এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র কৃষকদের সক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে সার্ক কৃষি কেন্দ্র, বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভার্চুয়ালি এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কৃষি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কৃষির অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি পদ্ধতি, প্রযুক্তি ও কৌশল সম্প্রসারণ করা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
উদ্বোধনী অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা) ড. রাজা উল্লাহ খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. গোলাম মাহবুব। তিনি কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নূতন কৌশিক। তাঁর প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল “দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-স্মার্ট কৃষির সম্প্রসারণ: ক্ষুদ্র কৃষকদের সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর”। তিনি ক্ষুদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ কৃষক জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জলবায়ু-স্মার্ট কৃষির সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসির) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালে অবস্থিত সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমদ তরফদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময় জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, ক্ষুদ্র কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সহনশীল কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে কারিগরি অধিবেশন, বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপনা এবং আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠিত হবে।