কৃষিবিদ মোছা: ফরিদা ইয়াছমিন:কৃষিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী দেশে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। যেসব কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়, সেগুলোর দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী বিভাগের আম, লিচু, আদা, কাঁচামরিচ টমেটো চাষি এবং কৃষি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় তিনি কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনেন এবং কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
এছাড়া মন্ত্রী আরো বলেন, রাজশাহী অঞ্চল কৃষি ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। এ অঞ্চলে কৃষির সম্ভাবনা আরও কাজে লাগাতে আমবাগানের গাছের মধ্যবর্তী অব্যবহৃত জায়গায় আধুনিক পদ্ধতিতে আদা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আদা চাষে প্রকৃত আগ্রহী কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে বীজ, সার ও বস্তাসহ প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি তুলার সঙ্গে আদা ও হলুদ চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উৎসাহিত করেন তিনি।
বর্ষাকালীন টমেটো ও কাঁচামরিচের উৎপাদন বাড়াতে গ্রাফটিং প্রযুক্তি ও পলিশেড ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ, পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কৃষক উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত দাম পান। রাজশাহী অঞ্চলের আম ও লিচু সংরক্ষণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আমের পচনশীলতা কমিয়ে সংরক্ষণকাল বাড়াতে বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আম ৪৫ দিন এবং পরবর্তী পর্যায়ে ৯০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আমের পাশাপাশি লিচুর সংরক্ষণকাল বাড়ানো এবং শুকনো আমসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষিপণ্য আমদানির পরিবর্তে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে বাংলাদেশকে কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য। সভায় মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ভার্মিকম্পোস্টসহ জৈবসারের ব্যবহার বাড়ানো, অনুমোদিত বালাইনাশকের সীমিত ও প্রয়োজনভিত্তিক প্রয়োগ, পরিপক্ব অবস্থায় তুলা সংগ্রহ এবং সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।