবং কার্যকর অংশীদারত্বের সুযোগ পাবে বলে আশাবাদী আয়োজকরা।
সামগ্রিকভাবে ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬ কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; বরং বাংলাদেশের কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, বাণিজ্যিক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কৃষি উদ্যোক্তাদের বিকাশ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজনকে আরও সম্প্রসারণ ও উৎসাহিত করতে সরকারের নীতিগত সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা এবং কার্যকর উদ্যোগ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।