Monday, August 17, 2026

কৃষিতে যুবশক্তি : নতুন সম্ভাবনা

16, Aug 2026 | গবেষণা ও ফিচার

সমীরণ বিশ্বাসবাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক ঐতিহাসিক। কিন্তু কৃষি এখন আর কেবল লাঙল-জোয়াল, শ্রমনির্ভর উৎপাদন কিংবা পারিবারিক জীবিকার নাম নয়। প্রযুক্তি, বাজার, তথ্য, যন্ত্রপাতি, জলবায়ু পরিবর্তন, সরবরাহশৃঙ্খল ও ভোক্তার পরিবর্তিত চাহিদা, সব মিলিয়ে বাংলাদেশের কৃষি দ্রুত একটি নতুন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে পারে দেশের যুবসমাজ। আজকের প্রশ্ন তাই শুধু, কৃষিতে কতজন যুবক কাজ করবে? বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, কৃষিকে কীভাবে এমন একটি আধুনিক, মর্যাদাপূর্ণ ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করা যায়, যেখানে একজন শিক্ষিত যুবক চাকরি খোঁজার পরিবর্তে নিজেই কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে আগ্রহী হবে ? এই প্রশ্নের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বর্তমান শ্রমবাজারের বাস্তবতায়। আইএমএফের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষিতে কর্মসংস্থানের অংশ বেড়েছে, অথচ কৃষির মূল্য সংযোজনের অংশ কমেছে। যুবকদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও তীব্র, তাদের কর্মসংস্থান কৃষির দিকে বেশি সরে গেছে, কিন্তু উচ্চ উৎপাদনশীল শিল্প ও সেবা খাতে সেই হারে কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। অর্থাৎ কৃষি এখনো বিপুল শ্রমশক্তির আশ্রয়স্থল হলেও উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখানেই যুবসমাজের অংশগ্রহণকে নতুনভাবে ভাবতে হবে। কৃষিতে যুব সমাজের অংশগ্রহণ: কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির নতুন সম্ভাবনা।

কৃষি ‘পেশা’ নয়, ‘ব্যবসা’ : বাংলাদেশের বহু তরুণ এখনো কৃষিকে বাবা-মায়ের পেশা হিসেবে দেখে; নিজের ভবিষ্যৎ পেশা হিসেবে নয়। এর পেছনে রয়েছে কৃষির অনিশ্চিত আয়, জমির খণ্ডায়ন, বাজারদরের ওঠানামা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক মর্যাদার প্রশ্ন। কিন্তু আধুনিক কৃষি এই ধারণাকে বদলে দিতে পারে। একজন যুবক নিজে জমি চাষ না করেও কৃষি উদ্যোক্তা হতে পারেন। তিনি হতে পারেন কৃষিযন্ত্রের সেবা প্রদানকারী, ড্রোন অপারেটর, মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষক, কৃষি-ডিজিটাল সেবাদাতা, নার্সারি উদ্যোক্তা, নিরাপদ কৃষি উৎপাদনকারী, কৃষিপণ্য সংগ্রাহক, কোল্ড-চেইন উদ্যোক্তা, কৃষিপণ্য অনলাইন বিপণনকারী কিংবা কৃষক ও বাজারের মধ্যে সংযোগকারী। অর্থাৎ কৃষিতে কর্মসংস্থান মানেই শুধু কৃষক হওয়া নয়। কৃষিকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই হতে পারে আগামী দিনের লক্ষ্য।

বাংলাদেশে এর বাস্তব উদাহরণও তৈরি হচ্ছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তরুণ উদ্যোক্তারা জমি লিজ নিয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের ফসল ও ফল উৎপাদন এবং চারা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগ প্রমাণ করে, যুবকের হাতে প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা জ্ঞান ও ব্যবসায়িক চিন্তা যুক্ত হলে কৃষি নতুন রূপ নিতে পারে।

চাকরি নয়, কৃষিতে উদ্যোক্তা : বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। সবার জন্য প্রচলিত চাকরি তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি এখন জাতীয় অর্থনীতির অপরিহার্য কৌশল। সরকারও বিষয়টির গুরুত্ব স্বীকার করেছে। ২০২৫ সালে জাতীয় যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন নীতিমালা প্রণীত হয়েছে এবং ২০২৬ সালে এর জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষিতে যুব উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণ উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণের বাইরে গিয়ে ‘Agri-Entrepreneurship’ বা কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়নের জন্য আলাদা কাঠামো প্রয়োজন। একজন তরুণকে শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই উদ্যোক্তা তৈরি হয় না। তাকে প্রয়োজন, প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ; ব্যবসা পরিকল্পনা প্রণয়নের দক্ষতা; সহজ শর্তে অর্থায়ন; মানসম্মত কৃষি উপকরণ; বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ; কৃষি পরামর্শ ও মেন্টরশিপ; ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম; বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা; সরকারি-বেসরকারি সহায়তার সমন্বয়। বাংলাদেশের যুব উদ্যোক্তাদের বিষয়ে CGIAR-এর গবেষণাতেও দক্ষতা, ঋণ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও বাজারে প্রবেশাধিকারের ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অতএব, শুধু ‘প্রশিক্ষণ প্রকল্প’ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না; প্রশিক্ষণ থেকে ব্যবসা পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ পথ তৈরি করতে হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও যুবসমাজ: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে কৃষিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে Artificial Intelligence বা AI, Internet of Things বা IoT, ড্রোন, রোবটিক্স, স্যাটেলাইট ডেটা, ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস ও বিগ ডেটার ব্যবহারে। একজন কৃষক হয়তো সব প্রযুক্তি নিজে পরিচালনা করবেন না। কিন্তু গ্রামের একজন প্রশিক্ষিত যুবক সেই প্রযুক্তির সেবা দিয়ে একসঙ্গে শত শত কৃষককে সহায়তা করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন যুব উদ্যোক্তা একটি উপজেলায় ‘Agri Service Centre’ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। সেখানে থাকতে পারে,  মাটি পরীক্ষা , আবহাওয়া তথ্য , রোগ-পোকা শনাক্তকরণ , ড্রোন সেবা , কৃষিযন্ত্র ভাড়া , কৃষি পরামর্শ , উপকরণ সরবরাহ , উৎপাদন ব্যবস্থাপনা , বাজার সংযোগ। এ ধরনের সেবা কেন্দ্র কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে পারে, সময় বাঁচাতে পারে এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সহজ করতে পারে। একই সঙ্গে একজন তরুণের জন্য তৈরি করতে পারে টেকসই ব্যবসার সুযোগ। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রেও একই সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য যন্ত্রের উচ্চমূল্য, খণ্ডিত জমি, কাস্টম-হায়ারিং সেবার সীমাবদ্ধতা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতিকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সমাধানে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি কৃষকের যন্ত্র কেনার প্রয়োজন নেই। বরং যুব উদ্যোক্তারা ‘Machinery-as-a-Service’ মডেলে ট্রাক্টর, রিপার, হারভেস্টার, পাওয়ার স্প্রেয়ার কিংবা ড্রোন ভাড়ায় দিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। এতে কৃষকের মূলধন ব্যয় কমবে, আর যুবকের জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

কৃষি-ভ্যালু চেইন : কৃষিতে লাভের বড় অংশ শুধু উৎপাদনে নেই। উৎপাদনের পর সংগ্রহ, বাছাই, গ্রেডিং, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণেও বিপুল মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের যুবসমাজ এই জায়গায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একজন তরুণ উদ্যোক্তা গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে নিরাপদ সবজি সংগ্রহ করে শহরের সুপারশপ, রেস্তোরাঁ, অনলাইন গ্রোসারি কিংবা প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করতে পারেন। অন্য একজন ফলের পাল্প, শুকনো সবজি, মসলা, আচার বা অন্যান্য কৃষিভিত্তিক খাদ্যপণ্য তৈরি করতে পারেন। এভাবে কৃষি হয়ে উঠতে পারে Farm-to-Market এবং Farm-to-Consumer ব্যবসার ভিত্তি। এর জন্য কৃষককে শুধু উৎপাদক হিসেবে নয়, একটি বৃহত্তর বাজার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

নারীর অংশগ্রহণ: কৃষিতে যুবসমাজ বলতে শুধু তরুণ পুরুষকে বোঝালে চলবে না। বাংলাদেশের তরুণ নারীদের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে যুক্ত করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। নার্সারি, মাশরুম, ছাদবাগান, নিরাপদ সবজি, হাঁস-মুরগি, মাছ, দুগ্ধ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অনলাইন বিক্রয়, ডিজিটাল কৃষি পরামর্শ, এসব ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবেও যুব কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়নে নারী অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশে চলমান Better Life Farming উদ্যোগ ১,০০০-এর বেশি কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে, যার অন্তত ২০ শতাংশ নারী হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রয়োজন: কী করতে হবে ? প্রথমত, জাতীয় কৃষি যুব উদ্যোক্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। কৃষি মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, এনজিও ও বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে একই প্ল্যাটফর্মে আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের নিয়ে Agri Youth Innovation Hub গড়ে তোলা যেতে পারে। তৃতীয়ত, কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ঋণ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। শুধু ঋণ দিলেই হবে না; ব্যবসা শুরু থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত মেন্টরশিপ দিতে হবে। চতুর্থত, সরকারি প্রশিক্ষণকে আরও বাজারমুখী করতে হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে স্ব-কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে; কৃষির নতুন প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক মডেলগুলোকেও সেই ধারায় আরও শক্তিশালীভাবে যুক্ত করা দরকার। পঞ্চমত, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির ইনকিউবেটর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ষষ্ঠত, কৃষিতে ব্যর্থতার ঝুঁকি কমাতে ফসল বীমা, আবহাওয়া-ভিত্তিক সতর্কতা, ডিজিটাল কৃষি পরামর্শ ও বাজার তথ্যকে উদ্যোক্তা সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

রাষ্ট্রে ও বেসরকারি খাত:  কৃষিতে যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টির দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, এনজিও, কৃষি উপকরণ কোম্পানি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে অংশীদার করতে হবে। সরকার দিতে পারে নীতি, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও প্রণোদনা; বেসরকারি খাত দিতে পারে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, বাজার ও ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা। অর্থাৎ Public-Private Partnership বা PPP মডেল কৃষিতে যুব কর্মসংস্থানের একটি কার্যকর পথ হতে পারে।

কৃষি মর্যাদার পেশা: সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসতে হবে সামাজিক মানসিকতায়। ‘চাকরি না পেয়ে কৃষি’, এই ধারণা বদলে ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিতে ব্যবসা’, এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একজন তরুণ যদি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা করে বছরে কয়েক লাখ টাকা আয় করতে পারেন, পাঁচজনকে চাকরি দিতে পারেন এবং স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন, তাহলে তিনি কেবল কৃষক নন, তিনি একজন কৃষি উদ্যোক্তা। আর একজন ড্রোন অপারেটর, মাটি পরীক্ষক, কৃষিযন্ত্র সেবা প্রদানকারী বা ডিজিটাল কৃষি পরামর্শক যদি শত শত কৃষকের সেবা দিয়ে নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করেন, তাহলে তিনিও আধুনিক কৃষির উদ্যোক্তা।

বাংলাদেশের কৃষির ভবিষ্যৎ শুধু আরও বেশি উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতের কৃষি হবে জ্ঞাননির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর, বাজারনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল এবং উদ্যোক্তানির্ভর। এই রূপান্তরের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত শক্তি হতে পারে দেশের যুবসমাজ। কারণ তাদের আছে প্রযুক্তি গ্রহণের সক্ষমতা, নতুন কিছু করার আগ্রহ, ডিজিটাল দক্ষতা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। তবে যুবকদের কৃষিতে আনতে হলে শুধু বলা যাবে না, ‘কৃষিতে আসুন’। তাদের সামনে বাস্তব ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজন জমি থেকে বাজার, প্রযুক্তি থেকে অর্থায়ন এবং প্রশিক্ষণ থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার পূর্ণাঙ্গ সেতুবন্ধন। আজ যদি আমরা কৃষিকে যুবসমাজের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে এর সুফল শুধু কৃষিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, বেকারত্ব কমবে, কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, কৃষিপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল আধুনিক হবে এবং দেশের খাদ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। তাই সময় এসেছে কৃষিকে শুধু ‘জীবিকার খাত’ হিসেবে নয়, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য ‘ভবিষ্যতের ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের খাত’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার। এটাই হতে পারে আধুনিক বাংলাদেশের কৃষি রূপান্তরের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।

লেখক: সমীরণ বিশ্বাস, কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ , ঢাকা।

Agrilife24 Logo

Agriculturist Md. Shafiul Azam, Editor & CEO
Dhaka Office: 141/4, Lake Circus, Kalabagan, Dhanmondi, Dhaka-1205.
Bogura Office: Hakim Son's House, Seujgari, Bogura-5800.
Email: info@agrilife24.com, editor@agrilife24.com, news@agrilife24.com
Contact: +880 2-48112812, Whatsapp: +880 1912-837-999

Social Share

© Agrilife24 . All Rights Reserved. Developed by Innovative Soft